September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

এক হচ্ছে দুই ট্রাইব্যুনাল !

আদালত প্রতিবেদক : মাসখানেকের মধ্যেই পাল্টে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাঠামো। শিগগিরই ট্রাইব্যুনালের দুটি বেঞ্চ ভেঙে একটি বেঞ্চ গঠন করা হবে। এর মাধ্যমেই বাকি মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার পরিচালনা করা হবে। প্রসিকিউশন ও আইনমন্ত্রণালয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলছেন, অনেকদিন থেকেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কিন্তু চলমান মামলাগুলো একটা পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত একটি ট্রাইব্যুনাল করে ফেলা সম্ভব হচ্ছিল না। তবে বিষয়টি যেন শিগগির করা যায় সেটা বিবেচনায় আছে। তিনি আরও বলেন, এতে অন্যান্য কর্মচারী বা কর্মকর্তাদের ওপর কোনও প্রভাব পড়বে না। এমনকি প্রসিকিউশনেও কোনও রদবদল আসবে না।

সূত্র জানায় নতুন ট্রাইব্যুনালে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগ হতে পারে। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনাল ১-এর বিচারপতি আনোয়ারুল হক ও ট্রাইব্যুনাল-২ এর দ্বিতীয় সদস্য বিচারপতি শাহীনুর ইসলাম থাকতে পারেন বলে জানা গেছে।

নতুন ট্রাইব্যুনাল সম্পর্কে জানা না থাকলেও কেন এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, আমার আসলে জানা নাই একটা ট্রাইব্যুনাল হচ্ছে কিনা। তবে প্রথমসারির নেতাদের বিচার সম্পন্ন হওয়ায় এখন একটা ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমেই মামলা পরিচালনা হবে।

এ বিষয়ে প্রধান প্রসিকিউটর বলেন, সরকার যদি মনে করেন একটা ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে বিচার পরিচালনা সম্ভব তাহলে সেটা তাদের সিদ্ধান্ত। কিন্তু প্রসিকিউশন টিমে কোনও পরিবর্তন আসছে না। তিনি বলেন, মামলার গতি এখন অনেক বেড়েছে। জরুরি অনেক বিষয়ে এখন ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ায় সময় কম লাগে এখন। ফলে একটা ট্রাইব্যুনালে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব বলেও তিনি মনে করেন।

২০১০ সালের ২৫ মার্চ পুরাতন হাইকোর্ট ভবনে স্থাপন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আর ট্রাইব্যুনালে মামলার সংখ্যা বেড়ে যাওয়া ও দ্রুত মামলার কাজ নিষ্পত্তি করার লক্ষ্যে ২০১২ সালের ২২ মার্চ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন করা হয়।

ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৭টি মামলায় ১৮ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। দুই জনের রায় কার্যকর করা হয়েছে। আরেকজনের চূড়ান্ত রায় হয়েছে, পূর্ণাঙ্গ রায়ের অপেক্ষায় আছে। ২ জন যুদ্ধাপরাধী সাজা ভোগরত অবস্থায় এবং একজন মামলা চলাকালীন অবস্থায় মারা যায়।

তবে এই ট্রাইব্যুনাল কমিয়ে আনার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানান ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহরিয়ার কবীর। তিনি বলেন, আমরা চাই আরও সংখ্যা বাড়িয়ে তৃণমূল পযন্ত যতজন রাজাকার আলবদর আছে সবার দ্রুত শাস্তি হোক। ট্রাইব্যুনাল কমিয়ে আনলে বিচারের গতি কমতে বাধ্য। এ অবস্থায় এই সিদ্ধান্ত হীতে বিপরীত হতে পারে।