September 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

'বিচার না পেয়ে অসহায় মানুষ বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছে'

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিচার না পেয়ে মানুষ অসহায় জীবন যাপন করছেন। বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছে এমন মন্তব্য করে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন,“শুধু ঢাকা শহর দিয়ে বিবেচনা করলে হবে না। আমরা যারা ঢাকা শহরে থাকি তারা কোনো রকম আছে। গ্রামের কথা চিন্তা করুন। তারা বিচার পাচ্ছে না। অসহায় জীবন যাপন করছেন। বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করছে। এয়ারপোর্ট থেকে যেতে না পেরে জাহাজে করে যেতে চেষ্টা করে এখানেও আওয়ামী লীগের দালাল ও পুলিশ জড়িত রয়েছে। সাগরে ভাসতে কোথাও জায়গায় পাচ্ছে না। বাংলাদেশেও তাদের জায়গা নেই। দেশের মানুষ বিদেশে গিয়ে মরছে। আর বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে।”

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হোটেল পূর্বানী ইন্টারন্যাশনালে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক দল ইসলামী ঐক্য জোটের ইফতার দোয়া ও মাহফিলে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

ইফতারের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়া বলেন, “দেশ আজকে কারাগারে পরিণত হয়েছে। সাধারণ মানুষ, বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীরা কারাগারে বন্দী। আর আওয়ামী লীগের লোকেরা যতই চুরি চামারি করুক তারা বহাল তবিয়তে আছেন।”

তিনি আরও বলেন, “বিচার বিভাগ দলীয়করণ করা হয়েছে। সুবিচার পাওয়া যায় না। বিএনপি ও ২০ দলের নেতাকর্মীদের জেলে পুড়ে মরতে হয়। সরকারে মন্ত্রীরা লুটপাট করছে তাদের এগুলো কী অপরাধ নয়? তারা আওয়ামী লীগের লোক বলে মাফ পেয়ে যায়। মহিলারা ঘরে বাইরে কোথাও নিরাপধ নয়। আমরা চাই দেশের মানুষ ভালো থাকুক, নিরাপদে থাকুক।”

তিনি আরও বলেন, ‘লুটপাট দুর্নীতির বিচারের ভয়ে নিবার্চন দিতে ভয় পায় আওয়ামী লীগ’। ক্ষমতাসীনরা এতো খুন খারাপি, লুটপাট করছে সে কারণে মানুষের ভয়ে নিবার্চন দিতে চায় না। তারা জানে নির্বাচন দিলে মানুষ কিভাবে প্রত্যাখ্যান করবে, সিটি করপোরেশন নিবার্চনে তা দেখিয়ে দিয়েছে।

ইসলামী ঐক্য জোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল লতিফ নেজামীর সভাপতিত্বে দোয়া ও ইফতার মাহফিলে জোট শরিকদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর আমিনুল ইসলাম, জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) শফিউল আলম প্রধান, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান সৈয়দ মুহাম্মদ ইব্রাহীম, বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব শাহদাৎ হোসেন সেলিম, বাংলাদেশ ন্যাপের মহাসচিব খন্দকার গোলাম মোস্তফা ভূইয়া, লেবার পার্টির মহাসচিব হামদুল্লাহ আল মেহেদী, এনডিপির মঞ্জুর হোসেন ঈসা, খেলাফত মজলিসের গোলাম আকবর, ইসলামী ঐক্য জোট নেতাদের মধ্যে অ্যাডভোকেট আবদুল লতিফ, মহাসচিব মুফতি ফয়জুল্লাহ  প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

ইফতারের আগে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।