September 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ঈদ স্পেশাল সার্ভিসে আড়াইশ ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীবাহী লঞ্চ !

বিশেষ প্রতিনিধি : সারা দেশে প্রায় আড়াইশ ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করছে। এর সঙ্গে রয়েছে নানা ধরণের যান্ত্রীকক্রটিযুক্ত নৌযান। অনেক ক্ষেত্রে এসব নৌযান বিশেষ ফিটনেস সনদ ও রুট পারমিটের মাধ্যমে চলাচলের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। যার মূলে রয়েছে সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তর এবং বিআইডব্লিউটিএর কিছু অসাধু কর্মকর্তা। আর এসব নৌযানই ঈদসহ বিভিন্ন সময়ে স্পেশাল সার্ভিসের নামে যাত্রী পরিবহন করে থাকে।

অভিযোগ রয়েছে, সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের (ডিজি শিপিং) দুর্নীতিবাজ সার্ভেয়াররা ন্যূনতম ১০ হাজার থেকে লাখ টাকা ঘুষের বিনিময়ে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চের ফিটনেস সনদ দিচ্ছেন। যা আবার পরিদর্শন ছাড়াই। যা ফলো করে চলাচলের জন্য রুট পারমিট ও সময়সূচি অনুমোদন করে থাকে বিআইডব্লিউটিএ।

সমুদ্র পরিবহন অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী একেএম ফখরুল ইসলাম বলেন, “নৌপথে অনেক ছোট ছোট যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল করছে। তবে এর সংখ্যা বর্তমানে অনেক কমে এসেছে। সরকারি নানা পদক্ষেপের কারণে এসব নৌযান মালিকরা তাদের নৌযান স্ক্রাপে পরিনত করেছে। তবে স্থানীয়ভাবে কিছু চলাচল করছে।”

তিনি বলেন, “এগুলো স্বল্প দূরত্বের নৌপথে চলাচল করছে। ওই পথে বড় আকারের লঞ্চ নেই। বিকল্প ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত এসব লঞ্চ বন্ধ করলে যাত্রী চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে।”

সরকারি হিসাব মতে, দেশের অর্ধশত নৌ রুটে ছোট-বড় যাত্রীবাহী লঞ্চের সংখ্যা সাড়ে ছয়শ। সমুদ্র পরিবহন অধিদফতর বেশ কয়েক বছর ধরে সানকেন ডেক (লঞ্চের নিচের ডেক নদীর পানির লেভেল বরাবর অথবা নিচে থাকে) বিশিষ্ট লঞ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এর সঙ্গে রয়েছে এক ইঞ্জিনচালিত দুই বা আড়াই তলা বিশিষ্ট শতাধিক লঞ্চ। যা ত্রুটিযুক্ত লঞ্চ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এ ধরনের নৌযানগুলো ঢাকা, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা, রাঙ্গামাটি, সিলেটসহ বিভিন্ন এলাকায় চলাচল করছে।

২০-৩০ মিটার দৈর্ঘ্যর যাত্রীবাহী এই নৌ যানগুলোর বেশিরভাগই ৭০-এর দশকে কাঠের লঞ্চ হিসেবে তৈরি করা হয়। পরে তা স্টিল বডিতে রূপান্তর করা হলেও প্রয়োজনীয় ড্রাফট সংরক্ষণ না করায় অল্প ধাক্কা বা উত্তাল ঢেউয়ের আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে উল্টে যায়। এসব লঞ্চ শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চলাচল করছে ছোট ছোট শতাধিক ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চ। তারপরেও প্রতিটি লঞ্চ বছরে একবার ফিটনেস স্বশরীরে উপস্থিত থেকে পরীক্ষা করার বিধান থাকলেও তা মানা হয় না।

ঈদে ভাঙা লঞ্চ জোড়াতালি
অন্যবারের মতো আসন্ন ঈদে ঝুঁকিপূর্ণ লঞ্চগুলো অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং বাড়তি ট্রিপের আয়োজন সম্পন্ন করছে। ভাঙা লঞ্চ জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করা হচ্ছে। চলছে ভাঙা অংশসহ বাইরের দিকে নতুন রং ও ঝালাইয়ের কাজ। নতুন ফার্নিচার ও ডেকোরেশনে সাজানো হচ্ছে। একইসঙ্গে চলছে সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে প্রয়োজনীয় অনুমতিপত্র সংগ্রহের কাজ।

লঞ্চ মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-চলাচল (যাপ) সংস্থার  ভাইস প্রেসিডেন্ট বদিউজ্জামান বলেন, “ছোট যাত্রীবাহী নৌ যান চলাচলের উপর মালিকদের নিষেধ করা হয়েছে। আগের তুলনায় মালিকরা আরো সচেতন। দুর্ঘটনায় জানমালের ক্ষয় ক্ষতির সঙ্গে সঙ্গে মালিকরাও পথে বসে যাবার কারণে অনেক ত্রুটিপূর্ণ নৌ যানও আমরা চলাচল থেকে বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” আর অবৈধভাবে কোনো নৌ যান পরিচালনার সুযোগ নাই বলেও জানান তিনি।

সার্ভে সনদে অবৈধ লেনদেন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সবক্ষেত্রে নয়, কিছিু কিছু ক্ষেত্রে এটি হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি জনবল কম হওয়ার কারণে হয়ে থাকে। তারা জেনেছেন সমুদ্র পরিবহণ অধিদপ্তরে সার্ভেয়ার ও পরিদর্শকদের পদ বাড়াতে একটি প্রাবনা অনুমোদন করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। অর্থমন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পরেই নিয়োগ দেওয়া হবে।” তারপরেই নৌ যান সার্ভেসহ নানা সমস্যার সমাধান হবে বলেও জানান তিনি।

স্পেশাল লঞ্চ সার্ভিস চালু ১৪ জুলাই
ঈদের যাত্রীদের হয়রানি কমাতে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস শুরু হবে আগামী ১৪ জুলাই থেকে। ঈদ উপলক্ষে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে যাত্রী হয়রানি কমানোর পাশাপাশি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার জন্য সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

ঈদের সপ্তাহখানেক আগেই বন্দর সমন্বয় কমিটি মনিটরিং কার্যক্রম চালু করবে। প্রত্যেকটি লঞ্চে দক্ষ মাস্টার ও চালকের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি তাদের নির্ধারিত পোশাক পরতে হবে। লঞ্চে পর্যাপ্ত পরিমাণ জীবন রক্ষাকারী সরঞ্জাম রাখতে হবে। মাঝ নদীতে নৌকা দিয়ে যাত্রী ওঠানামা করা যাবে না। লঞ্চের ছাদে যাত্রী নেওয়া যাবে না।

এছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিত্তরঞ্জন এভিনিউ হয়ে টার্মিনাল পর্যন্ত রাস্তা সার্বক্ষণিক একমুখী রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।