June 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

প্রসাদের রাষ্ট্রপতি হওয়া ঠেকাতে মিথ্যা বলেছিলেন নেহেরু!

বিদেশ ডেস্ক : রাজেন্দ্র প্রসাদের রাষ্ট্রপতি হওয়া ঠেকাতে ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন দেশটির সাবেক এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

আরএনপি সিং নামের ওই গোয়েন্দা কর্মকর্তা লিখিত ‘নেহেরু: অ্যা ট্রেবল্ড লিগেসি’ নামে প্রকাশিত বইয়ে এ দাবি করা হয়েছে। এতে তিনি লিখেছেন, “প্রসাদকে ভারতের রাষ্ট্রপতি হওয়া থেকে ঠেকাতে নেহেরু সম্ভাব্য সবকিছুই করেছিলেন। তিনি এর জন্য মিথ্যাও বলেছিলেন।”

প্রকাশনা সংস্থা উইজডম ট্রি থেকে প্রকাশিত ওই বইয়ে মহাত্মা গান্ধী, নেহেরু, বল্লভ ভাই প্যাটেলসহ তৎকালীন অন্যান্য ভারতীয় নেতাদের বেশকিছু চিঠিও প্রকাশ করেছেন আরএনপি সিং।

সরকারি দলিল-দস্তাবেজের সূত্র উল্লেখ করে সিং সাহেব লিখেছেন, নেহেরেু ১৯৪৯ সালের ১০ সেপ্টেম্বর রাজেন্দ্র প্রসাদকে একটি চিঠি লেখেন। তাতে নেহেরু জানান যে তিনি এবং প্যাটেল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, সি রাজগোপালাচারীকে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি করাটা সবচেয়ে যুক্তিযুক্ত আর নিরাপদ হবে।

কিন্তু বাস্তবে এ বিষয়ে প্যাটেল আর সাংবিধানিক সভার সিংহভাগ সদস্যের মনোভাব বুঝতে পারেননি নেহেরু। ফলে তার এই মিথ্যাবাজীর ফল উল্টো হয়। পরের দিন রাজেন্দ্র প্রসাদ ওই চিঠির বিষয়ে নেহরেুর কাছে ক্ষুব্ধ হতাশা প্রকাশ করেন। রাজেন্দ্র যে জবাবি চিঠি লেখেন তার কপি প্যাটেলকেও পাঠান। প্যাটেল ওই সময় বোম্বাই (এখনকার মুম্বাই) অবস্থান করছিলেন।

চিঠি পড়ে প্যাটেল তার বিষয়ে নেহেরুর বয়ানে চমকে যান। কারণ, নেহেরুর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি প্রসঙ্গে তার কোনও কথাই হয়নি। আর রাজগোপালচারীকে রাষ্ট্রপতি করার বিষয়ে তাদের একমত হওয়ার প্রসঙ্গতো ‘দূর কা বাত’!

১১ সেপ্টেম্বর নেহেরুকে পাঠানো ফিরতি চিঠিতে রাজেন্দ্র লেখেন যে, পার্টির সেবায় তিনি সবসময় প্রস্তুত আছেন। আর তাই তার সঙ্গে ভালো আচরণ আশা করেন তিনি। সিং লিখেছেন, এই চিঠি পেয়েই নেহেরু বুঝে যান যে তার ‘বেঈমানি’ ধরা পড়ে গেছে। এই ঘটনায় তিনি নিজের দোষ মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

নেহেরু চাননি পরিস্থিতি তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাক। তাই মাঝরাতেই তিনি ফিরতি চিঠি লেখেন রাজেন্দ্রকে। এ বিষয়ে নেহেরু জানান যে, রাজেন্দ্রর চিঠি পেয়ে তিনি পেরেশান হয়ে পড়েন। পরে তিনি স্বীকার করে বলেন, “চিঠিতে আমি যা লিখেছি তার সঙ্গে বল্লভ ভাইয়ের কোনও সম্পর্ক নেই। আমি শুধু আমার কথা বলেছি, যাতে না তার সঙ্গে কোনও পরামর্শ করা ছিল না তার বলা কোনও কথা ছিল। আমি নিজের চিঠিতে যা লিখেছি তার সঙ্গে বল্লব ভাইয়ের কোনও সম্পর্ক নেই…”

বইতে আরও লেখা হয়েছে- নেহেরু বুঝে যান যে তার চালবাজি প্যাটেল আর রাজেন্দ্র প্রসাদের কাছে ধরা পড়ে গেছে। এ সূত্রে তিনি এই জটিলতা থেকে গা বাঁচাতে প্যাটেলকেও চিঠি লেখেন। তাতে তিনি প্রসাদের লেখা চিঠির ভাষা আর বিষয়বস্ত নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্যাটেলকে খুশি করতে চতুরতার সঙ্গে বলেন, “এখন পরিস্থিতি সামাল দেয়া পুরোটাই আপনার হাতে।”

উল্লেখ্য, স্বাধীনতার প্রায় আড়াই বছর পর ১৯৫০ সালের জানুয়ারিতে ড. রাজেন্দ্র প্রসাদ ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এনবিটি।