October 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

গাজাগামী নৌযান আটক করেছে ইসরায়েল

বিদেশডেস্ক : ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ শহর গাজার উদ্দেশে যাওয়া মানবাধিকারকর্মীদের নৌবহরের একটি নৌযান আটক করেছে ইসরায়েলের নৌবাহিনী। গাজা উপকূলে পৌঁছার আগেই সমুদ্র থেকে সোমবার নৌযানটি আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েল। খবর আলজাজিরা ও বিবিসির।

ইসরায়েলী সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ‘ম্যারিয়ান’ নামের ওই নৌযানটি আশদ শহরে নেওয়া হয়েছে। আরোহীদের ওপর কোনোরূপ শক্তি প্রয়োগ করা হয়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

গাজাগামী নৌবহরের এক মুখপাত্র পেত্রোস স্টের্গিও জানান, স্থানীয় সময় রবিবার রাত ২টায় (সোমবার) ম্যারিয়ানের সঙ্গে সর্বশেষ যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। সে সময় ইসরায়েলের তিনটি সামরিক নৌযান ম্যারিয়ানের কাছে আসছিল।

তিনি বলেন, ‘আমরা জানতে পেরেছি যে, গাজা উপকূল থেকে ১০০ নটিক্যাল মাইল দূরে থাকার সময় নৌযানটিতে আক্রমণ চালিয়েছে ইসরায়েলী নৌবাহিনী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আবারও ইসরায়েল সরকার ও তাদের সামরিক বাহিনী দস্যুরাষ্ট্রের মতো আচরণ করল। তারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় আমাদের নৌযানের ওপর হামলা চালিয়েছে।’

এদিকে ইসরায়েলী সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গাজা উপত্যকায় জলসীমার অবরোধ ভাঙ্গার উদ্দেশ্য প্রতিহত করতেই আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌযানটি আটক করেছে তারা।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নৌযানটির যাত্রীদের আটকের নির্দেশ দেন।

তিনি বলেছিলেন, ‘নৌবহরটি প্রতারণা ও মিথ্যার প্রত্যক্ষ প্রমাণ ছাড়া আর কিছুই নয়। এটা সন্ত্রাসী সংগঠন হামাসের পক্ষে এ অঞ্চলের ভয়াবহতা উপেক্ষা করে প্রবেশ করতে চাইছে।’

এর আগে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় কয়েক বছর ধরে চলা ইসরায়েলের অনৈতিক অবরোধের প্রতিবাদে ‘স্বাধীনতা নৌবহর-৩’ (ফ্রিডম ফ্লটিলা-৩) নামে চারটি নৌযানে চড়ে সেখানে যাওয়ার ঘোষণা দেয় মানবাধিকারকর্মীরা। ওই নৌবহরে তিউনিশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট মুনসেফ মারজুকি, স্প্যানিশ সংসদ সদস্য আনা মারিয়া মিরান্ডা পাজা ও আরব-ইসরায়েলী রাজনীতিক বাসেল গাত্তাসও থাকবেন বলে জানানো হয়।

নৌবহরে চিকিৎসা সরঞ্জাম, সোলার প্যানেলসহ মানবিক ত্রাণ বহন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

২০১০ সালে তুরস্কের ‘মাভি মারমারা’ নামক নৌযানে চড়ে অবরুদ্ধ গাজার উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছিল মানবাধিকারকর্মীরা। ওই সময় ইসরায়েলী সেনারা নৌযানটিকে ফেরাতে রক্তাক্ত অভিযান চালায়। এতে ১০ তুর্কি মানবাধিকারকর্মী নিহত হয়।

এ ঘটনায় ইসরায়েলের সঙ্গে তাদের মিত্র রাষ্ট্র তুরস্কের সম্পর্কে খানিকটা অবনতি ঘটে। ২০১৩ সালে এ ঘটনাকে ‘অভিযানগত ভুল’ আখ্যা দিয়ে দুঃখপ্রকাশ করে ইসরায়েল।

ওই অভিযানে অংশ নেওয়া ইসরায়েলী সৈন্য ও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে যুদ্ধাপরাধের দায়ে তুরস্কে তাদের বিচার চলছে।