September 28, 2022

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সড়ক ও মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশপাশি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার সচিবালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

তিনি বলেন, সরকারি নানা পদক্ষেপের ফলে সড়ক দুর্ঘটনা কম হয়েছে। দুর্ঘটনা কম হলেও বেশি মানুষ মারা গেছে। এ জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেতুমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, এবারে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা এবং কর্মস্থলে ফিরে আসা অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে ছিল অধিক স্বস্তির। আমি আগেই আপনাদের মাধ্যমে জানিয়েছিলাম এবার দেশের সড়ক-মহাসড়ক যানজটের কারণ হবে না। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের নিবিড় মনিটরিংয়ে মানুষ নিরাপদে ঈদ উদ্যাপন করে ফিরে আসতে পারায় আমরা আনন্দিত। তবে যারা দুর্ভোগের শিকার হয়েছে তাদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, জাতীয় মহাসড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধ হলেও সেখানে জায়গা করে নিয়েছে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, যা অবাধে চলাচল করছে। এ সকল অটোরিকশা দুর্ঘটনা ঘটাচ্ছে। এ কারণে এখন থেকে জাতীয় মহাসড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচল বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ঈদের আগের দিন টাঙ্গাইল সড়কে কয়েকটি (৮টি) ফিটনেসহীন যানবাহন অকেজো হয়ে পড়লে সেখানে যানজট সৃষ্টি হয়। আমি গণমাধ্যমে এ খবর দেখে প্রত্যুষে ছুটে যাই চন্দ্রার উদ্দেশে। চন্দ্রা মোড় থেকেই যোগাযোগ করি এবং যানজট কমিয়ে আনার চেষ্টা চালাই। দুপুর নাগাদ যানজট কমে আসে। এছাড়া দেশের সকল সড়ক-মহাসড়ক ছিল অনেকটা নির্বিঘ্ন। যাত্রীরা অধিকতর স্বস্তি নিয়ে বাড়ি যেতে পেরেছে এবং কর্মস্থলে ফিরে আসছে।

মন্ত্রী বলেন, এবার ঈদে মানুষের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় আগে থেকেই কর্ম-পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে। অদ্যাবধি আমি ছাড়াও সচিব, প্রধান প্রকৌশলী, মনিটরিং টিমের সদস্যগণ ও প্রকৌশলীগণ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। বৃষ্টিবিঘ্নিত যাত্রা আরামদায়ক ও স্বস্তিকর করতে আমাদের প্রচেষ্টায় কোনো ঘাটতি ছিল না। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী যে সকল প্রকৌশলী ভালো কাজ করেছে, দক্ষতার পরিচয় দিয়েছে তাদের পুরষ্কৃত করা হবে। আর ব্যর্থতার জন্য ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন, শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে কর্মের জন্য পুরষ্কার ও তিরষ্কার নির্ধারিত হবে।

তিনি বলেন, তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা হিসেবে আগামী দু’মাসের মধ্যে চারটি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্পটে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের আদলে নিউজার্সি ব্যারিয়ার বা ডিভাইডার স্থাপন করা হবে। আজ থেকে কাজ শুরু হচ্ছে। সরকার ধাপে ধাপে দেশের সকল মহাসড়ক চারলেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী সেপ্টেম্বরে জয়দেবপুর হতে এলেঙ্গা পর্যন্ত ৭০ কিমি. সড়ক চারলেনে উন্নীত করার ভৌত কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। পরবর্তী পর্যায়ে এলেঙ্গা থেকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে বনপাড়া-হাটি কমরুল সড়কও চারলেনে উন্নীত করা হবে।

মেঘনা সেতু ঝুঁকির বিষয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা এর আগে এ সেতুর ৭, ৮ ও ৯ নং পিয়ারের মেরামতকাজ সম্পন্ন করি। এবার সেতুর ৬নং পিয়ারের মেরামত কাজ করা হবে। আগের মতো সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় এ মেরামতকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বৃষ্টি কমলে শীঘ্রই মেরামতকাজ শুরু হবে। আমরা এ ব্যপারে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল এবং আমাদের প্রস্তুতিও রয়েছে পুরোদমে। অতএব, আমি বলব, সেতুটি ঝুঁকিতে নেই।

তিনি বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের অর্থনীতির লাইফ-লাইন। ইতোমধ্যে এ মহাসড়ক চারলেনে উন্নীতকরণের ১৪৩ কিমি. কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি ছয়লেন বিশিষ্ট এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ফিজিবিলিটি স্ট্যাডির কাজ শেষ হয়েছে। জাইকার অর্থায়নে এ মহাসড়কে ২য় কাঁচপুর সেতু, ২য় মেঘনা সেতু ও ২য় গোমতী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বানসহ অন্যান্য প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ বছরের সেপ্টেম্বরে সেতু তিনটির নির্মাণকাজ শুরু হবে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হতে বাইপাইল পর্যন্ত ২২ কিমি. দীর্ঘ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে এর কাজ শুরু হবে।

obaidul-tমন্ত্রী বলেন, সড়ক প্রকৌশলীদের দক্ষতা মূল্যায়নের পাশাপাশি আমরা যথাসময়ে প্রকল্প তথা মেরামতকাজ শেষ করতে ব্যর্থ ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছি। কার্যাদেশ অনুযায়ী যথাসময়ে কাজ শেষ করতে অহেতুক বিলম্বের জন্য পিপিআর অনুযায়ী ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ওটিবিএল এবং পিবিএল-এর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদন ও স্ক্রল দেখে তাৎক্ষণিক নির্দেশনা দিয়েছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছি।

তিনি বলেন, ঈদ-উল-আযহার সময় জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর ও পাশে কোরবানির পশুর হাট না বসানোর ইতোপূর্বের আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্ত কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

সভায় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এমএএন ছিদ্দিক, সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, বিআরটিএর চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, বিআরটিসির চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান, ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক মো. কায়কোবাদ হোসেনসহ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।