September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

৯৯ শতাংশ কারখানায় বেতন-বোনাস হয়েছে: বিজিএমইএ

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদুল ফিতরে তৈরি পোশাক খাতের ৯৯ শতাংশ কারখানা শ্রমিকদের বেতন-বোনাস কোনো রকমের বড় ঝামেলা ছাড়াই দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেছে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ।

বৃহস্পতিবার সংগঠনের কার্যালয়ে ‘বর্তমান শ্রম পরিস্থিতি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বিজিএমইএর সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম এ দাবি করেন। সফলভাবে এ কার্যক্রম সম্পূর্ণ করতে পারায় সংশ্লিষ্ট সকলকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন তিনি।

আতিকুল ইসলাম বলেন, “পূববর্তী বছরের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে পোশাক শিল্পখাতের শ্রমিক ভাই-বোনেরা যাতে এবারও ঈদ-উল-ফিতর আনন্দের সাথে উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে উদ্যোক্তারা কষ্ট করে হলেও শ্রমিক ভাই-বোনদের যথাযথ পাওনাদি পরিশোধ করার সর্বাত্মক চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। এ জন্য আমি উদ্যোক্তা ও শ্রমিক ভাই-বোনদেরকে ধন্যবাদ জানাই। আনন্দের বিষয় যে, আল্লাহ তায়লার অসীম মেহেরবানীতে ৪৪ লাখ শ্রমিক ভাই-বোন অধ্যুষিত পোশাক শিল্পের প্রায় ৯৯ শতাংশ কারখানায় কোনো রকমের বড় ঝামেলা ছাড়াই বেতন-বোনাস প্রদান করা সম্ভবপর হয়েছে।”

বিজিএমই সভাপতি বলেন, “বিভিন্ন সংস্থা থেকে প্রাপ্ত এবং সম্ভাব্য শ্রম অসন্তোষ হতে পারে এরকম ১৫০০ ছোট ও মাঝারি আকারের কারখানাকে ক্লোজ মনিটরিং এর আওতায় আনা হয়েছিল এবং সমস্যার ধরন বুঝে সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছিল। যার ফলাফল হলো-পরিদর্শনকৃত কারখানা ১৪৮৯টি; জুন মাসের বেতন পরিশোধ করেছে ১৪৮৭টি; ঈদ বোনাস পরিশোধ করেছে ১৪৮৩টি; জুলাই মাসের আংশিক বেতন পরিশোধ করেছে ৩১৫টি এবং ২টি কারখানার বেতন পরিশোধ প্রক্রিয়াধীন আছে। ঈদ উপলক্ষে বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায় ৩৫টি কারখানায় সমস্যা সমাধান করেছে।

বিজিএমইএ নেতারা জানিয়েছেন, বেতন ভাতা পরিশোধ বিষয়ে ১৫-০৭-২০১৫ তারিখ পর্যন্ত সর্বশেষ অবস্থা হচ্ছে, জুন ১৫ তারিখ পর্যন্ত বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ৯৯ শতাংশ কারখানার; ঈদ বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে ৯৫ শতাংশ; জুলাই ১৫ মাসের ৭/১০ দিনের বেতন পরিশোধ করা হয়েছে ৬৭ শতাংশ; বিজিএমইএর তথ্য মতে, ৪টি (সোয়ান গার্মেন্টস ছাড়া) কারখানায় বেতন ভাতা পরিশোধ প্রক্রিয়াধীন আছে।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সরকারও সোয়ান গার্মেন্টস বিষয়ে কাজ করছে। সোয়ান গার্মেন্টস বিষয়ে একটি পৃথক প্রতিবেদন দেয়া হবে।”

নিজেদের পূর্বপ্রস্তুতি বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, “ঈদের আগে শ্রমিকরা যাতে সুষ্ঠুভাবে বেতন ভাতাদি পায়, সে লক্ষ্যে সরকার এবং আমরা মিলে অগ্রীম প্রস্তুতিমুলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। এর আওতায় ঢাকা ও আশপাশের প্রায় ৩ হাজার পোশাক কারখানার জন্য বিজিএমইএর সহসভাপতিকে (অর্থ) কেন্দ্রীয়ভাবে প্রধান সমন্বয়কারী করে ঢাকা, গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া এবং নারায়ণগঞ্জকে মোট ১৫টি অঞ্চলে ভাগ করে মোট ১৫টি আঞ্চলিক/জোন ভিত্তিক কমিটি গঠন করেছি। প্রতিটি কমিটিতে বিজিএমইএর একজন করে পরিচালক, একইসঙ্গে পোশাক মালিক এবং বিজিএমইএ কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে প্রতিনিয়ত পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছেন।”