October 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ক্রসফায়ারে ৬ মাসে নিহত ৭২:আসক

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গত ছয় মাসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে ও ক্রসফায়ারে মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে সাদা পোশাকে এসে ২৯ জনকে আটক করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে চারজনের লাশ পাওয়া যায়। একজন ফেরত আসে। একজনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত ছয় মাসের মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা যায়। বিভিন্ন দৈনিক সংবাদ পত্র এবং আসকের সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে মঙ্গলবার আসকের এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পরিবার, প্রত্যক্ষদর্শী ও সহকর্মীদের দাবি অনুযায়ী, গত ছয় মাসে র?্যাবের ক্রসফায়ারে ২২ জন, পুলিশের ক্রসফায়ারে ৪০ জন, র্যাব ও বিজিবির ক্রসফায়ারে একজন, আনসার বাহিনীর ক্রসফায়ারে একজন, ডিবি পুলিশের ক্রসফায়ারে সাতজন, যৌথ বাহিনীর ক্রসফায়ারে একজন মারা যান। পুলিশের নির্যাতনে চারজন, ডিবি পুলিশের নির্যাতনে একজন, র্যা বের নির্যাতনে একজন এবং বিজিবির নির্যাতনে একজন মারা যান।

এ ছাড়া পুলিশের গুলিতে ১৪ জন, ডিবি পুলিশের গুলিতে একজন মারা যান। গত ছয় মাসে থানা হাজতে আত্মহত্যা করেন তিনজন। গ্রেপ্তারের পর পুলিশের হেফাজতে হৃদ্‌?রোগে আক্রান্ত হয়ে দুজন, র?্যাবের হেফাজতে একজন মারা যান। ট্রেনে কাটা পড়ে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারের দাবি ট্রেনের নিচে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। কারা হেফাজতে মারা গেছেন ৩৪ জন। এর মধ্যে কয়েদি ১৩ ও হাজতি ছিলেন ২১ জন। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে মারা গেছেন ১৫ জন, নির্যাতনে মৃত্যু হয়েছে আটজনের। গত ছয় মাসে আহত হয়েছেন ৩৮ জন। অপহরণের শিকার হন ৪৯ জন। অপহরণের পর বিজিবির মধ্যস্থতায় ফেরত আসে ২২ জন।

গত বৃহস্পতিবার ২০১৪ সালের মার্কিন মানবাধিকার প্রতিবেদনে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও গুমকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান মানবাধিকার সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া সংবাদপত্র এবং সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিবরণ, ইন্টারনেটে মত প্রকাশের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপসহ সভা-সমাবেশে বাধা প্রদান, সরকারের দুর্নীতি ও অস্বচ্ছতার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আসকের প্রতিবেদন বলছে, গত ছয় মাসে রাজনৈতিক সংঘাতের মোট ঘটনা ঘটেছে ৬৬০টি। এতে নিহত হয়েছেন ১৩২ জন। আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৮৯২ জন। নিহতদের মধ্যে ৭০ জনই মারা গেছেন অগ্নিদগ্ধ হয়ে। ছয় মাসে সাতটি বিভাগের বিভিন্ন স্থানে ১৯ বার ১৪৪ ধারা জারির ঘটনা ঘটে। শুধু গণপিটুনিতেই মৃত্যু হয় ৬৯ জনের। হিন্দু সমপ্রদায়ের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও থেমে ছিল না গত ছয় মাসে। এ সমপ্রদায়ের ৯৪টি বাড়ি ভাঙচুর ও পুড়িয়ে দেয়া হয়। ১৩৭টি প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়। বিভিন্ন ঘটনায় ২৮ জন আহত হন। ১৬১ জন গণমাধ্যমকর্মী বিভিন্ন ভাবে নির্যাতন, হয়রানি, হুমকি ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধার সম্মুখীন হয়েছেন।

ছয় মাসে ধর্ষণের শিকার হয় ৩২৬ জন। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় ২৯ জনকে। আত্মহত্যা করেন একজন। ৫২ জনের বেশি নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। যৌন হয়রানির কারণে ছয়জন নারী আত্মহত্যা করেন। এ ধরনের ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে একজন নারী ও একজন পুরুষ নিহত হন।

এ ছাড়া ৯৪ জন হয়রানি ও লাঞ্ছনার শিকার হন। ২২ জন গৃহকর্মী বিভিন্ন ভাবে নির্যাতনের শিকার হন। এর মধ্যে মারা যান তিনজন। রহস্যজনক মৃত্যু হয় ১১ জনের। সালিশ ও ফতোয়ার কারণে নির্যাতনের শিকার হন চারজন নারী। যৌতুকের কারণে নির্যাতনের শিকার হন ১৩৩ জন। হত্যা করা হয় ৯১ জন নারীকে। আত্মহত্যা করেন চারজন। যৌতুকের কারণে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন ৩৭ জন। পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হন ২০০ জন। এর মধ্যে ১৪৮ জনকে হত্যা করা হয়। এ ধরনের নির্যাতনে আত্মহত্যা করেন ৩২ জন।