September 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আপনারা লুকানোরও সময় পাবেন না : খালেদা

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে ক্ষমতাসীনদের উদ্দেশ্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘‘ জনগন এখন জেগে উঠছে। অনেকে জনগণের ভয়ে লুকিয়ে আছে। কিছুদিন পরে আপনারদেরকেও লুকাতে হবে। তখন সব জায়গা থেকে খুঁজে খুঁজে বের করবে। আপনারা লুকানোরও সময় পাবেন না।’’ এসময় বর্তমান সরকারের পরিনতি ‘হীরক রাজা’র মতো হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বুধবার রাজধানীর বসুন্ধরা আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটির ‘রাজদর্শন’ এ জোট শরিক লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপির ইফতার অনুষ্ঠানে বক্তব্যে একথা বলেন বিএনপি চেয়ারপারসন।

খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘ এই রমজান মাসে আমরা দোয়া করব, যাতে এই জালেম অত্যাচারি সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করে। আল্লাহতালা এই জালেম-অত্যাচারিদের পরীক্ষা করছে। তারা (সরকার) কতো দুর্নীতি করতে পারে, কতো খারাপ কাজ করতে পারে, কতো মিথ্যা কথা বলতে পারে। যখন দড়ি ধরে টান দেবে, কেটে দেবে, তখন তারা খান খান হয়ে যাবে। সেই হীরক রাজার মতো দড়ি ধরে মারো টান, রাজা হবে খান খান।’’

মন্ত্রীত্ব থেকে বহিস্বকৃত আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর জামিন প্রাপ্তির সমালোচনা করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘‘একজন নেতাকে জেল দেয়া হয়েছে, তিনি ছাড়া পেয়ে জনগণের ভয়ে লুকিয়ে আছেন। আমি বলতে চাই- এখনো সময় আছে, জায়গা ঠিক করে রাখুন। পরে সময়ও পাবেন না, লুকানোর সময় থাকবে না, পালাবারও পথ পাবেন না।’’

পঁচা গম আমদানি নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন,‘‘ গ্রামের অবস্থা খুবই খারাপ। এখন বন্যা ও নদীভাঙ্গনসহ নানা সমস্যায় জর্জরিত। রিলিফ দিচ্ছে না। এখন শোনা যাচ্ছে, ব্রাজিল থেকে আনা পঁচা ওই গম আটা বানিয়ে কাবিখা-টেষ্ট রিলিফ কর্মসূচির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হবে। সাধারণ মানুষ ওই পঁচা গম খেয়ে অসুস্থ হয়ে ধুকে ধুকে মরবে।’’
এসময় সারাদেশে ক্ষমতাসীনদের দখলদারি ও চাঁদাবাজীর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘‘ তারা (ক্ষমতাসীন) দখলবাজী-দুর্নীতি করছে। অথচ মামলা দিচ্ছে বিএনপিসহ ২০ দলীয় নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে। তাদের জেলে নেওয়া হচ্ছে। যদি জামিন পায়, আবার জেল গেইট থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়।’’

খালেদা জিয়ার সঙ্গে এক টেবিলে এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমেদ ছাড়াও ছিলেন জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার,  জামায়াতে ইসলামীর আবদুল হালিম, ইসলামী ঐক্যজোটের আবদুল লতিফ নেজামী, খেলাফত মজলিশের অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইসহাক,  কল্যান পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, জাগপার শফিউল আলম প্রধান, এনডিপির খন্দকার গোলাম মূর্তজা, এনপিপি‘র ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, লেবার পার্টির মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ন্যাপের জেবেল রহমান গানি, ন্যাপ-ভাসানীর আজহারুল ইসলাম, বিজেপির সালাহউদ্দিন মতিন প্রকাশ, সাম্যবাদী দলের সাঈদ আহমেদ, জমিয়তে উলামা ইসলামের মাওলানা মহিউদ্দিন ইকরাম, পিপলস লীগের গরীবে নেওয়াজ, মুসলিম লীগের এএইচএম কামরুজ্জামান খান, ডিএল‘র সাইফুদ্দিন মনি, আবু তাহের চৌধুরী, এলডিপি‘র রেদোয়ান আহমেদ ও সাহাদাত হোসেন সেলিম।

বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, সেলিমা রহমান, রুহুল আলম চৌধুরী, আহমেদ আজম খান, আসাদুজ্জামান রিপন, নাজিম উদ্দিন আলম, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, শাহজাহান মিলন, জহিরুল হক শাহজাদা মিয়া, শ্যামা ওবায়েদ।

এছাড়া অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমেদ, অধ্যাপক মাহবুবউল্লাহ, মামুন আহমেদ, কলামিস্ট সাদেক খান, মাহবুবউল্লাহ, কাজী সিরাজ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার প্রমূখ ইফতারে উপস্থিত ছিলেন।