June 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

তেলে সয়লাব কর্ণফুলী, দায়ী রেলওয়ে?

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : প্রায় ৫০ হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়েছে কর্ণফুলী নদী ও সংযুক্ত খালবিল এলাকায়। বোয়ালখালীতে রেলের সেতু ধসে খালে পড়ে যাওয়া তেলবাহী ওয়াগন দুটি এখনো উদ্ধার করতে পারেনি রেলওয়ে। আর দুদিন আগের এই দুর্ঘটনা রেল কর্তৃপক্ষের গাফিলতির কারণেই ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর।

রেলসূত্র জানায়, পানিতে পড়া ওয়াগন দুটিতে ৪৯ হাজার ৯শ’ ৭০ লিটার ফার্নেস অয়েল ছিলো। আর কাত হয়ে যাওয়া ওয়াগনে রয়েছে ২৪ হাজার ৯শ’ ৮৫ লিটার। শুক্রবারের দুর্ঘটনার পর তেলবাহী ৫টি ওয়াগন ঘটনাস্থল থেকে চট্টগ্রাম স্টেশনে নিয়ে যায় রেলের রিলিফ ট্রেন। কিন্ত খালে পড়ে যাওয়া দুটি ও কাত হয়ে থাকা আরেকটি ওয়াগন তুলে আনার কোন ব্যবস্থা রেলওয়ে নিতে পারেনি। দুর্ঘনার কারণে রেল চলাচল বন্ধ থাকা খুব সামান্য অঘটন, কারণ হাজার হাজার লিটার ফার্নেস অয়েল এলাকার খালবিল ও কর্ণফুলী নদীকে মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে ফেলেছে এরই মধ্যে। এমন দুর্ঘটনায় পানিতে ভাসমান তেল তুলে আনার কোন প্রযুক্তি জানা নেই পরিবেশ অধিদপ্তরের। সনাতনি কায়দায় নেটজাতীয় কাপড় দিয়ে তুলে আনার চেষ্টা করছে এলাকার মানুষ।

তেলবাহী রেলগাড়িটিতে মোট আটটি ওয়াগন ছিলো। শুক্রবার দুপুর বারোটার দিকে চট্টগ্রাম স্টেশন থেকে তেলবাহী রেলগাড়িটি দোহাজারী স্টেশনের উদ্দেশে রওয়ানা হয়। দোহাজারী ১০০ মেগাওয়াট পিকিং পাওয়ার প্ল্যান্টে নেয়া হচ্ছিলো এই ফার্নেস অয়েল। দুপুর দেড়টায় দিকে ধলঘাট ২৪ নাম্বার সেতু ভেঙ্গে পড়লে রেলের ইঞ্জিন ও তেলের তিনটি ওয়াগন পড়ে যায়।

পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রকৌশল বিভাগে খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, কোটি কোটি টাকা খরচ করে এই রেলপথ সংস্কার করা হলেও ২৪ নাম্বার সেতুটির কোন মেরামত হয়নি। দীর্ঘদিন সংস্কারবিহীন থাকলেও অজ্ঞাত কারণে দেড়শ কোটি টাকার লাইন সংস্কার প্রকল্পে সেতুটি রাখা হয়নি। আর এ কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন প্রকৌশলীরা। তবে রেলের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ছিলো না। আর ফার্নেস অয়েলের কারণে পরিবেশ বিপর্যয়ের আশংকাও মানতে নারাজ রেলের জিএম/পূর্ব। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় প্রধানের বক্তব্যকে খণ্ডন করে বলেছেন, কর্ণফুলীতে যে পরিবেশগত বিপর্যয় ঘটবে, তা গোটা চট্টগ্রামের পরিবেশকেই হুমকির মুখে ফেলবে।

পরিবেশে এই তেল বিপর্যয় থেকে কীভাবে মুক্তি মিলবে, সে প্রশ্ন আপাতত গৌণ হয়ে আছে রেলের উদ্ধার কাজ কবে শেষ হবে, সেই প্রশ্নের কাছে। তারও কোন সদুত্তর দিতে পারেননি রেলের কর্তারা। তবে কমপক্ষে তিন থেকে চারদিন লাগবে, এমনই আভাস দিয়েছেন বিভাগীয় রেলওয়ে ম্যানেজার/চট্টগ্রাম মফিজুর রহমান।

দুর্ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে, এতে প্রধান করা হয়েছে পূর্বাঞ্চল রেলওয়ের প্রধান যান্ত্রিক প্রকৌশলী হারুণ অর রশীদকে।