June 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মন্ত্রী-এমপিদের প্লট দিতে জমি খুঁজছে রাজউক

ডেস্ক প্রতিবেদন : মন্ত্রী-এমপিদের প্লট বরাদ্দ দিতে অধিগ্রহণের জন্য জমি খুঁজছে রাজউক। জমির জন্য ইতিমধ্যে ঢাকার আশপাশে কয়েকটি এলাকায় খোঁজ-খবর নেওয়া হয়েছে। কয়েকটি এলাকাকে চিহ্নিতও করা হয়েছে। কিন্তু স্থানীয়ভাবে রাজউক বিরোধিতার মুখোমুখি হতে পারে এমন আশঙ্কায় কোনও এলাকার নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।

মন্ত্রী-এমপিদের জন্য নতুন করে জমি খোঁজার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাজউকের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী জিএম জয়নাল আবেদীন ভূইয়া। বৃহস্পতিবার তিনি বলেন, যেহেতু বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে সেহেতু কোথায় জমি অধিগ্রহণ করা হবে সেটা এ মুহূর্তে প্রকাশ করা যাবে না।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইতিপূর্বে ঘোষণা দিয়েছিলেন, রাজউক আর হাউজিং (প্লট) প্রকল্প হাতে নেবে না। আবাসনের জন্য কেবল ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেবে। এরপর রাজউক হাউজিং প্রকল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় এবং ফ্ল্যাট প্রকল্প বাস্তবায়নে মনযোগী হয়।

কিন্তু গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে বাজেট আলোচনায় দাঁড়িয়ে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন জানান, ঝিলমিল প্রকল্পের পরিধি বাড়ানোর জন্য ৭০০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। এখানে সংসদ সদস্যদের প্লট বরাদ্দ দেওয়া হবে।

জানা গেছে, মন্ত্রীর ঘোষণার পর রাজউক হাউজিং প্রকল্পের দিকে নজর দেয় এবং জমির সন্ধান করতে থাকে। দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতিমধ্যে তারা রাজউকের আওতাভুক্ত কেরানীগঞ্জ, সাভার, গাজীপুর সদর (টঙ্গী সংলগ্ন) ও নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলা এলাকায় জমি নিয়ে আলোচনা করেছেন। এসব এলাকার মধ্যে যেখানে সবচেয়ে কম মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেখান থেকেই জমি অধিগ্রহণ করা হবে। তবে বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।

মন্ত্রী-এমপিদের জন্য কোথায় হাউজিং প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, এটা আপাতত গোপন রেখেছি। কারণ আগে জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন মামলাসহ নানা রকম বাধার সৃষ্টি করতে পারে। সবদিক বিবেচনা করে বিষয়টা চূড়ান্ত করি, তারপর জানাব। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা প্লটের ব্যবসা নয়, ন্যায্যমূল্যে জনগণকে প্লট দিতে চাই।

বর্তমানে রাজউকের তিনটি হাউজিং প্রকল্প রয়েছে। এগুলো হল পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্প, ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্প ও উত্তরা মডেল টাউন তৃতীয় পর্ব। উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার আগেই এসব প্রকল্পের সব প্লট রাজউক বরাদ্দ দিয়েছে। এর পাশাপাশি উত্তরা তৃতীয় পর্বে চলছে ফ্ল্যাট নির্মাণ কাজ। কিন্তু এ প্রকল্পের প্রতি মানুষের তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি। অনেকে ফ্ল্যাটের বরাদ্দ পেয়েও টাকা ফেরত নিয়েছেন। যদিও রাজউক চেয়ারম্যান বলেছেন, আগামী বছর উত্তরা ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং এ প্রকল্পের আরও ফ্ল্যাট বরাদ্দ দিতে আগ্রহীদের থেকে আবেদন চাওয়া হবে।

জানা গেছে, রাজউকের ঝিলমিল আবাসিক প্রকল্পকে সম্প্রসারণ করতে আরও জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল প্রায় পাঁচ বছর আগে। দুই বছর আগে রাজউকের পরিকল্পনা যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে তখন কেরানীগঞ্জে তৎপর থাকা বৃহৎ একটি শিল্প গ্রুপ ও স্থানীয় এক নেতা নেপথ্যে থেকে জমি মালিকদের দিয়ে বিরোধপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।এরপর রাজউক তার পরিকল্পনা স্থগিত করে। বর্তমানে ঝিলমিল সংলগ্ন জমির উন্নয়ন দু’টি বেসরকারি কোম্পানির অধীনে চলছে।

এ ছাড়া প্রভাবশালীদের প্লট দিতে রাজউক পাঁচ বছর আগে বারিধারা সংলগ্ন ‘পূর্ববারিধারা সম্প্রসারণ প্রকল্প’ গ্রহণ করে। কিন্তু কয়েকটি প্রভাবশালী হাউজিং কোম্পানির নেপথ্য বিরোধিতায় রাজউকের ওই প্রকল্পও আলোর মুখ দেখেনি। বর্তমানে বারিধারার নতুন বাজার থেকে বালু নদী পর্যন্ত প্রায় তিনশ’ কোটি টাকা ব্যয়ে মাদানী অ্যাভিনিউ নির্মাণ করছে রাজউক।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, রাজউকের মাদানী অ্যাভিনিউ প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছিল পূর্ববারিধারা সম্প্রসারণ প্রকল্পকে কেন্দ্র করে। যাতে প্রকল্পের বাসিন্দারা খুব সহজে নগরীতে যাতায়াত করতে পারে। কিন্তু রাজউক পিছু হটায় মাদানী অ্যাভিনিউর সুবিধা ভোগ করতে পারবে প্রভাবশালীরাই।

পূর্ববারিধারা সম্প্রসারণ প্রকল্পে প্রভাবশালীদের বিরোধিতার কথা স্বীকার করে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ার আরও একটি কারণ ছিল- জমির মূল্য। সেখানে জমির দাম অত্যন্ত বেশি। যেহেতু আমরা কম দামে প্লট দিতে চাই সেহেতু প্রকল্পটি বেশি দূর এগুতে পারেনি। এবার জমির সন্ধান করা হচ্ছে অন্য এলাকায়।