October 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ছিটমহল সমস্যা সমাধানে আন্তরিক দুদেশ

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেছেন, ছিটমহল সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

লালমনিরহাটের এমপি মোতাহার হোসেন বলেছেন, অনেক নিকট থেকে ছিটমহলের অধিবাসীদের চরম দুর্ভোগ দেখেছি। স্বাধীনতা যুদ্ধ করতে গিয়েও দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল রাত কাটিয়েছি। ভারতের অভ্যন্তরে থাকা ৫১ ছিটমহল পরিদর্শন করেছি। আমার নির্বাচনী লালমনিরহাট ১ আসনেই ৫৭টি ছিটমহল রয়েছে। এসব ছিটমহলও অনেকবার গিয়েছি। বহুল আলোচিত দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহল, তিনবিঘা করিডোর, তিস্তা নদীর পানির ন্যায্য পানির হিস্যা আদায়সহ বিভিন্ন সীমান্ত সমস্যা রয়েছে। কাজেই এসব সমস্যার জন্য আমি একজন আর্ন্তজাতিকভাবে সমস্যাবহুল জনপ্রতিনিধি।

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টায় লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার তিনবিঘা করিডোর পরিদর্শন করে তিনবিঘা করিডোর গেটের পূর্বপ্রান্তে ছিটমহলের অধিবাসীদের আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারা এসব কথা বলেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামালকে ইঙ্গিত করে তিনি আরও বলেন, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে প্রতিনিয়ত এসব জনগুরুত্বপূর্ণ সমস্যা সমাধানের জন্য যেতে হয়। তিনি অনেক সময় বলেন, আর কত সমস্যা তোমার সমাধান করে দেব। আমি ধৈর্য্য ধরে বলি ম্যাডাম, আপনার বাবার ডাকে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। তিনিই এসব সমস্যা সমাধানের স্বপ্ন দেখতেন। আজ এসব বাস্তবায়নের দায়িত্ব আপনারই। উনি হাসি মুখে বলে দিতেন, যাও সব সমস্যার সমাধান করে দেব। আজ এরই ফলশ্রুতি আপনারা দেখছেন, বহুল আলোচিত তিনবিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টা দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসীর জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। একটি বড় সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। এখন ভারত সরকার তিনবিঘা করিডোরের উপর ফ্লাই ওভার নির্মাণ করে তার উপর দিয়ে চলাচল করবে। দহগ্রাম-আঙ্গরপোতাবাসী মূল সড়ক তথা নিচ দিয়ে চলাচল করবে। তিনবিঘা নিয়ন্ত্রণ থাকবে বাংলাদেশের হাতে।”

মোতাহার হোসেন বলেন, “আপনাদের দুঃখ-দুর্দশাগ্রস্ত জীবন-মান উন্নয়নে এবং নাগরিক মর্যাদা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘স্থল সীমান্ত চুক্তি’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহল সমস্যার চির সমাধানের উদ্যোগ নিয়েছে। এজন্য ভারত ও বাংলাদেশ সরকার একযোগে কাজ করে যাচ্ছে। আপনার সতর্ক থাকবেন, যেন কোনো গোষ্ঠী বা মহল আপনাদের আন্দোলন-সংগ্রামের ৬৮ বছর পর অর্জিত এই মহান বিজয় ছিনিয়ে নিতে না পারে। এজন্যই আপনাদের অতন্দ্র প্রহরীর মতো সজাগ থাকতে হবে। প্রত্যেকটি ছিটমহলের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২শ কোটি টাকা ইতোমধ্যে বরাদ্দ দিয়েছেন। তিনি আরও বরাদ্দ দেবেন বলেছেন। তাই হতাশা বা চিন্তার কোনো কারণ নেই। আপনাদের সকল সমস্যা অচিরেই সমাধান হয়ে যাবে।”

এদিকে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির যৌথ উদ্যোগে বিজয় মিছিল যৌথ সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করে তিনবিঘা করিডোরের পূর্বপ্রান্তে আয়োজিত পথসভায় আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক সুলতানা কামাল বলেছেন, “ছিটমহল সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। মানবাধিকার পরিস্থিতি প্রশ্নে বিভিন্ন সংগঠন সজাগ রয়েছে। ছিটমহলের প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় উভয় দেশের সরকারের সঙ্গে আমরা কথা বলে যাচ্ছি। কোথাও কোনো সমস্যা হওয়ার সুযোগ নেই।”

তিনি বলেন, “আপনারা দীর্ঘ ৬৮ বছর ধৈর্য্য ধরে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন। সেই সংগ্রামে আমরাও অদৃশ্যভাবে শরিক ছিলাম। এখন আপনাদের বিজয় আপনাদেরকেই ধরে রাখতে হবে। সেজন্য আপনাদের কোনো দুষ্টচক্রের কথায় কান দেওয়া যাবে না। যাতে কেউ যেন কোনো সুযোগ নিতে না পারে।”

এপার বাংলা এবং ওপার বাংলার আমরাই বাঙালি। আমাদের সেই বন্ধন অটুট রাখতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।

এর আগে তিনি তিনবিঘা করিডোরের ক্রসিং পয়েন্টে উভয় দেশের ছিটমহলের নেতাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এসময় তাকে কাছে পেয়ে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির ভারত ইউনিটের অন্যতম সমন্বয়ক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত কান্নায় ভেঙে পড়েন। এসময় তাকে শান্ত করেন ফেলানী হত্যা মামলার বাংলাদেশি কৌশলী অ্যাডভোকেট আব্রাহাম লিংকনসহ অন্যরা।