September 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির সময় আরও ৩ সপ্তাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক : একাদশ শ্রেণীতে ভর্তিতে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। এই জটিলতাকে ‘উন্নয়নের বেদনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, যারা এখনও ভর্তি হতে পারেননি তারা চার ধাপে আগামী ২১ দিন বা ২৬ জুলাই পর্যন্ত বিলম্ব ফি ছাড়া ভর্তি হতে পারবেন। রোববার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রণালয়ে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তি সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘এবার অনলাইনে একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির বিষয়টি বড় ও ব্যাপক। কিন্তু আমাদের প্রযুক্তিগত ক্ষমতা ও দক্ষতা সীমাবদ্ধ থাকায় এ বিশদ কর্মকাণ্ডে কিছুটা ত্রুটি হয়েছে। কেউ সঠিক প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারেননি, এক কলেজের জায়গায় অন্য কলেজের নাম চলে গেছে, এমনকি ছেলেদের কলেজে মেয়েদের নাম চলে গেছে। এমন অনেক ভুল-ত্রুটি হয়েছে। এ কারণে আমাদের যে সব শিক্ষার্থী, সম্মানিত অভিভাবক সমস্যায় পড়েছেন তাদের কাছে আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। আমাদের ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।’

তিনি বলেন, ‘এখনও যারা ভর্তি হতে পারেনি, তারা কোনো প্রকার বিলম্ব ফি ছাড়াই আগামী ৩ সপ্তাহের মধ্যে একাদশে ভর্তি হতে পারবে। চারটি পর্যায়ে এই ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ভর্তি জটিলতার জন্য কোনো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন না।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, চারটি ধাপে শিক্ষার্থীরা একাদশে ভর্তির সুযোগ পারবেন। এর মধ্যে ২৮ জুন ভর্তি পরীক্ষার প্রথম তালিকা প্রকাশ করা হয়। যারা ২৯ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত ভর্তি হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারেননি তারা আগামীকাল সোমবার (৬ জুলাই পর্যন্ত) ভর্তির আবেদন করতে পারবেন। ৭ থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত তারা ভর্তির সুযোগ পাবেন।

প্রথম ও দ্বিতীয় মেধা তালিকায় যেসব শিক্ষার্থী নির্বাচিত হননি বা নির্বাচিত হয়েও ভর্তি হননি তারা ৯ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত আবেদন এবং ১২ জুলাই পর্যন্ত ভর্তির সুযোগ পাবেন।

যেসব শিক্ষার্থী অনলাইনে আবেদন করেননি বা অসুস্থতাসহ অন্য কোনো কারণে ভর্তি হতে পারেননি তাদের বিলম্ব ফি ছাড়া ভর্তির সুযোগ দেওয়া হবে। এসব শিক্ষার্থী ১৩ থেকে ২১ জুলাই আবেদন করতে পারবে। বাছাই করে ২৩ জুলাই ভর্তির তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর ২৫ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত ভর্তির সুযোগ পাবে।

ভর্তি প্রক্রিয়ায় যে ত্রুটি, তার দায় নেবেন কি না- সাংবাদিকদের এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘এবারে যে ভর্তি প্রক্রিয়া, তা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত। সুতরাং এর দায় নেব না কেন! আমি এই সিদ্ধান্ত ‘ওন’ করছি।’

নাহিদ জানান, এবার নতুন পদ্ধতিতে ১১ লাখ ৫৬ হাজার শিক্ষার্থী একাদশে ভর্তিতে আবেদনের বিপরীতে রোববার পর্যন্ত নয় লাখ ২৩ হাজার ১০৫ জনের ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষাসচিব নজরুল ইসলাম খানসহ মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, এবারই প্রথমবারের মতো একাদশ শ্রেণীতে অনলাইন ভর্তি পদ্ধতি চালু করে সরকার। এ পদ্ধতি নিয়ে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় লাখ লাখ শিক্ষার্থী বিড়ম্বনা ও ভোগান্তির মধ্যে পড়ে। এরই মধ্যে প্রকাশিত একাদশ শ্রেণীর প্রথম মেধা তালিকায় ভর্তির সুযোগ পেয়েও দুই লাখ শিক্ষার্থী এখনও ভর্তি হতে পারেনি। অথচ শনিবার তাদের ভর্তির শেষ দিন ছিল।

একাদশে প্রথম মেধা তালিকায় ভর্তির জন্য ১০ লাখ ৯৩ হাজার ৩৭৪ শিক্ষার্থীকে নির্বাচিত করা হয়েছিল। দ্বিতীয় মেধা তালিকায় নির্বাচন করার কথা ছিল ৬২ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থীকে। তবে ফল প্রকাশের পর নানা জটিলতায় দ্বিতীয় মেধা তালিকার সঙ্গে আরও ৩০ থেকে ৪০ হাজার শিক্ষার্থী যোগ হবে বলে ধারণা করা হয়েছিল। কিন্তু শনিবার ভর্তির শেষ দিনে বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত দেখা গেছে, ৮ লাখ ৬১ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। রাত ১২টায় আরও কিছু শিক্ষার্থী যোগ হবেন। কিন্তু ধারণার চেয়ে ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় কয়েকগুণ বেড়ে যাওয়ায় তা নিয়ে উৎকণ্ঠায় রয়েছে ভর্তি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এর আগে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির ফল প্রকাশ নিয়েও বেশ জটিলতা সৃষ্টি হয়। কয়েক দফা পেছানোর পর ২৯ জুন ফল প্রকাশ করা হয়।