October 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

অ্যাম্বুলেন্সে ডাক্তারদের ঈদ শপিং!

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : রোগী পরিবহণের অ্যাম্বুলেন্সে করে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা দিনভর করলেন ঈদের কেনাকাটা।

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টায় হাসপাতাল থেকে বের হয়ে রংপুর বিভাগীয় শহরে শপিং শেষে অ্যাম্বুলেন্সটি হাসপাতালে পৌঁছে সন্ধ্যা ৭টার দিকে।

এদিকে অ্যাম্বলেন্স না পেয়ে দুর্ঘটনায় হাত ভেঙে যাওয়া হাতীবান্ধার চরহলদী বাড়ি গ্রামের শামছুল হক ট্রেনেই চড়ে যান রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

অ্যাম্বুলেন্সে করে কেনাকাটা করা হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তারা হলেন- হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. নাঈম হোসেন, ডা. আক্কাছুর রহমান, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট আনোয়ারুল ইসলাম, রুবেল হোসেন ও ওয়ার্ড বয় আক্তার হোসেন।

অ্যাম্বুলেন্সের চালক দবিয়ার রহমান  জানান, ডা. নাঈম হৃদরোগে অসুস্থতাবোধ করায় তাকে নিয়ে রংপুর যাওয়া হয়েছিল। তবে ডা. নাঈমের কাছ থেকে রংপুরের চিকিৎসকের ব্যবস্থাপত্র দেখতে চাইলে তিনি যৌন ও চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. লুৎফর রহমানের দেওয়া আক্তারুজ্জামান নামে এক রোগীর কাগজপত্র দেখান।

অ্যাম্বুলেন্সের ভেতরে রাখা শপিং ব্যাগগুলোর ব্যাপারে জানতে চাইলে ডা. নাঈম বলেন, রংপুর গিয়েছিলাম, তাই সবাই একটু কেনাকাটা করেছি মাত্র।

অ্যাম্বুলেন্সে বসে থাকা অপর চিকিৎসক ডা. আক্কাছুর রহমান  বলেন, আপনারা অনলাইনের সাংবাদিকরা লিখে কিছুই করতে পারবেন না। যা মন চায়, লিখে দেন। আমাদের গাড়িতে আমরা চড়েছি।

হাসপাতালে দীর্ঘক্ষণ অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় থেকে দুপুরের ট্রেনে রংপুর যাওয়া শামছুল হক মোবাইলে জানান, অ্যাম্বুলেন্সের অপেক্ষায় থেকে না পেয়ে কষ্ট করে ট্রেনেই রংপুর এসেছি। এ হাসপাতাল গরিব রোগীর জন্য নয়, টাকাওয়ালা আর ডাক্তারদের।

হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা হাসপাতালে থাকেন না বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

গত রোববার (৫জুলাই) চিকিৎসকের অবহেলায় আলমগীর হোসেন নামক এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ জনতা লাশ নিয়ে লালমনিরহাট বুড়িমারী মহাসড়ক ৪ ঘণ্টা অবরোধ করে হাসপাতাল ভাঙচুর করে। এরপরও সতর্ক হননি এ হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

পুরো হাসপাতাল ফাঁকা করে ৫জন চিকিৎসক-কর্মকর্তা অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে দিনভর ঈদের কেনাকাটা করলেন রংপুরে।

এ ব্যাপারে হাতীবান্ধা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রমজান আলী  জানান, ডা. নাঈম রংপুর যাওয়ার কথা বলে গেছেন। তবে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে সবাই একসঙ্গে যাওয়াটা ঠিক না।
বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।