December 6, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বাড়িভাড়া নির্ধারণে কমিশন গঠনে হাইকোর্টের নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক : মালিক ও ভাড়াটিয়াদের বিরোধ নিষ্পত্তিসহ বাড়িভাড়া নির্ধারণে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন কমিশন গঠনের জন্য হাইকোর্ট সংশ্লিষ্টদের প্রতি আদেশ দিয়েছে।
আদেশে বলা হয়, এ কমিশন বাড়ির মালিক ও ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করার পাশাপাশি এলাকাভেদে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ ভাড়া নির্ধারণ করবে। সংশ্লিষ্টদেরকে ছয় মাসের মধ্যে একটি ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন’ কমিশন গঠন করতে বলা হয়েছে।
একটি রিট আবেদনে বিচারপতি মো. বজলুর রহমান ও বিচারপতি মো.রুহুল কুদ্দুস সম্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আজ এ রায় দেয়।
রায়ে বলা হয়, ‘উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন’ এ কমিশনের প্রধান হবেন আইন মন্ত্রণালয়ের মনোনীত একজন আইনজ্ঞ। এছাড়াও এ কমিশনে বিশ্ববিদ্যালয়ের গৃহায়ণ ও নগর বিশেষজ্ঞ একজন অধ্যাপক, একজন অর্থনীতিবিদ, সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজের একজন প্রতিনিধি, ভোক্তা অধিকার ও নাগরিক স্বার্থ সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ একজন প্রতিনিধি এবং সরকার মনোনীত একজন সিটি করপোরেশন কর্মকর্তা থাকবেন।
কমিশন ভাড়াটিয়া ও বাড়ির মালিকদের মতামত শুনে প্রয়োজনে গণশুনানির মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন ভাড়া নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি দেশের ভাড়াটিয়া ও মালিকদের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে প্রতিকারেরও সুপারিশ করবে।
কমিশন যেসব সুপারিশ করবে, তা আইনি কাঠামোর রূপ না পাওয়া পর্যন্ত ১৯৯১ সালের বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়িভাড়া সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একজন করে নিয়ন্ত্রক, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রক ও উপ নিয়ন্ত্রক নিয়োগের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে রায়ে। সরকার ‘আর্থিক সক্ষমতা সাপেক্ষে’ এ উদ্যোগ নেবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।
ভাড়াটিয়াদের জোরপূর্বক উচ্ছেদ বা মালিকদের সঙ্গে ভাড়াটিয়াদের কোনো বিরোধ দেখা দিলে ভাড়াটিয়াদের স্বার্থ রক্ষায় সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর করার দাবিতে ২০১০ সালের ২৫ এপ্রিল মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) জনস্বার্থে রিট পিটিশনটি দায়ের করে।
রিট আবেদনে বলা হয়, বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনে ভাড়ার রসিদ ও বাড়ি ছাড়ার জন্য নোটিশ দেয়াসসহ বিভিন্ন বিধান থাকলেও বেশিরভাগ সময় বাড়ির মালিকরা সেটা পালন করছেন না। এমনকি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা অনুসারেও ভাড়া আদায় করা হচ্ছে না।
রিটে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন সচিব ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রসহ সংশ্লিষ্টদের রেসপনডেন্ট করা হয়।
প্রাথমিক শুনানি শেষে ওই বছরের ১৭ মে আদালত বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন কার্যকর প্রশ্নে রুল জারি করে আদালত।
রিট আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী মনজিল মোরসেদ সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি বলেন, রিট মামলাটি চলমান থাকবে। যেকোনো প্রতিকারের জন্য আবেদনকারীরা আবার আদালতের কাছে প্রতিকার চাইতে পারবেন।