June 25, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সরকারি হাসপাতালে বেড়েছে রোগীর মৃত্যু হার

বিশেষ প্রতিবেদক : আগের তুলনায় সরকারি হাসপাতালে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১১ সালের স্বাস্থ্য বুলেটিনে বছরে মৃতের সংখ্যা ৫২হাজার  থাকলেও ২০১৩সালে এ সংখ্যা দ্বিগুনেরও বেশী। স্বাস্থ্য বুলেটিন-২০১৪  সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সরকারি হাসপাতালে বছরে মারা যায় প্রায় সোয়া লাখ রোগী।মারা যাওয়াদের মধ্যে প্রসবকালীন শ্বাসকষ্টজনিত জটিলতা, সড়ক দুর্ঘটনা, হৃদরোগ, পক্ষাঘাত, রক্তে বিষসঞ্চার, বক্ষব্যাধি, হার্ট ফেইলিউর, নিউমোনিয়া ও অ্যাজমাসহ ১০টি রোগে  আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেশি। এছাড়া রাজধানীসহ সারাদেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে মোট যত সংখ্যক রোগীর মৃত্যু হচ্ছে তাদের মধ্যে ১২টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর মৃত্যৃর সংখ্যা শতকরা প্রায় ৪০ভাগ।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ম্যানেজমেন্ট সার্ভিস (এমআইএস) প্রকাশিত স্বাস্থ্য বুলেটিন-২০১৪  সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অব ডিজিজেজ (আইসিডি)-১০ গাইডলাইন অনুসরণে প্রতিটি মৃত্যু হিসাবের আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ লক্ষ্যে যথাযথ মনিটরিং ও সুপারভিশনের মাধ্যমে দেশের সকল জেলা, উপজেলা সদরে ২০০ থেকে ২৫০শয্যার হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ এবং  বিশেষায়িত হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ও চিকিৎসাধীন অবস্থায়  মৃত রোগীর তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে ওই কর্মকর্তারা দাবি করেন।

প্রাপ্ত তথ্যানুসারে ২০১৩ সালে সর্বমোট একলাখ ২০ হাজার ৩শ’৯২ জন রোগীর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে। তন্মধ্যে সরকারি ১৪টি (১২টি থেকে তথ্য পাওয়া গেছে) মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রায় ৪০ভাগ অর্থাৎ সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪৭হাজার ২শ’৫৮ জন মারা গেছে।
দেশের ৪২৪টি  (৩৮১থেকে তথ্য পাওয়া গেছে ) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক ৪৬ হাজার ৭শ’২৪ এবং জেলা, উপজেলা সদরের ২৫০শয্যার হাসপাতালে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২১হাজার ৮শ’ ৯৫জন রোগী মারা গেছে। চতুর্থ সর্বোচ্চ ৩,১১৭ রোগীর মৃত্যু হয়েছে জাতীয় হৃদরোগ ইনষ্টিটিউট হাসপাতালে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (এমআইএস) প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ জানান, একটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করতে বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের রোগী ও চিকিৎসা সম্পর্কিত তথ্যউপাত্ত জানা খুবই প্রয়োজন। রোগ প্রতিরোধে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে এ তথ্যউপাত্ত খুব কাজে লাগে।
তিনি আরো বলেন, আগে সরকারি হাসপাতালে মৃতের সঠিক পরিসংখ্যান পাওয়া যেতো না। এছাড়া বর্তমানে সরকারি হাসপাতালে আগত রোগীর সংখ্যাও অনেক বেশি। তাই মৃতের সংখ্যা আগের তুলনায় বেশি মনে হলেও বাস্তবে রোগীর সংখ্যানুপাতে মৃতের সংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।