June 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

স্পিনেই পাখির চোখ খুঁজছে বাংলাদেশ

নিজস্ব প্রতিবেদক : দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে স্পিননির্ভর দল গড়াটাই স্বাভাবিক। আগামী ৩০ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা এক মাসের জন্য সফরে আসছে বাংলাদেশে। এই সফরে তারা ২টি টোয়েন্টি২০, ৩টি একদিনের ও ২ টেস্ট ম্যাচের সিরিজ খেলবে বাংলাদেশের বিপক্ষে।

উপমহাদেশের মাটিতে দক্ষিণ আফ্রিকা স্পিনেই একটু দুর্বল। তবে কয়েক বছর ধরেই দক্ষিণ আফ্রিকার অনেকই আইপিএল খেলছেন। সেখানে উপমহাদেশের কন্ডিশনের ভাল-মন্দ ভালই রপ্ত করেছেন। দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা সেখানে স্পিনারদের বিপক্ষে বেশ স্বাচ্ছন্দ্যও রয়েছেন।

বাংলাদেশের কন্ডিশন বলে কথা। নিউজল্যান্ডকে স্পিনের মায়াবী ফাঁদে ফেলে নাকানি-চুবানি খাইয়ে হোয়াইটওয়াশ করেছিল বাংলাদেশ। সেখানেই পাখির চোখ খুঁজছে বাংলাদেশ। প্রতিপক্ষকে স্পিনেই ঘায়েলের পরিকল্পনা বাংলাদেশের। পরিকল্পনার কথা ফাঁস করতে নারাজ স্পিন বোলিং কোচ রুয়ান কালপাগে। কিন্তু হাতে-কলমে কিন্তু স্পিন নিয়েই কাজ শুরু করে দিয়েছে বাংলাদেশ। রবিবার একাডেমি ভবনে স্পিন বোলারদের নিয়ে কাজ শেষে নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন কালপাগে। বলেছেন, ‘আমরা কীভাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে মোকাবিলা করব; টেকনিক্যালি কিভাবে নিজেদের উন্নতি করা যায় সেগুলো নিয়েও আলোচনা করেছি। তবে আমাদের পরিকল্পনাগুলো আসলে আমরা জানতে চাচ্ছি না। আপাতত পরিকল্পনা নিজেদের মধ্যেই রাখতে চাচ্ছি।

রবিবার অনুশীলনে দলের নিয়মিত স্পিনাদের সঙ্গে ছিলেন সোহাগ গাজীও। এমন অনুশীলন পর্ব দেখে সহজেই অনুমেয় স্পিন নিয়ে কতটা সিরিয়াস বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকা আক্রমণাত্মক ক্রিকেট খেলে। তবে তাদের ঠেকানোর জন্য আমাদেরও পরিকল্পনা আছে। তাদের বিপক্ষে কেবল স্পিন নিয়েই মাঠে নামব, বিষয়টা এ রকম নয়। আমাদের আরও পরিকল্পনা রয়েছে।’

দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানদের দুর্বলতা চুলচেড়া পর্যালোচনা করে একেক বোলারের হাতে একেক ছক তুলে দিচ্ছেন রুয়ান। নির্ধারিত সূচি মেনেই ক্রিকেটাররা অনুশীলন করছেন।

নাসির হোসেন গত কিছুদিন আগেও নিয়মিত বোলিং করার সুযোগ পেতেন না। ভারতের বিপক্ষে সদ্য সমাপ্ত সিরিজে নাসির অলরাউন্ড পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন। বল হাতেও বেশ সফল হয়েছেন তিনি। নাসিরের বোলিংয়ের প্রশংসা করে কালপাগে বলেছেন, ‘আরাফাত সানি ও নাসির ওয়ানডেতে খুব ভাল বোলিং করছে। তাদের বিশেষ টার্গেট বেধে দেওয়া হয়েছে অনুশীলনে। আসলে সামনে আমরা দীর্ঘ মেয়াদে চিন্তা করছি। সানি ও নাসিরের সাথে তাইজুল, শুভাগত হোম, জুবায়ের হোসেন লিখনরা অনেক দিন বাংলাদেশ ক্রিকেটকে সার্ভিস দিবে বলে মনে হচ্ছে। তাই এদের নিয়েই বিশেষভাবে কাজ করছি। আপাতত এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে চাই না।’

জুবায়ের হোসেন দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘চেষ্টা করছি আমার অস্ত্রগুলো আরও ধারাল করার। দক্ষিণ আফ্রিকা বলে আরও বেশি আত্মবিশ্বাস পাচ্ছি। দলে সুযোগ পেলে অবশ্যই সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব।’ অনুশীলনে ঘাম ঝড়ানো তাইজুল ইসলাম দ্য রিপোর্টকে বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে এই সিরিজটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এখানে আমাদের স্পিনাদের করার অনেক কিছুই আছে। চ্যালেঞ্জটা আমাদের কাছেই বেশি থাকছে।’

তবে স্পিন বোলাররা দক্ষিণ আফ্রিকাকে স্পিনে দুর্বল মনে করছেন না কোচ রুয়ান কালপাগে। বলেছেন, ‘দক্ষিণ আফ্রিকাকে স্পিনে দুর্বল ভাবা ঠিক হবে না। কারণ তাদের অনেক খেলোয়াড় আইপিএলে খেলে। সেখানে সব দলের স্পিনার থাকে। উপমহাদেশে স্পিন খেলে তারা ইতোমধ্যে অনেকটাই অভ্যস্ত। আমরা জানি, তারা বেশ শক্তিশালী দল। তাদের তাই খাটো করে দেখতে পারি না। আমরা আমাদের শক্তির দিক নিয়েই চিন্তা করছি। সব দলের বিপক্ষেই আমাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকে। আমরা তা নিয়েই ভাবছি।’

আরাফাত সানি কালপাগের সঙ্গে একমতই পোষণ করে বলেছেন, ‘আমাদের যেমন পরিকল্পনা দেওয়া হয়েছে সেভাবেই আমরা কাজ করব। চেষ্টা করব আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী সেরটা দেওয়ার। স্পিন বলে নয়, বোলারদের ভাল বোলিং করতে হবে এটাই মূল কথা।’

দক্ষিণ আফ্রিকা শক্তিশালী দল। তাদের বিপক্ষে সবগুলো ম্যাচ সহজ হবে না। রুয়ান কালপাগে শতভাগ একমত এর সঙ্গে। তবে তিনি বিশ্বাস করেন স্পিনাররাই আসন্ন সিরিজের সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করবে।