December 6, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বন্যায় দাগনভুঁঞার মৎস খামারীদের কোটি টাকার ক্ষতি

রাজন নাথ ফেনী থেকে : গত কয়েকদিনে ভারীবর্ষনের ফলে দাগনভূঞায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অতি বর্ষনে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের ফসলী জমি ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার আটটি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় জনদুর্ভোগ বাড়ছে এবং জলবদ্বতা সৃষ্টি হয়েছে।

সুত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বর্ষনে উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের শরীফপুর, কৈখালী, নারায়নপুর, গৌতমখালী, দিলপুর, নশরতপুর, রাজাপুর ইউনিয়নের জয়নারায়নপুর, রাজাপুর বাজার, সদর ইউনিয়নের দক্ষিন করিমপুর, জগতপুর, ফাজিলেরঘাট বাজার, মাতুভূঞা ইউনিয়নের মোমারিজপুর, আশ্রাফপুর, সালামনগর, জয়লস্কর ইউনিয়নের উত্তর লালপুর, ধর্মপুর, মাছিমপুর, আলমপুর, বারাহিগুনী, উত্তর জায়লস্কর এবং দাগনভূঞা পৌরসভার আলাইয়ারপুর, উদরাজপুর,আমানউল্লাহপুরের সহস্রাধিক বসতঘর, ফসলী জমি, মাছের ঘের পানির নিচে।বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ওঠায় বন্ধ রয়েছে ঐসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

feni floodনাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, স্থানীয় প্রভাবশালীরা খাল দখল করে দোকানঘর ও বাড়ি নির্মান করায় পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ করায় জলাবদ্ধতাতা সৃষ্টি হয়েছে।

দরাপপুর গ্রামের ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম জানান, গত কয়েকদিনে টানা বর্ষনে তার ৪ টি মাছের ঘের পানিতে ভেসে প্রায় ১০ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়।

দাগনভূঞা কৃষি অফিসার হুজ্জাতুল ইসলাম জানান, অতি বর্ষনে উপজেলার ২২৫ হেক্টর আমন বীজতলা, ১০৫ হেক্টর আউশ বীজতলা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

স্থানীয় ইয়াকুবপুর ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিন জানান,ভারী বর্ষনে তার ৫টি পুকুর ডুবে প্রায় ১০লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে।উপজেলা মৎস্য অফিসার মিজানুর রহমান জানান, উপজেলার মৎস্য চাষের অর্ধেক পরিমান মাছ পানিতে ভেসে গেছে। এতে প্রায় ৩০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে, ফেনীর মুহুরী নদীর পানি বিপদ সীমার নীচে নেমে গেছে। এর ফলে লোকালয় থেকে পানি নামতে শুরু করছে। তবে বন্যার্তদের দুর্ভোগ কমেনি। নতুন করে বন্যা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে বানভাসী মানুষ ।

সূত্র জানায়, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ফেনীর মুহুরী নদীর দুটি ও কহুয়া নদীর একটি স্থানসহ মোট ৫টি স্থানে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় ফুলগাজী, পরশুরাম উপজেলার ১৫টি গ্রাম পানির নীচে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে রয়েছে ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ।

ফেনী’র পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রমজান আলী জানান, নদীর পানি বিপদ সীমার নীচে রয়েছে। বর্তমানে পানির লেবেল ১১.৯০ সেন্টিমিটারে রয়েছে। ফলে লোকালয় থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। তবে বৃষ্টি হলে নদীর পানি বেড়ে যেতে পারে। এতে বাঁধের ৫টি অংশে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

এছাড়া বাঁধের শ্রী চন্দ্রপুর, জয়পুর, জগতপুর, গোসায়পুর ও দক্ষিণ দৌলতপুরে ফাটলের দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে এই উপজেলার গ্রামকে গ্রাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এসব অঞ্চলের হাজার হাজার মাছের ঘের, ফসলী জমি পানিতে ভেসে গেছে। ঘর-বাড়ি ও দোকান পাটে পানি ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে।

অপরদিকে, ফেনীর পৌর এলাকার রাস্তাঘাট থেকে পানি আংশিক নেমে গেছে, এছাড়া ফেনী সদর, দাগনভুঞা ও সোনাগাজী উপজেলা ডুবে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ অঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করার বিষয়টি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসন।