June 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

‘রাজন চোর ছিল না, ময়না তাকে চোর সাজায়’

সিলেট প্রতিনিধি : ‘রাজন চোর ছিল না। গ্যারেজের চৌকিদার ময়না তাকে (রাজন) ধরে চোর সাজিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সাথে বেঁধে মারধর করে।’ আজ মঙ্গলবার সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ মো.সাহেদুল করিমের আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এ কথা জানিয়েছেন রাজন হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আয়াজ আলী।

দুপুর বেলা ৩ টা থেকে বিকেল ৪ টা পর্যন্ত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় এ জবানবন্দি দেয় ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আয়াজ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি’র ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার।

তিনি জানান, সিলেট শহরতলীর কুমারগাঁওয়ে যেখানে রাজনকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়, সেখানে একটি গ্যারেজে রাখা ভ্যান নিয়ে আরও কয়েকটি শিশুর সাথে খেলা করছিল রাজন। গ্যারেজের চৌকিদার ময়না রাজনকে ধরে ‘চোর’ সাজায়। সে রাজনকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখে। এ সময় আয়াজ ‘খেলার ছলে’ রাজনকে বাঁধতে সাহায্য করে বলে আদালতকে জানিয়েছে।

সুরঞ্জিত তালুকদার আরও জানান, কামরুলসহ আরও কয়েকজন রাজনকে এ সময় মারধর করলেও আয়াজ তাকে মারধর করেনি বলেও দাবি করে।

এ নিয়ে রাজন হত্যার ঘটনায় আট জন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলো।

এর আগে গত শনিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবি’র ইন্সপেক্টর সুরঞ্জিত তালুকদার আসামি আয়াজ আলীকে সিলেট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট-১ সাহেদুল করিমের আদালতে হাজির করে পাঁচদিনের রিমান্ড আবেদন জানান। আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শুক্রবার রাত ১টায় ডিবি ও জালালাবাদ থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। জেলার দোয়ারাবাজার উপজেলার জাহাঙ্গীরগাঁও এলাকার মোস্তফা আলীর ছেলে আয়াজ কুমারগাঁওয়ের বাসিন্দা।

গত ৮ জুলাই শহরতলীর কুমারগাঁওয়ে শিশু রাজনকে পিটিয়ে হত্যা করে কামরুল-মুহিতসহ তাদের সহযোগীরা। তাকে পেটানোর দৃশ্য ইন্টারনেটে আপলোড হলে ফেসবুকে তা ছড়িয়ে পরে ।এ নিয়ে রাজন হত্যা মামলায় মোট ১৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হলো। এ ঘটনায় টাকা নিয়ে অভিযুক্তদের খালাস করে দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে জালালাবাদ থানার ওসি (তদন্ত) আলমগীর হোসেন এবং এসআই জাকির হোসেন ও আমিনুল ইসলামকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।