June 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

‘বাসাবো খেলার মাঠ খেয়ে ফেলার পাঁয়তারা’

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সহ-সভাপতি সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার ও সরকারের মূলনীতি উপেক্ষা করে মাঠ খোররা বাসাবো খেলার মাঠ খেয়ে ফেলার পাঁয়তারা চালাচ্ছে।’

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি হলে শুক্রবার ‘বাসাবো বালুর মাঠে স্থাপনা নির্মাণ পরিকল্পনা’র প্রতিবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

বাপাসহ ৮টি সংগঠন এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। আয়োজক অন্য সংগঠনগুলো হল— বালুর মাঠ রক্ষা কমিটি, ব্লু প্লানেট ইনিসিয়েটিভ (বিপিআই), গ্রীন ভয়েজ, ডব্লিউবিবি ট্রাস্ট, নিরাপদ ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন, আদি ঢাকাবাসী ফোরাম এবং সুন্দর জীবন ও পিস।

আবুল মকসুদ বলেন, ‘শাসক শ্রেণীর লোকেরা নদী, হাট, ঘাট, সড়ক ও খেলার মাঠের জায়গার শতকরা ৯৯ ভাগ দখল করেছে। বাকি ১ ভাগ জায়গাও সরকারের লোকেদের আনুকূল্যে থাকা লোকজন দখল করে নিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এমপি সাহেবদের তুষ্ট করার জন্য কাণ্ডজ্ঞানহীনভাবে জনবহুল এলাকায় খেলার মাঠ ধ্বংস করে বিশেষায়িত বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অথচ জনবহুল এলাকায় ফাঁকা জায়গা থাকা অত্যন্ত জরুরি। খেলার মাঠ ছাড়া সুনাগরিকও তৈরি করা যায় না।’

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, ‘পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছে যে, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে রমনা পার্ক ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের জায়গাও স্কুল কলেজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘সরকারের বোধদয় না হলে উন্মুক্ত স্থান ও মাঠ রক্ষার জন্য নাগরিক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন, বাপার আলমগীর কবির ও বাসাবো বালুর মাঠ রক্ষা কমিটির সদস্য সচিব এবং রিটকারী হানিফ সহিদ, ধানমন্ডি খেলার মাঠ রক্ষার পক্ষের রিটকারী স্থপতি মোবাশ্বর হোসেন, ক্রীড়াবিদ গাজী আশরাফ লিপু ও বাপার যুগ্ম সম্পাদক স্থপতি ইকবাল হাবিব। উপস্থাপনা করেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক শরীফ জামিল।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে বাপার আলমগীর কবির বাসাবো বালুর মাঠ ও ঢাকা মহানগরসহ দেশের সকল খেলার মাঠ এবং পার্ক দখল মুক্ত রাখার জন্য ১০ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

রিটকারী হানিফ সহিদ বলেন, ‘পরিবেশবান্ধব এই সরকার ও প্রধানমন্ত্রীর আকাঙ্ক্ষাকে পদদলিত করে বাসাবো বালুর মাঠে স্কুল নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সরকারের বিশেষায়িত স্কুল-কলেজ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় এই মাঠটি ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ বিষয়ক কমিটির নেতা সাবের চৌধুরী তার নির্বাচনী এলাকায় এ ধরনের অপরিকল্পিত ও কাণ্ডজ্ঞান বর্জিত স্থাপনা নির্মাণ হতে দিতে পারেন না।’

সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার গেন্ডারিয়ায় ফজলুল হক মহিলা কলেজের গাছ কেটে নেওয়ার ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ ও সেখানে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলন শেষে সৈয়দ আবুল মকসুদের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি গ্যান্ডারিয়ার উদ্দেশে রওনা দেয়।