September 19, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বহিষ্কারাদেশের পরও সংসদ সদস্য লতিফ সিদ্দিকী !

নিজস্ব প্রতিবেদক : আট মাসেও সংসদ সচিবালয় বা নির্বাচন কমিশনে পৌঁ‍ছেনি সরকার দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে দল থেকে বহিষ্কারাদেশের চিঠি। ফলে তার সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকা না থাকা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই সরকারের এই দুই সংস্থার।  তবে, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন বলেছেন, এই সংসদ সদস্য যে দল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন সেখান থেকে এ ধরনের কোনও চিঠি পাইনি, তাই তিনি সংসদ সদস্য হিসেবে আগের অবস্থানেই রয়েছেন।

এদিকে দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বহিষ্কার হলেও ওই সিদ্ধান্ত এখনও সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে না যাওয়ায় সংসদ সদস্য হিসেবে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে লতিফ সিদ্দিকীর কোনও ধরনের বাধা থাকছে না। এ বিষয়ে স্পিকার স্পষ্ট করে কিছু না বললেও তিনি জানিয়েছেন,আইনি ব্যাখ্যায় সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকলে তার অধিবেশনে যোগ দিতে আইনি বাধা থাকার কথা নয়।

পবিত্র ইসলাম ধর্ম ও মহানবী হযরত মুহম্মদ (সা.)কে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য এবং সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণ উল্লেখ করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ গত বছরের ২৪ অক্টোবর আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীকে দলের সভাপতিমণ্ডলির সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের পাশাপাশি দলের প্রাথমিক সদস্যপদও বাতিল করে। দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম তখন দলের সিদ্ধান্ত গণমাধ্যমে জানিয়ে বলেন, এ সিদ্ধান্তের রেজুলেশন তারা নির্বাচন কমিশনে পাঠিয়ে দেবেন। পরে দল থেকে ওই চিঠি স্পিকার দপ্তরেও পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।  কিন্তু ঘটনার ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও মঙ্গলবার পর্যন্ত সংসদ সচিবালয় বা নির্বাচন কমিশনে এ ধরনের কোনও চিঠি যায়নি।

এদিকে বহিষ্কারের ঘটনার সময় বিদেশে অবস্থানকারী লফিত সিদ্দিকী একমাস পর দেশে ফিরে গত ২৫ নভেম্বর আদালতে আত্মসমার্পন করেন। প্রায় ৭ মাস কারাভোগের পর সোমবার মুক্তি পান সাবেক এই মন্ত্রী। সরকার দলীয় এই সংসদ সদস্য চলমান বাজেট ‍অধিবেশনে যোগ দিতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাম জানান, তারা এখনও আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কারাদেশের চিঠি সংসদ সচিবালয়ে পাঠায়নি। সংসদ সচিবালয় যদি বলে তাহলে তারা চিঠি পাঠাবেন। প্রয়োজন হলে নির্বাচন কমিশনেও ওই চিঠি পাঠাবেন বলেও জানান দলের এই নেতা।

দলের উপদপ্তর সম্পাদক মৃনাল কান্তি দাশ বলেন, শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় গত ৩/৪ মাস যাবৎ দপ্তরের সঙ্গে আমার যোগাযোগ একটু কম রয়েছে। এ বিষয়টি বর্তমানে কী অবস্থায় আছে সেটা আমার জানা নেই। আপনি সাধারণ সম্পাদকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিষয়টি জানতে পারবেন।  তবে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে সাধারণ সম্পাদককে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, আমার কাছে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে কোনও চিঠি আসেনি। চিঠি পেলে বিধি অনুযায়ী আমি নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠাবো। কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়ে সংসদ সচিবালয়ে জানানোর পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এমপি হিসেবে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উনি আগেও যে অবস্থায় ছিলেন এখনও সেই অবস্থানে রয়েছেন। উনার সংসদের আসনটি এখনও একই অবস্থায় রয়েছে। সংসদে ট্রেজারি বেঞ্চের ১৪ নম্বর আসনটি লতিফ সিদ্দিকীর বলেও তিনি জানান।

নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলামও এ ধরনের চিঠি না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। মঙ্গলবার তিনি বলেন, এ ধরনের কোনও চিঠি তারা কোনও দল বা সংসদ সচিবালয় থেকে তার দপ্তরে আসেনি।

লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্যপদ বহাল থাকা না থাকা প্রশ্নে ইসি সচিব বলেন, তাদের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চিঠি এলেই কেবল তারা বিষয়টির আইনি দিকগুলো বিশ্লেষণ করে দেখবেন। যেহেতু তাদের কাছে কোনও ধরনের চিঠি আসেনি এজন্য বিষয়টি নিয়ে তাদের করণীয় কিছু নেই।

প্রসঙ্গত, সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কারণে লতিফ সিদ্দিকীকে মাত্র এক মাসের মধ্যে সরকারের মন্ত্রিসভা ও দল থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হলেও আট মাসেও ওই বহিষ্কারাদেশের চিঠি কেন সংসদ সচিবালয় বা নির্বাচন কমিশনে গেল না সেটা স্পষ্ট নয়। এই বিষয়ে ক্ষমতাসীন দলের কেউ মুখ খুলতেও রাজি নন। তবে জানা গেছে, দলের হাইকমান্ডের নির্দেশে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যে কারণে তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে সৃষ্ট বিতর্কের অবসান হচ্ছে না। সংসদ সচিবালয়ও চিঠি ছাড়া কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারছে না।

এদিকে দলের সদস্যপদ হারানোর পর তার সংসদ সদস্য পদ থাকছে কিনা সে বিতর্কেরও অবসান হয়নি। কেননা এ ব্যাপারে সংবিধান ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও) স্পষ্ট করে কিছু বলা নেই।