September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আবারও সংশোধন হচ্ছে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন

বিশেষ প্রতিনিধি : অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইনটি পুনরায় সংশোধনী আনার কাজ করছে ভূমি মন্ত্রণালয়। আইনটি প্রণীত হওয়ার ১৪ বছরে ছয়বার সংশোধন হয়েছে। এখন আরও একবার সংশোধনী আনা হচ্ছে। তা আনার জন্য সংশোধনী প্রস্তাবেও সমস্যা রয়ে যাওয়ায় তা মন্ত্রিপরিষদ থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে ছয়বার সংশোধনী করে আইনটির সংশোধন করা হয়েছে। এবার সপ্তমবারের মতো সংশোধন করে পাঠানো হয়, তবে অর্পিত সম্পত্তি সপ্তমবার সংশোধনী আনার জন্য সংশোধনীযোগ্য কী কী সমস্যা রয়েছে তা সব শেষ করে পাঠাতে বলা হয়। অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ সম্পত্তি আইনে বার বার সমস্যার কারণে প্রানমন্ত্রীও বিষয়টি সহজভাবে নিচ্ছেন না।

ভুমি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ২০০১ সালে ওই সময়ে আওয়ামী লীগ সরকার অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন প্রণয়ন করে। এরপর বিএনপি ক্ষমতায় আসলে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় আইন ওই ভাবেই রয়ে যায়। আবারও আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হওয়ার পর ২০১১ সালে  অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ (সংশোধন) আইন-২০১১ জারি করে। আইনটি সংশোধন করার পর বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পরে ২০১২ সালে আইনটি পুনরায় সংশোধন করা হয়। সংশোধনী আনার পরও সমস্যা থেকে যাওয়ার কারণে ২০১২ সালে আবারও আইনটি সংশোধন করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয় ২০১২ সালে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন পরপর দুইবার সংশোধন করে। এরপরও সমস্যা রয়েই যায়। তাতে আইনি জটিলতাও ধরা পড়ে। ২০১৩ সালে পর পর দুবার আইনটি সংশোধন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ছবার আইনটি সংশোধন করা হয়। ভূমি মন্ত্রণালয় এখন অন্যান্য যে সব সমস্যা রয়েছে সেগুলো চিহ্নিত করে আগামী দিনে যাতে আবার নতুন করে সংশোধনী আনতে না হয়, সেই জন্য কাজ করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ভূমি মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, এই আইন করতে গিয়ে যারা এরসঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন তাদের সততা, যোগ্যতা এবং দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তাদের নেই প্রশিক্ষণ, জরিপসহ নানা কাজ তারা ঠিকভাবে করতে পরেনি। বারবার আইনটি সংশোধন করার পরও সমস্যা থেকেই যাচ্ছে। অর্পিত সম্পত্তির বড় একটি রয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রভাবশালীদের দখলে। তারা চাইছে না এর নিরসন হোক। নিরসন হলে অনেককেই সম্পত্তি ছাড়তে হবে। আবার নতুন করে কিছু জমি সংযোজন ও বিয়োজন হবে।

তিনি আরও জানান, জেলা প্রশাসকদের বার বার বলার পরেও পূর্ণাঙ্গ অর্পিত সম্পত্তির তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে পারেনি।  ক-তফসিলিভুক্ত প্রায় ২ লাখ, বাতিল হওয়া,  খ-তফসিলিভুক্ত প্রায় ৭ লাখ একর অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে। এই আইনে ভবিষ্যতে যাতে কোনো সমস্যা না হয়, এ কারণে সংশোধনের বিষয়গুলো নিয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়কে আইন মন্ত্রণালয়ের পরামর্শ নিয়ে কাজ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয় সূত্র আরও জানায়, ২০০১ সালে করা অর্পিত সম্পত্তি আইনে সংশোধনী প্রস্তাবে বলা হয়, অর্পিত সম্পত্তি আইনের ক-তফসিলে প্রকাশের সময় কম ছিল, এই কারণে অনেক জেলায় কিছু সম্পত্তি ক-তফসিল থেকে বাদ পড়েছে। এটা ভুল হয়েছে। এরপর পরবর্তী সময় যতবারই আইন সংশোধন করা হয়েছে, ততবারই জেলা প্রশাসকরা ক-তফসিলে বাদ পড়া সম্পত্তি রয়েছে এমনটাই ভূমি মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়কে এ পর্যন্ত ৫৪ জন ডিসি ক-তফসিলে গেজেটে প্রকাশ হয়নি এমন সরকারি সম্পত্তি রয়েছে বলে জানান। এই কারণেই তফসিলবহির্ভূত সম্পত্তি ক-তফসিলের অন্তর্ভুক্ত করে আবারও নতুন তালিকা প্রকাশ করার কথাও মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সেই কর্মকর্তা আরও বলেন,  ক তফসিল থেকে বাদ পড়ার তালিকায় নতুন করে প্রায় ৬ হাজার একর সম্পত্তি যুক্ত হবে। অপর দিকে তালিকা থেকে বাদ পরতে পারে ১০ হাজার একর সম্পত্তি। তার পরেও মন্ত্রণালয় চাইছে ভালোভাবে কাজ করতে। যাতে ভবিষ্যতে আর এই আইন সংশোধন করতে না হয়। এজন্য এই কাজে সংশ্লিষ্ট সবাইকে প্রশিক্ষণ দিয়ে প্রস্তুত করার পাশাপাশি মনিটরিং ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ হাবিবুল করিম চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পণ আইনের সংশোধনী নিয়ে কাজ করছি। এছাড়া তিনি আর কোনো কথা বলতে রাজি হননি।