September 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

২৯ উপজেলায় সমভোট : বিজয়ী ঘোষণায় বিপাকে ইসি

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক : সদ্য সমাপ্ত উপজেলার সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে নির্বাচনে ৪৭০ উপজেলার মধ্যে ২১ জেলার ২৯ উপজেলাতেই প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর মধ্যে সমান সংখ্যক ভোট পড়েছে। আর এ কারণে এসব উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী কাউকে বিজয়ী ঘোষণা করতে পারেনি রিটার্নিং অফিসাররা।

গত ১৫ জুন অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের মধ্যে সমভোট পড়ে।

নির্বাচন কমিশনে (ইসি) রিটার্নিং অফিসারদের পাঠানো তালিকা পর্যালোচনা করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব উপজেলায় কবে নাগাদ পুনঃভোট নেওয়া হবে তা কমিশনের মতামতের জন্য নথি উত্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

ইসি কর্মকর্তারা জানায়, গত ১৩ মে প্রথম বারের মত ৪৭৮ উপজেলায় সংরক্ষিত মহিলাদের জন্য সদস্য পদপূরণের লক্ষ্যে তফসিল ঘোষণা করা হয়। সীমানা ত্রুটির কারণে ৭টি উপজেলায় শুরুতে নির্বাচন স্থগিত হয়। আর ভোটগ্রহণের দিনে নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগে হবিগঞ্জ উপজেলায় একটি নির্বাচন স্থগিত করা হয়।

নির্বাচন হওয়া ৪৭০ উপজেলার মধ্যে ২৯টিতে নির্বাচনী এলাকায় সংরক্ষিত মহিলাদের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রাথীরা সমভোট পেয়েছেন। আইন অনুযায়ী এসব উপজেলাতে পুনঃনির্বাচন করতে হবে কমিশনকে।

সমান পরিমাণ ভোট পড়া উপজেলাগুলো হচ্ছে- সাতক্ষীরার তালা উপজেলা, টাংগাইলের কালিহাতি, দিনাজপুরের হাকিমপুর ও খানসামা, কিশোরগঞ্জের ইটনা, খাগড়াছড়ির দিঘিনালা, রংপুরের সদর উপজেলা ও গঙ্গাচড়া, কক্সবাজারের রামু, কুমিল্লার বরুড়া ও দাউদকান্দি, মেহেরপুরের গাংনী, বগুড়ার শিবগঞ্জ, চুয়াডাংঙ্গার আলমডাঙ্গা, নওগাঁর মহাদেবপুর, সাপাহার, সিলেটের জৈন্তাপুর, পটুয়াখালীর বাউফল, নেত্রকোনার আঠপাড়া, নোয়াখালীর সবুর্ণচর, ফরিদপুরের আলমডাঙ্গা, হবিগঞ্জের লাখাই, নরসিংদীর রায়পুরা, মনোহরদী ও বেলাবো, রাজশাহীর পুঠিয়া এবং বাগেরহাটের চিতলমারী।

ইসির কর্মকর্তারা জানান,  সাবেক ড. শামসুল হুদা কমিশনের অধীনেই অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। কিন্তু ওই কমিশন আইনি বাধ্যবাধকতা থাকার পরও উপজেলায় সংরক্ষিত মহিলা আসন পূরণে কোনো উদ্যোগ নেননি। ফলে উপজেলা পরিষদে মহিলা সদস্য পদে নির্বাচন না হওয়ায় পূর্ণাঙ্গ পরিষদ গঠন করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ ২০১২ সালের ফেব্রুয়ারিতে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ নেতৃত্বাধীন কমিশন গঠিত হয়। এ কমিশনের অধীনে ২০১৩ সালে চতুর্থ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এরপরে উপজেলা পরিষদে সংরক্ষিত মহিলা আসন পূরণের উদ্যোগ নেন ইসি।