September 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ঘুমিয়ে আছে গানের পাখি

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০০৯ সালের এই দিন (২৫ জুন) পপসঙ্গীতের ইতিহাসে বিষাদময় একটি দিন। লস এ্যাঞ্জেলসে থেমে যায় মুনওয়াক৷ আচমকা মৃত্যুর ডাকে সাড়া দিয়ে চলে যান পপসম্রাট মাইকেল জ্যাকসন৷ রহস্যময় এ মৃত্যু হাহাকার ও শূন্যতায় ভরা।

পপ, আর এ্যান্ড বি, রক, সোল ধাঁচের গানের মাধ্যমে প্রায় চার দশকজুড়ে বিশ্ব মাতিয়েছেন মাইকেল। ভক্তদের মন মাতিয়ে গেলেও তিনি নিজে ছিলেন বিষাদগ্রস্ত সম্রাট।

সঙ্গীতশিল্পী, গীতিকার, লেখক, নৃত্যশিল্পী, অভিনেতা ও সমাজসেবক মাইকেল জ্যাকসন শিকাগোর কাছাকাছি ইন্ডিয়ানার গ্যারি শহরে এক আফ্রো-আমেরিকান পরিবারে ১৯৫৮ সালের ২৯ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি প্রযোজক, কোরিওগ্রাফার ও ব্যবসায়ী হিসেবেও পরিচিত। জো জ্যাকসন ও ক্যাথরিন ইস্তারের সপ্তম সন্তান মাইকেল। ১৯৬৪ সালে বাবা পাঁচ ছেলে জেরমাইন, জ্যাকি, টিটো, মেরলন ও মাইকেলকে নিয়ে প্রতিষ্ঠা করেন ‘দ্য জ্যাকসন ফাইভ’ নামের ব্যান্ড৷ সবচেয়ে ছোট মাইকেল ছিলেন এর প্রধান গায়ক। তার সঙ্গীত ও নৃত্য কুশলতা রসিকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। পরের বছরই ‘মোটাউন’ রেকর্ড কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয় ব্যান্ডটি। ১৯৭১ সালে ১৩ বছর বয়সে শুরু করেন একক ক্যারিয়ার। এর পর একের পর এক হিট এ্যালবাম প্রকাশ করেন।

এলভিস প্রিসলি, বিটলসের সঙ্গীত দুনিয়ার যোগ্য উত্তরাধিকারী ছিলেন মাইকেল। ১৯৮২ সালে প্রকাশিত ‘থ্রিলার’ এ্যালবামটি এনে দেয় বিশ্বখ্যাতি৷ এ এ্যালবামের ব্যবসায়িক সাফল্যের রেকর্ড এখনো কোনো সঙ্গীতশিল্পী ভাঙতে পারেননি৷ তার উল্লেখযোগ্য এ্যালবামের মধ্যে রয়েছে- অব দ্য ওয়াল (১৯৭৯), থ্রিলার (১৯৮২), ব্যাড (১৯৮৭), ডেঞ্জারাস (১৯৯১) ও হিস্ট্রি (১৯৯৫)। ২০১৪ সালের ১৩ মে তার অপ্রকাশিত আটটি গান নিয়ে বাজারে আসে নতুন এ্যালবাম ‘এস্কেপ’। এর পর আরও কিছু গান প্রকাশ পায়, জনপ্রিয়তাও লাভ করে। তার জনপ্রিয় গানের মধ্যে রয়েছে- বিলি জিন (১৯৮৩), ব্ল্যাক এ্যান্ড হোয়াইট (১৯৯১), পল ম্যাকার্টনির সঙ্গে সে সে সে (১৯৮৩), রক উইথ ইউ (১৯৭৯), বিট ইট (১৯৮৩), ম্যান ইন দ্য মিরর (১৯৮৮), ব্যাড (১৯৮৭), ডোন্ট স্টপ টিল ইউ এনাফ (১৯৭৯), ইউ আর নট এ্যালোন (১৯৯৫) ও দ্য ওয়ে ইউ মেক মি ফিল (১৯৮৭)। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস অনুসারে মাইকেল সর্বকালের সবচেয়ে সফল শিল্পী। ১৩টি গ্রামি পুরস্কার, ১৩টি শীর্ষস্থানীয় সিঙ্গেল এবং ৭৫ কোটি এ্যালবাম বিক্রির রেকর্ড একমাত্র তার রয়েছে। দু’বার রক এ্যান্ড রোল হল অব ফেইমে নির্বাচিত হন। এ ছাড়া অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা লাভ করেন।

সঙ্গীতের পাশাপাশি নৃত্য পরিবেশনায় নতুন আঙ্গিকের সূচনা ঘটে তার মাধ্যমে। তিনিই একমাত্র পপ ও রক এ্যান্ড রোল শিল্পী যিনি ড্যান্স হল অব ফেমে অভিষিক্ত হয়েছেন৷ মাইকেলের জনপ্রিয় নাচের মধ্যে রয়েছে রোবট ও মুনওয়াক। তিনিই প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিন শিল্পী, যিনি এমটিভিতে জনপ্রিয়তা পান। বলা হয়, তার গানের ভিডিওর মাধ্যমেই এমটিভির প্রসার ঘটে। তিনি বেশকিছু চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন।

সমাজসেবায় মাইকেল শিশুদের সাহায্যার্থে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘হিল দ্য ওয়ার্ল্ড’৷ প্রায় ৩০ কোটি ডলার দান করেছেন ৩৯টি সাহায্য সংস্থার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে৷

জীবদ্দশায় মাইকেল জ্যাকসন নানা কারণে সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হন। মৃত্যুর অর্ধযুগ পরেও তা থামেনি। তাও হয়তো একদিন থামবে। কিন্তু পপ ভক্তরা তো সব সময়ই তাকে স্মরণ করে।