September 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

কামরুলকে ১২ লাখ টাকার রফায় ছেড়ে দেয় এসআই আমিনুল

সিলেট প্রতিনিধি : টাকার বিনিময়ে শিশু রাজন হত্যার আসামি কামরুল ইসলামকে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এসআই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। জানা যায়, কামরুলকে ছেড়ে দিতে আমিনুলের সাথে ১২ লাখ টাকায় রফা হয়েছিল। সাথে সাথে ছয় লাখ টাকা দেওয়া হয় তাকে। বাকি টাকা সৌদি আরব পৌঁছে দেওয়ার কথা ছিল কামরুলের। এ কারণে তাকে মামলার প্রধান আসামি করেননি এসআই আমিনুল ইসলাম। প্রধান আসামি করা হয় মুহিত আলমকে। প্রথমে দুই জনকেই ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছিল। কিন্তু টাকার বিনিময়ে কামরুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পুলিশ বাদি হয়ে অজ্ঞাত হিসেবে মামলা দায়ের করে।

ভিডিওতে শিশু রাজন হত্যার সঙ্গে জড়িত লাঠি হাতে কালো টি-শার্ট পরা যার ছবি দেখা যায় তিনিই কামরুল। প্রাথমিক তথ্য বিবরণীতে পুলিশ বাদি হয়ে করা মামলার অভিযোগকারী জালালাবাদ থানার এসআই আমিনুল ইসলাম প্রধান আসামি করেন মুহিত আলমকে। যে পেশায় একজন মাইক্রোবাসের চালক এবং রাজনের লাশ তার গাড়িতে করে নদীতে ফেলে দেওয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল।

সিলেট জেলা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুজ্জামান পাপলু বলেন, স্থানীয় জনগণ দুপুর ১২টায় রাজনের লাশ এবং মুহিত-কামরুলকে ধরে এসআই আমিনুলের কাছে হস্তান্তর করে। গাড়ির চালক মুহিত আলম সবকিছু তাদের খুলে বলে নাই এটা বিশ্বাস করি না। এমনকি মুহিত আলম রাজনকে চিনতো। ভালো করে চিনত তার বাবাকেও।

কিন্তু এসআই আমিনুল জনগণের সাহায্য পাওয়ার পরও রাজনের লাশ বেওয়ারীশ হিসেবে মর্গে পাঠিয়ে দেয়। পাপলু আরও জানান, রাজনের বাবা ছেলেকে সারাদিন খুঁজতে খুঁজতে রাত ১০টায় থানায় জিডি করতে গেলে খবর পান ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু পুলিশের কাছে মুহিত-কামরুল আটক থাকার পরও কামরুলকে ছেড়ে দেওয়া এবং বেওয়ারিশ হিসেবে রাজনকে মর্গে দেওয়া একটা বিষয়কেই ইঙ্গিত করে। তা হলো অনৈতিক লেনদেন।

জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন এ বিষয়ে সোমবার রাতে বলেন, সেদিন আমি স্টেশনে ছিলাম না। ফলে কি হয়েছে পুরো বলতে পারব না। তবে এরকম একটি অভিযোগ শুনতে পাচ্ছি। কেউ যদি এ বিষয়ে কোন অভিযোগ করেন তবে আমরা তদন্ত করব।

তিনি আরও জানান, মামলাটি এখন তদন্ত করছেন ওসি আলমগীর হোসেন।