September 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

জেনে নিন পিঁপড়া বিদ্যা!

ডেস্ক প্রতিবেদক : গ্রাম বা শহর, সমতল বা পাহাড় যেখানেই থাকুন কোনো না কোনো স্থানে পিঁপড়ার দেখা মিলবেই। আকৃতিতে অতি ছোট হলেও পিঁপড়াদের রয়েছে অনন্য কিছু বৈশিষ্ট। যেমন পিঁপড়া তার দেহের ওজনের চেয়ে দশগুণ বেশি ভার বইতে পারে। তাদের রয়েছে ছয়টি পা আর খাবার খুঁজে বের করার জন্য অসাধারণ ঘ্রাণশক্তি।

ক্ষুদে এই প্রাণীটি কামড়ে দিলে যে কোনো আজদাহা লোকও আহা-উহু করে চিৎকার জুড়ে দেন। পিঁপড়ার আক্রমনের ভয়ে অনেকেই তটস্থ থাকেন। ঘরে মিস্টি বা টক সুগন্ধি খাবার তাদের নাগালের বাইরে রাখতে হিমশিম খান কেউ কেউ। পাঠকদের জন্য এমন দস্যি প্রাণী পিঁপড়া সম্পর্কে দশটি মজার তথ্য-

সর্ব বৃহৎ মস্তিষ্কের অধিকারী: পোকামাকড়দের মাঝে সবচেয়ে বড় মস্তিষ্কের অধিকারী হল পিঁপড়া। অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় এদের মস্তিষ্কে প্রায় ২৫০,০০০ টি কোষ বেশি রয়েছে।

পিঁপড়ার কোনো কান নেই: মানুষের মতো পিঁপড়ার কিন্তু কান নেই! তাহলে এরা শোনে কিভাবে? ওদের হাঁটু আর পায়ে আছে বিশেষ সেন্সিং ভাইব্রেশনস। যার মাধ্যমে তারা আশেপাশের পরিস্থিতি বুঝতে পারে।

পিঁপড়ার পাকস্থলী দুইটি: আমাদের এতো বড় শরীরে একটি পাকস্থলী থাকলেও পিঁপড়ার ছোট শরীরে কিন্তু পাকস্থলী রয়েছে দুইটি!

ants-b20150712225902

পিঁপড়ারা সবচেয়ে বড় উপনিবেশ তৈরি করতে পারে: ধারণা করা হয় যে পিঁপড়েদের করা সবচেয়ে বড় উপনিবেশ ছিলো প্রায় ৩,৬০০ মাইল দৈর্ঘের। এই উপনিবেশ ইতালি, ফ্রান্স, স্পেনের মতো বড় দেশগুলোর উপর দিয়েই গিয়েছে। আর এই উপনিবেশ তৈরি করে আর্জেন্টিনার একটি পিঁপড়ার প্রজাতি।

কিছু পিঁপড়া যৌন কর্মকাণ্ড ছাড়াই প্রজনন ঘটায়: পিঁপড়ার কিছু প্রজাতি রয়েছে যাদের বংশবিস্তার করতে যৌন প্রজনন প্রয়োজন হয় না। বিশেষ এক ক্লোনিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এরা বংশবিস্তার করে। নিষিক্ত ডিম নারী পিঁপড়ার দেহে বেড়ে উঠে আর অনিষিক্ত ডিম বেড়ে ওঠে পুরুষ পিঁপড়ের দেহে।

সব জায়গায়ে এদের বিচরণ: পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই রয়েছে পিঁপড়ার বিচরণ ও আবাস। কেবলমাত্র এন্টার্টিকা এবং এ ধরনের কয়েকটি জায়গায় পিঁপড়া নেই। পিঁপড়া প্রায় যে কোনো বসতিতে বেড়ে ওঠতে করতে পারে। এরা ভূমিগত বায়ো মাসের প্রায় ১৫-২৫% গঠন করে। তাদের এই সাফল্যের কারণ হলো তাদের সামাজিক সংগঠন, দ্রুত বাসস্থান পরিবর্তনের ক্ষমতা, রসদ জোগাড় করার দক্ষতা এবং নিজেদের রক্ষা করার পারদর্শিতা।

বন্যায় দিব্যি বেঁচে থাকতে পারে: পিঁপড়াকে মারার জন্য আমরা সাধারণত পানির আশ্রয় নেই। অথচ জেনে অবাক হবেন পিঁপড়ারা দিব্যি বন্যায় বেঁচে থাকতে পারে। পিঁপড়েরা এক বিশেষ প্রক্রিয়ায় শ্বাসের কাজ চালায়। খুব বেশি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে এরা শ্বাস বন্ধ করেও রাখতে পারে। এমনকি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ডুব দিয়েও বেঁচে থাকতে পারে!

সবচেয়ে বড় পিঁপড়া: সবচেয়ে বড় পিঁপড়াগুলো সাধারণত ৩ থেকে ৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। তবে পুর্বে যে সব পিঁপড়া ছিলো তাদের কিছু কিছু ৬ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা ছিল বলে পিঁপড়া বিশারদরা জানান।

এসিড ছুঁড়ে আত্মরক্ষা: কিছু পিঁপড়া নিজেদের আত্মরক্ষার জন্য এসিড ছুঁড়ে দেয়! আমাজনের কিছু পিঁপড়ার প্রজাতি প্রতিকূল পরিস্থিতিতে নিজেদের বাঁচাতে ফর্মিক এসিড ছুঁড়ে!

ধর্মগ্রন্থে পিঁপড়ার সম্মান: জানেন কি পবিত্র বাইবেলে পিঁপড়াদের জ্ঞানী বলা হয়েছে। বাইবেলে আছে, ‘তুমি অলস হলে পিঁপড়ার কাছে যাও। তার উপায় বিবেচনা কর এবং জ্ঞানী হও’। পিঁপড়াদের সাধারণত পরিশ্রমী ও অধ্যাবসায়ের উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।