June 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

একরাতের বৃষ্টিতে ডুবে গেছে সীতাকুণ্ডের নিম্নাঞ্চল

চট্টগ্রাম সংবাদদাতা : চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত এক রাতের টানা বর্ষণে জনজীবনে আবারো নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। ইতিমধ্যে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে নিম্নাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। তলিয়ে গেছে হাজার হাজার একর ফসলি জমি।

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে বুধবার সন্ধ্যা থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত টানা বৃষ্টিতে সীতাকুণ্ডের নিম্নাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকার বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েন এলাকার বাসিন্দারা। এদিকে টানা বৃষ্টির কারণে সড়কে পানি উঠে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার সকালে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা গেছে, উপকূলীয় বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের আকিলপুর, বোয়ালিয়াকূল, জমাদার পাড়া, কুমিরা কাজী পাড়া, সমাদ্দার পাড়া, সোনারপাড়া, বাড়বকুণ্ডু, বারৈয়াঢালা ও সৈয়দপুর ইউনিয়নের অন্তরখালী, ব্রিকফিল্ড, পিছের মাথা, শেখেরহাট, মাদেরদারী উপকূলীয় গ্রামের রাস্তাঘাট, ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে।

শিবপুর এলাকার বাসিন্দা জামাল সর্দার জানান, বুধবার ইফতারির পর থেকে শুরু হওয়া এ বৃষ্টি সন্ধ্যার দিকে থেমে থেমে হলেও রাত বাড়ার পর টানা ভোররাত পর্যন্ত হতে দেখা গেছে। এতে বিশেষ করে নিম্নাঞ্চল এলাকাগুলোর রাস্তাঘাট ও বাড়িতে হাঁটু পরিমাণ পানি হওয়ায় যান চলাচলসহ আনুষাঙ্গিক কাজ করতে চরম দুর্ভোগে পড়েছে এলাকাবাসী। এতে অনেকের ঠিকমতো রান্নাবান্না করাটাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

অন্তরখালী এলাকার কৃষক মো. আইয়ুব খান বলেন, “এতদিন ধরে পানির জন্য আল্লাহ আল্লাহ করলাম। জমিতে চাষের জন্য পানি ছিল না তাই পানির জন্য প্রার্থনা করলাম। এখন তো উল্টোটা হয়ে গেল। এতদিন পানির অভাবে চাষ করতে পারিনি আর এখনতো হবেই না। কারণ সবকিছু পানিতে তলিয়ে গেছে।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ শাহীন ইমরান বলেন, “বুধবার রাতের টানা বৃষ্টির কারণে আবারো নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে গেছে। আমরা আশপাশের এলাকায় খোঁজখবর নিয়েছি। কোথাও কোনো ধরনের হতাহতের খবর এখনো পর্যন্ত পাইনি। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কিছুটা দুর্বল হওয়ায় পানি নামতে সময় লাগছে।