December 1, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

উত্তরায় গবাদিপশুর ভেজাল ওষুধের কারখানা সিলগালা

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ রাজধানীর উত্তরা থেকে গবাদিপশুর বিপুল পরিমাণ ভেজাল ওষুধ জব্দ করেছেন র‌্যাব-২ এর ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় কারখানার মালিক ও কর্মচারীকে আটক করে অর্থদণ্ড দেন আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর তুরাগ থানার উত্তরা ১০ নম্বর সেক্টর এলাকার  ‘মেসার্স এভুন পোল্ট্রি ফিড’ কারখানায় অভিযান চালায় র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দিন।

এসময় দুই কোটির অধিক টাকার অবৈধ ও ক্ষতিকর পশু মেডিসিন ও খাদ্য উপাদান জব্দ করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে ভেজাল ঔষধ উৎপাদন ও মজুদের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির মালিক একেএম সাইদ সরোয়ার (৪০) ও ব্যবস্থাপক এএসএ রশিদকে (৬১) আটক করে র‌্যাব-২ ব্যাটালিয়ন।

হেলাল উদ্দিন বলেন, গবাদিপশুর ভেজাল ওষুধের প্যাকেটের গায়ে বিদেশি ব্র্যান্ডের লেভেল লাগিয়ে তা বাজারজাত করে আসছে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের লাইসেন্সবিহীন এসব প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত নিম্নমানের উপাদানে তৈরি করে ওষুধ ।

তিনি জানান, আটককৃতরা নিজেদের দোষ স্বীকার করেছেন। ১৯৪০ সনের ড্রাগ এ্যাক্টের ২৭ ধারা এবং ২০১৪ সনের মৎস ও পশুখাদ্য আইনের ২০ ধারায় প্রতিষ্ঠানের মালিক একেএম সাইদ সরোয়ারকে ৩ লাখ টাকা এবং ম্যানেজার এএসএ রশিদকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিও সীলগালা করে দেওয়া হয়েছে।

র‌্যাব-২ এর উপ-পরিচালক ড. দিদারুল আলম বলেন, প্রায় ১২ বছর অবৈধভাবে প্রতিষ্ঠানটি ভেজাল ওষুধ তৈরি, মজুদ ও বিদেশি ওষুধের লেভেল ব্যবহার করে নিম্নমানের নিজস্ব ওষুধ বাজারজাত করে আসছিল। বিষাক্ত ওষুধ গবাদিপশুর মাংস খাওয়ার মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। যার প্রতিক্রিয়ায় নানা জটিল রোগের সৃষ্টি হয়।

অভিযানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওষুধ প্রশাসনের ওষুধ তত্ত্বাবধায়ক গোলাম কিবরিয়া।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ জুলাই খিলগাঁও থানার খান ফার্মায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগীর ভেজাল ওষুধ উৎপাদনের দায়ে মালিককে গ্রেফতার, জরিমানা এবং কারাদণ্ড প্রদান করা করা হয়েছিল।