September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

টানা বর্ষণে বিপর্যস্ত জনজীবন

ডেস্ক প্রতিবেদন : মৌসুমী বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশব্যাপী টানা কয়েকদিন ধরে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হচ্ছে। উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বর্ষণসহ  বিভিন্ন স্থানে হালকা থেকে মাঝারি বর্ষণে সারাদেশে জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আর এতে করে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বেশ কয়েকটি জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, রোববার সকাল পর্যন্ত দেশব্যাপী বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে। বৃষ্টিপাতের তীব্রতা এদিন সকাল থেকে কিছুটা কমতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ ২০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে কক্সবাজারে। এছাড়া খেপুপাড়ায় ১০৬ মি.মি., কুতুবদিয়ায় ৮১ মি.মি., বরিশালে ৭৫ মি.মি., ঈশ্বরদীতে ৫০ মি.মি. ও ঢাকায় ২৫ মি.মি. বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

টানা বর্ষণ ও বন্যার পানিতে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। কক্সবাজারে পাহাড়ি ঢল, ঝড়ো হাওয়ায় গাছ চাপা পড়ে এবং পাহাড় ধসে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। বান্দরবানে পাহাড় ধসে নিহত হয়েছে দুই ভাই-বোন, পানি বন্দি হয়ে আছে কয়েক হাজার পরিবার।

সেন্টমার্টিনে প্রবল ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টিপাতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুক্রবার সকালে বয়ে যাওয়া ঝড়ো হাওয়ায় অসংখ্য গাছপালা ও ঘরবাড়ি উপড়ে গেছে।এতে নারিকেল গাছ চাপা পড়ে মারা গেছে এক মা ও শিশু।

টানা চারদিনের ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রামের লাখো মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। জনদুর্ভোগের পাশাপাশি নানা অবকাঠামো রাস্তাঘাট ও বাঁধ ভেঙে গেছে।

এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সড়কে পানি জমে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। নিচু এলাকা তলিয়ে যাওয়ায় পানি ঢুকেছে অনেক বাড়িঘরে।কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক ও মেরিনড্রাইভ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৪৮ ঘণ্টার টানা বর্ষণে জেলার আটটি উপজেলার কমপক্ষে ৭৫ ভাগ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সদর, রামু, চকরিয়া ও পেকুয়া উপজেলা। এসব উপজেলার ৯০ ভাগ অঞ্চলই পানির নিচে তলিয়ে যায়।

ঝিনাইদহে তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে পৌরসভার নিচু এলাকাগুলোতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপশহরসহ বিভিন্ন মহল্লার নিচু এলাকায় ঘর বাড়িতে পানি ঢুকেছে। অনেক স্থানে রাস্তার উপর হাঁটু সমান পানি ওঠায় দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী।

চাঁদপুর শহরের নাজিরপাড়া, গুয়াখোলা, রহমতপুর কলোনি, প্রফেসরপাড়া, বাসস্ট্যান্ড এলাকা, তালতলা, রেলওয়ে কলোনি এখন হাঁটু পানিতে তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা, দোকান ও স্কুলের মাঠ। আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায়  ৩৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চাঁদপুরে।

তবে অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ঢাকায় বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, ঢাকায় মাত্র ২৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু এতেই মহানগরী জলজটের কবলে পড়েছে। বিশেষ করে মিরপুরের কালশী থেকে পুরবী সিনেমা হল সংলগ্ন সড়ক প্রায় কোমরপানিতে তলিয়ে যায়। এছাড়া জলবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে হাজারিবাগ, মোহাম্মদপুর, উত্তরা, দক্ষিণখান, মতিঝিল ও বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকায়।