September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সীমান্ত রক্ষীদের শেষ করে দিয়েছে আ.লীগ : খালেদা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)`র কার্যক্রমের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, সীমান্তে প্রতিনিয়ত খুন, গুম হচ্ছে। এরা এখন আর সীমান্ত রক্ষী নেই। তারা দেশের ভিতরে দেশের মানুষের ওপরে গুলি করতে পারে। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষা করতে পারে না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইস্কাটন গার্ডেনের লেডিস ক্লাবে লেবার পার্টি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন।

বেগম জিয়া বলেন, বাংলাদেশের সীমান্তে প্রতিদিন ছোট ছোট শিশুও হত্যা ও গুম হচ্ছে। এর প্রতিবাদ করার কেউ নেই। এই অপদার্থ অবৈধ সরকার তো প্রতিবাদ করবেই না। অন্য কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়। আওয়ামী লীগ সীমান্তরক্ষীদের শেষ করে দিয়েছে।

খালেদা জিয়া বলেন, কেমন অসম্মান করে বিজিবি নায়েককে ধরে নিয়ে গেছে। এতে দেশের মানসম্মান নষ্ট হয়েছে। তারা মিয়ানমারের সীমন্ত রক্ষীর সঙ্গে পারে না। জনগণের ট্যাক্সের টাকায় গুলি কিনে এদেশের জনগণের ওপরেই ছুঁড়ছে।

সরকারের সমালোচনা করে বিএনপি চেয়াপারসন বলেন, এখন যারা অবৈধভাবে ক্ষমতায় আছেন। তাদের কর্মকাণ্ড নিয়ে আমরা প্রতিদিনই কথা বলে যাচ্ছি। কিন্তু তাদের গায়েও লাগে না। কাজেও পরিবর্তন দেখছি না। আজকে এরা জোড় করে ক্ষমতায় এসে দেশে চরম দুরাবস্থার সৃষ্টি করেছে। সমস্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংশ করে দিয়েছে। শেষ করে দিয়েছে।

জাতীয় সংসদের প্রসঙ্গ টেনে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয় না। বিতর্তের এজেন্ডা থাকে না। সংসদের কোরাম পূর্ণ হয় না। জাতীয় সংসদ এখন গান বাজনার আসরে পরিণত হয়েছে। এর কারণ -সংসদে এখন কার্যকর শক্তিশালী বিরোধী দল নেই।

তিনি আরো বলেন, এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য একটি নির্বাচন দরকার। যেই নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে। কারচুপি হবে না। বাধা সৃষ্টি করবে না। ছোট-বড় সব দল অংশগ্রহণ করবে। কিন্তু এই অপদার্থ অকার্যকর নির্বাচন কমিশনের কাছে ভালো কোনো নির্বাচন আশা করতে পারি না। তারা সত্য বলার সাহস রাখে না।

প্রশাসনে জ্যেষ্ঠদের বাদ দিয়ে অনিয়ম করে দলীয় লোকদেরই পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে অভিযোগ করে খালেদা জিয়া বলেন, আজকে সব কিছুকে ছাড়িয়ে গেছে। আইনের ধার ধারে না। বিচারের ঊর্ধ্বে যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছে। সরকারের সমালোচনা কেউ করতে পারে না। করলেই তাকে মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে শেষ করে দিয়েছে। আমরা নকল বন্ধ করেছিলাম। এখন নকলের ছড়াছড়ি। ইচ্ছে মতো পাশ করিয়ে দেয়া হয়। কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিলে ছাত্ররা পাশ করতে পারে না। জাতিকে ধ্বংস করে দেয়ার জন্য আজকে পরিকল্পিতভাবে এই আওয়ামী লীগকে বসানো হয়েছে।

দেশের মানুষের কাছে আহ্বান রেখে খালেদা জিয়া বলেন, যারা দেশকে ভালোবাসেন, নিজেকে ও পরিবারকে ভালোবাসেন। তাদেরকে সচেতন হতে হবে। মুক্তিযুদ্ধকে যারা সম্মান করেন তাদেরকে জেগে ওঠতে হবে। অন্যায়-অত্যাচার অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ঔক্যবদ্ধ হয়ে লড়তে হবে। তাহলে শান্তি ফিরে আসবে।

লেবার পার্টি সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে ইফতার মাহফিলে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন- এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর কর্ম পরিষদ সদস্য আমীনুল ইসলাম, ডা. রেদওয়ানুল্লা শাহেদী, জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান, খেলাফত মজলিশের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক, ন্যাপের গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বিজেপির সালাহউদ্দিন মতিন প্রকাশ, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামা ইসলামের মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, কল্যাণ পার্টির এমএম আমিনুর রহমান, জাগপা সাধারণ সম্পাদক খন্দকার লুৎফর রহমান, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ইকবাল সিদ্দিকী, শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, অধ্যাপক সুকোমল বড়ুয়া, দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীর ছেলে শামীম বিন সাঈদী প্রমুখ।

ইফতারে বিএনপি নেতাদের মধ্যে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ অংশ নেন।