October 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ছিটমহল জনগণনার চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ মঙ্গলবার

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি : বাংলাদেশের ১১১টি ছিটমহলের রিপোর্ট মঙ্গলবার রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের নিকট জমা দেওয়া হবে। সেখানে একটি বিশেষ সফটওয়্যারের মাধ্যমে জনগণনার চূড়ান্ত রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে।

বাংলাদেশ-ভারতের ভেতরে থাকা ১৬২ ছিটমহলের যৌথ জনগণনা ১৬ জুলাই সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার বিকেলে ভারতের চ্যাংরাবান্দায় দু’দেশের যৌথ জরিপ দল বৈঠক করে ছিটমহলের জনগণনার রিপোর্ট প্রস্তুত করবেন। রিপোর্ট তৈরির পর রাতেই সংশ্লিষ্ট জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তার নিকট হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ অংশের সভাপতি মোহাম্মদ মঈনুল হক বলেন, ‘আজ রাতে (সোমবার) আমরা এ তালিকা জেলা প্রশাসক মহোদয়ের কাছে জমা দেব। জেলা প্রশাসক আবার সে তালিকা বিভাগীয় কমিশনার দেলোয়ার বখত্-এর কাছে পাঠাবেন। তিনি আগামীকাল (মঙ্গলবার) সেটি প্রকাশ করবেন।’

জানা গেছে, যৌথ সমীক্ষার ১১ দিনে বাংলাদেশের ভেতরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলের প্রায় ১ হাজার ৩শ’ জন বাসিন্দা ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করেন। জনগণনার শেষ দিনে এসে প্রায় ৩শ’ জন তাদের মত পরিবর্তনের আবেদন করেন।

ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ জানান, প্রাথমিকভাবে এসব ছিটমহল থেকে ১ হাজার ২৭ জন বাসিন্দা মূল ভূখণ্ড ভারতে যেতে ইচ্ছা পোষণ করেছে। অন্যদিকে ভারতের ভেতরে বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের কোন বাসিন্দাই ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদন করেননি। এসব ছিটমহল আগামী ৩১ জুলাই মধ্যরাত থেকে মূল ভূখণ্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে বিনিময় সম্পন্ন হবে।

১৯৭৪ সালের চুক্তি অনুযায়ী এ সমীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ হবে কে কোন দেশের নাগরিক হতে চায়। নাগরিকত্ব পরিবর্তনে মতামত দেওয়া মানুষগুলো আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত নাগরিকত্ব পরিবর্তনের সুযোগ পাবেন। হালনাগাদ কার্যক্রমে ২০১১ সালের পর ছিটমহলে জন্ম নেওয়া শিশু ও বৈবাহিক সূত্রে ছিটমহলের বাসিন্দাদের এই সমীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও ভারতের ভেতরে ১৬২টি ছিটমহলে ৭৫টি টিম দু’দেশের যৌথ সমীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ভারতের ভেতরে ২৫টি ও বাংলাদেশে ৫০টি টিম দায়িত্ব পালন করে। প্রতি টিমে একজন বাংলাদেশী ও একজন ভারতীয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।