September 19, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বেতন স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে শেষ মুহূর্তে জটিলতা

জ্যেষ্ঠ্য প্রতিবেদক : আগামী জুলাই থেকে বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বেতন স্কেল সংক্রান্ত সচিব কমিটির সুপারিশ বর্তমানে অর্থ মন্ত্রণালয়ে রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এটি চূড়ান্ত করে মন্ত্রিসভায় পাঠাবে। মন্ত্রিসভা অনুমোদন দিলে তা কার্যকর হবে। তবে প্রস্তাবিত অষ্টম জাতীয় বেতন স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে শেষ মুহূর্তে দেখা দিয়েছে জটিলতা।

বেতন স্কেল চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড রাখা-না রাখা, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষকদের পাওনা জুলাই থেকে কার্যকর করা হবে কি না, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহ এবং শিক্ষকদের স্বতন্ত্র বেতন স্কেল ইত্যাদি বিষয় নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতনক্রম নির্ধারণ নিয়েও শিক্ষকদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। অন্যদিকে ভাতার ওপর নতুন করে ধার্যকৃত কর নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বেতনক্রম গ্রেড-১ এ রাখা নিয়েও কথা হচ্ছে। তালিকায় সেনাবাহিনীর মেজর জেনারেল পদধারীরাও রয়েছেন। বিদ্যমান বেতন স্কেলে সচিবরা গ্রেড-১ ভুক্ত। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের গ্রেড-১ থেকে বাদ দেয়ায় তারা আন্দোলনের হুমকি দেয়ায় সচিব, সিলেকশন গ্রেডের অধ্যাপক ও মেজর জেনারেলদের বেতনকাঠামো এক নম্বর গ্রেডে রাখার সুপারিশ করে আবার অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠায় সচিব কমিটি।

এদিকে সচিবরা একই গ্রেডে সিলেকশন গ্রেডপ্রাপ্ত অধ্যাপকদের না রাখার পক্ষে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক সচিব জানান, শিক্ষকদের আন্দোলনের হুমকিতে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও এতে সচিবদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে।

সচিবদের কোনো গ্রেড দ্বারা মর্যাদা নির্ধারণের বিরোধিতা করে কয়েকজন সচিব জানান, এখন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অনেক দপ্তর-অধিপ্তরের প্রধান পদ গ্রেড-১ ভুক্ত। একজন সচিব ও তার অধীন প্রতিষ্ঠান প্রধানের পদ যদি একই গ্রেডের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন সেক্ষেত্রে সচিবের নির্দেশ তিনি নাও অনুসরণ করতে পারেন।

এদিকে সিলেকশন গ্রেড ও টাইম স্কেল দেয়ার প্রথা বাদ দেয়ায় ক্ষুব্ধ নিম্ন আয়ের চাকরিজীবীরা। তাদের অভিযোগ, এতে লাভবান হবেন খুব কম সংখ্যক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বেশিরভাগ কর্মচারী।

এছাড়া সরকারি ও বেসরকারি (এমপিওভুক্ত) শিক্ষক-কর্মচারীদের বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। তারা জুলাই থেকে নতুন বেতনক্রম পাবেন কি না সেটি এখনো নিশ্চিত করেনি অর্থ বিভাগ। পাশাপাশি শিক্ষকদের দাবি স্বতন্ত্র বেতন স্কেল। সেটিও কবে পূরণ হবে তাও অনিশ্চিত।

অর্থ বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, বেতন স্কেল বাস্তবায়নে এবার জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে যতটা সম্ভব সমন্বয় করার।

সবকিছু সমন্বয় করে সচিব কমিটির সুপারিশের আলোকে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে কিছুটা বিলম্ব হতে পারে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, বেতন-ভাতা যখনই চূড়ান্ত করা হোক তা ১ জুলাই ২০১৫ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। তবে বেসরকারি বা সরকারি শিক্ষকরা জুলাই থেকে না পেয়ে নতুন স্কেলে বেতন পাবেন জানুয়ারি ২০১৬ থেকে।