September 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

রমজানে নিজেকে তালাশ করুন

ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য রহমত, বরকত ও মাগফেরাতের মাস রমজান। এ সময় চারদিকে এক ধরনের পবিত্রভাব বিরাজ করে। আমাদের চলন-বলনে স্বতঃস্ফূর্ত পরিবর্তন আসে। এটা নিজেকে শুধরে নেওয়ার ভাল সময়। আমরা যাকে অন্তর্গতভাবে ভাল মনে করি, তার চর্চার উত্তম সময় এটি।

খারাপ অভ্যাস ত্যাগ করার জন্য অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রণোদনা দেয় রমজান। যদি এ সময়ে নিজের ভেতর মৌলিক পরিবর্তনের সূচনা না করেন, তবে অন্য সময় তা কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। নিচে তেমন কিছু বিষয় তুলে ধরে হল—

দোয়া : রমজানে আমরা ধর্মীয় আমল চর্চায় বেশ তৎপর থাকি। আমাদের চারপাশে তেমন পরিবেশ বজায় থাকে। এ সময় তাই বেশি বেশি দোয়া করা উচিত, যেন রমজান মাসের পরই এ চর্চা বজায় থাকে। দোয়া কবুলের মাধ্যমে আপনি আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারেন।

রোজার চর্চা : রোজা আমাদের জন্য কত বড় নেয়ামত নিশ্চয়ই সেটা অনুভব করেন। তাই এ সময়ের অর্জনগুলো ধরে রাখতে বছরের অন্য সময়েও রোজা রাখতে পারেন। সপ্তাহে বা মাসে এক-দুই দিন আমরা রোজা রাখতে পারি, যা আমাদের হৃদয়কে আরও উদার করবে।

আত্মবিশ্লেষণ করুন : ইসলামে ভাল-মন্দের পার্থক্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই এ সময়ে বেশি বেশি আত্মবিশ্লেষণ করুন। এর মাধ্যমে আপনি কোথায় আছেন, কোথায় যেতে চান, তা স্পষ্ট হবে। আপনাকে স্মরণ করিয়ে দেবে কী করতে চান আর কী করতে চান না। কিন্তু এত আত্মমগ্ন হলে চলবে কেন? আরও দূর এগিয়ে নিজের সিদ্ধান্তকে পরীক্ষা করতে হবে। এর জন্য নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন।

এভাবে প্রতিদিন নিজেকে বিশ্লেষণের পাশাপাশি সাপ্তাহিকভাবে একটি মূল্যায়ন দাঁড় করান। কারণ প্রতিদিন আপনি নিজেকে অংশত দেখেন। অন্যদিকে সাপ্তাহিক মূল্যায়নে সামগ্রিক ধারণা পাওয়া যায়।

অন্যের সঙ্গে নিজেকে ভাগাভাগি করুন : সাধারণত যা কিছু আমাদের কাছে ভাল মনে হয়, তা কাছের মানুষের সঙ্গে শেয়ার করি। রমজানও তেমন সুযোগ নিয়ে আসে। আমাদের চিন্তা-ভাবনা বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে শেয়ার করা যায়। এতে তাদের মাঝেও অনেক ভাল অভ্যাস গড়ে উঠতে পারে। আবার তাদের কাছ থেকে শিক্ষণীয় অনেক কিছু জানা যায়।

তওবা করুন : আমাদের যাবতীয় প্রার্থনার মূলে রয়েছে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন। তাই রোজায় বেশি বেশি তওবা করুন। খারাপ কাজ করবেন না সিদ্ধান্ত নিন।

নিয়ত করুন : ভাল কাজের জন্য প্রথম পদক্ষেপ হলো নিয়ত করা। রোজা ভাল কাজের নিয়তের জন্য উত্তম সময়। রোজা যেহেতু আত্মশুদ্ধির উত্তম সময়, এবাদতঘন পরিবেশ বিরাজ করে, তাই এ সময়ে ভাল কাজের নিয়তে জোর তাগিদ থাকে।

সামাজিকতা বৃদ্ধি : বছরের অন্যান্য সময় নানা কাজে অনেকের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ হয় না। ইফতার ও সেহরিতে কাউকে দাওয়াত করার ভাল সময়। এমনকি যাদের সঙ্গে মনোমালিন্য বা বৈরী সম্পর্ক থাকে, তাদের এ সময়ে দাওয়াত করতে পারেন।

ভাল অভ্যাস-খারাপ অভ্যাস : রমজানে যেমন অনেক ভাল অভ্যাস করা যায়, তেমনি অনেক বদাভ্যাসও বাদ দেওয়া যায়। যেমন- ফজরের নামাজ বা নিয়মিত কোরআন পাঠের অভ্যাস গড়ে তোলার উত্তম সময় এটি। আবার ধূমপান, বেশি বেশি চা পান বা পান-সুপারি চিবানোর অভ্যাস ত্যাগ করতে পারেন। এ ছাড়া মেজাজ নিয়ন্ত্রণের জন্য রমজান ভাল সময়।