October 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বিশ্ব বাবা দিবস আজ

ডেস্ক প্রতিবেদন : মানুষ বয়সে যত বড়ই হোক বাবার কাছে সে থাকে সেই ছোট্ট শিশুটিই । মাতৃগর্ভ থেকে সন্তান ভূমিষ্ট হওয়ার পর প্রথমবারের মতো বাবা যখন সন্তানের মুখ দেখেন কিংবা কোলে তুলে নেন, সেদিনের সেই অনুভুতি অতুলনীয়, যা আজীবন বাবার হৃদয়ে অবশিষ্ট থাকে।

বিশ্ব বাবা দিবস আজ। ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেন।

কোনো বাবা সন্তানের কাছে বন্ধুর মতো, কেউ-বা পথপ্রদর্শক। এ দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখতে অনেকেই বাবাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাবেন। দেবেন নানা উপহার কার্ড, মগ কিংবা প্রিয় পোশাক। কেউ কেউ হয়ত বাবাকে নিয়ে বেড়াতে যাবেন, খাবেন ভালো কোনো রেস্টুরেন্টে। অন্যদিকে যাদের বাবা বেঁচে নেই, তারা হয়তো আকাশে তাকিয়ে অলক্ষ্যে বাবার স্মৃতি খঁজে বেড়াবেন।

বাবা তার দায়িত্ব ও পিতৃত্বসূলভ আচরণ তার জীবনের শেষদিন পর্যন্ত বহাল রাখতে চান। সময়ের পরিবর্তনে বাবাও একদিন সন্তাননির্ভর হয়ে পড়ে, কিন্তু বাবা সব সময়ই বাবা। সন্তানের প্রতি বাবার দায়িত্ববোধ এবং ভালোবাসা বাবাকে দিয়েছে মহতের স্থান।

বাবার তুলনা চলে বটগাছের সাথে । যিনি শত-সহস্র ঝড়-ঝাঞ্ঝা নিরবে সহ্য করতে রাজি, কিন্তু তার সন্তানদের প্রতি অতি ক্ষুদ্র আঘাত কিংবা কষ্টের ছিটেফোঁটা লাগাতেও নারাজ । দাম্পত্যের সূখ জলাঞ্জলি দিয়ে অনেক বাবা তার সন্তানদের ভালো রাখতে নিরলস পরিশ্রম করেন । নিজের শরীর আবৃত কিনা সেদিকে তার সামান্যতম খেয়াল নেই। কিন্তু সন্তানের শরীর উন্নত ও দামি পোশাকে মুড়িয়ে রাখতে সদা ব্যস্ত । নিজে না খেয়ে ভাগের সকল খাদ্য ছেলে-মেয়ের পাতে তুলে দিতে যিনি এতটুকু কার্পণ্য দেখাননি কোনদিন তিনিই-বাবা । জীবন-যৌবনের সকল সূখ-শান্তি ত্যাগ করে শুধু সন্তানদের ভবিষ্যত তৈরি করতে যিনি সকাল থেকে রাত আবার রাত থেকে সকাল পর্যন্ত খেটে যান তিনিই শ্রদ্ধেয় বাবা । শরীরের রক্ত পানি করে বাবা তার সন্তানের জন্য উজ্জ্বল ভবিষ্যত এঁকে দিয়ে যান । বাবা ত্যাগের দর্শন গ্রহণ করে সন্তানকে ভোগের নিশ্চয়তা দিতে সদা বদ্ধপরিকর ।

বাবা দিবসের প্রচলন বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই। প্রতি বছর বিশ্বের প্রায় ৭৪টি দেশে বাবা দিবস পালিত হয়। ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯০৮ সালে প্রথম বাবা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে ৫ জুলাই এই দিবস পালন করা হয়। মিসেস গ্রেস গোল্ডেন ক্লেটনের উদ্যোগেই মা দিবসের আদলে দিবসটি পালিত হয়। ১৯০৭ সালের ১টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ২১০ জন বাবার স্মৃতির উদ্যোগে সেবারের দিবস। তবে তা নিয়মিত হয়নি।

তার ২ বছর পর ১৯১০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনোরা স্মার্ট ডট নতুন পরিসরে বাবা দিবস পালন করে। সেনোরাকেই বাবা দিবসের উদ্যোক্তা মনে করা হয়। ১৯৬৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তত্কালীন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি জনসন জুন মাসের তৃতীয় রবিবারকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাবা দিবস হিসেবে নির্ধারণ করেন। ১৯৭২ সালে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন প্রতিবছর জাতীয়ভাবে বাবা দিবস পালনের রীতি চালু করেন।