September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

অবৈধভাবে আসছে মাস্টারকার্ড, অপরাধে ব্যবহারের শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমতি নিয়ে নির্দিষ্ট এজেন্টদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ডেবিট-ক্রেডিট কার্ড আমদানি করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু একটি চক্র নিয়মনীতি না মেনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে অবৈধভাবে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড (মাস্টারকার্ড) নিয়ে আসছে।

অবৈধভাবে আসছে মাস্টারকার্ড, অপরাধে ব্যবহারের শঙ্কা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধভাবে আসা কার্ড বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করা হতে পারে।

কাস্টমস সূত্র জানায়, চক্রটি গত তিন মাসে অবৈধভাবে প্রায় ১৩ হাজার ক্রেডিট ও ডেবিট (পে-ওনার) কার্ড বাংলাদেশে নিয়ে এসেছে। তারা দরজা খোলার ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ সংবলিত কার্ডের নমুনা দেখিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে বাংলাদেশে নিয়ে আসে।

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গত ১ জুন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসা প্রায় তিন হাজার মাস্টারকার্ড জব্দ করে ঢাকা কাস্টমস হাউসের প্রিভেনটিভ টিম।

কার্ডগুলো চট্টগ্রামের মোরশেদ আলী, লিয়াকত আলী ও মাহা আকতারের নামে আসে। ভিন্ন ভিন্ন ঠিকানা উল্লেখ করা হলেও তারা মূলত একই পরিবারের সদস্য।

এ বিষয়ে ঢাকা কাস্টমস হাউসের সহকারী কমিশনার মো. শহিদুজ্জামান সরকার দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘জুন মাসের শুরুতে প্রায় তিন হাজার মাস্টারকার্ড বাংলাদেশে আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে আমরা কার্ডগুলো জব্দ করি।’

তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে মাস্টারকার্ডগুলো বাংলাদেশে আনার সময় তারা কার্টনের ওপর ম্যাগনেটিক স্ট্রিপ সংবলিত দরজা খোলার প্লাস্টিক কার্ড বলে উল্লেখ করে। একটি সিএ্যান্ডএফ এজেন্ট সেগুলো দরজা খোলার কার্ড বলে দাবি করে। চ্যালেঞ্জ করা হলে সিএ্যান্ডএফ এজেন্টের ওই কর্মকর্তা পরিস্থিতি বুঝে পালিয়ে যান। এর পর আর কেউ কার্ডগুলো নিতে আসেননি।’

শহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা বিষয়টি দুটি গোয়েন্দা সংস্থাকে জানিয়েছি। তারা বিষয়টি তদন্ত করছে।’

তিনি বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমাদের কাছে তথ্য আসে। জঙ্গি ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং অবৈধ কাজে ব্যবহারের জন্য দেশের বাইরে থেকে যে সব অর্থ আসে সেগুলো এ ধরনের কার্ডের মাধ্যেমে এসে থাকে। এ খবর পাওয়ার পর আমরা সোর্স নিয়োগ করি। সোর্স আমাদের তথ্য দেয় ওই চালানে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কার্ড আসছে। অভিযান চালিয়ে আমরা তিন হাজার কার্ড জব্দ করি। ধারণা করছি, বাকিগুলো অন্য কোনো মাধ্যমে পাচার হয়ে গেছে।’

বিমানবন্দর দিয়ে এর আগেও তিন দফায় প্রায় ১৩ হাজার কার্ড দেশে নিয়ে আসা হয় বলে জানান শহিদুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘মাস্টারকার্ডগুলো আটক করার পর থেকে বিভিন্ন পরিচয়ে আমাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। যে নম্বর থেকে হুমকি দেওয়া হয়েছে সেটি গোয়েন্দা সংস্থাকে দেওয়া হয়েছে।’

ঢাকা কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ লুৎফর রহমান দ্য রিপোর্টকে বলেন ‘মাস্টারকার্ডগুলো বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেছে।’

তিনি বলেন, জব্দ করা তিন হাজার কার্ড চট্টগ্রামের মোর্শেদ আলী ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে আসে। বিনিময়ে তিনি মাসিক ২০ হাজার টাকা পান। মোর্শেদ আলী নিজেও স্বীকার করেছেন, তিনি যা করেছেন তা অবৈধ। অবৈধভাবে আসা কার্ডগুলো মাস্টারকার্ড লোগো চিহ্নিত যে কোনো বুথ থেকে টাকা তোলার জন্য ব্যবহার করা যায়।

এ বিষয়ে মোর্শেদ আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দ্য রিপোর্টে বলেন, ‘আসলে মাস্টারকার্ডগুলো ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশে আসার কথা। কিন্তু পে-ওনাররা আমাদের ঠিকানায় দিয়েছে। কারণ আমরা তাদের কাস্টমার ছিলাম।’

এক প্রশ্নের জবাবে মোর্শেদ আলী বলেন, ‘এখানে আমাকে এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বিনিময়ে মাসিক ২০ হাজার টাকা বেতন পাঠাতো তারা।’

একাধিক ব্যাংকের কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশের অনুমতি ও ব্যাংকের চাহিদার ভিত্তিতে নির্ধারিত এজেন্টের মাধ্যমে তারা মাস্টারকার্ড ও ভিসাকার্ড আমদানি করে। তবে মাস্টারকার্ড কর্তৃপক্ষ কার্ড প্রিন্ট দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করে। কারণ তারা আগে নিশ্চিত হন, কোনো কোম্পানিকে মাস্টারকার্ডের জন্য কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) দেওয়া হয়েছে কি-না। এর পরই তারা কার্ড প্রিন্ট করেন। নির্ধারিত কর দিয়ে ও প্রচলিত নিয়মনীতি মেনেই সেগুলো দেশে আমদানি করা হয়।

তারা জানান, যদি মিথ্যা তথ্য দিয়ে কেউ মাস্টারকার্ড আমদানি করে থাকে তাহলে অবশ্যই আমদানিকারকের খারাপ কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে মাস্টার ও ভিসাকার্ড আমদানি করে আসছে লেইডব্যাক সফট লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু আবদুল্লাহ আল শাফি দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘ব্যাংকের ওয়ার্ক অর্ডার নিয়েই এলসির মাধ্যমে মাস্টারকার্ডের নির্ধারিত এজেন্টের মাধ্যমে কার্ড আমদানি করা হয়। কেউ যদি নিয়ম না মেনে আমদানি করে থাকে তাহলে অবশ্যই সেটি অবৈধ।’