June 23, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

উত্তর সিটির ১৬শ' কোটি টাকার প্রথম বাজেট

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলতি অর্থবছরের জন্য ১ হাজার ৬০১ কোটি ৯৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। একই সঙ্গে সংস্থার বোর্ডসভায় বিগত বছরের সংশোধিত ৮০৩ কোটি ১৯ লাখ টাকার বাজেট অনুমোদন করা হয়েছে। গত অর্থবছরের বাজেট ছিল ২ হাজার ৪১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

বুধবার দুপুরে রাজধানীর উত্তরায় সিটি করপোরেশন আঞ্চলিক অফিস সংলগ্ন কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মেয়র আনিসুল হক নির্বাচিত হওয়ার পর এই প্রথম সংস্থার পক্ষে বাজেট পেশ করেন। একই স্থানে ওয়ার্ড কাউন্সিলরদের নিয়ে বোর্ডসভাও করেন তিনি। এই বোর্ডসভায় প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হয়।

মেয়র উত্থাপিত বাজেটে দেখা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেট সংশোধিত বাজেটের প্রায় দ্বিগুণ। এবার ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নিজস্ব উৎস থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৮২ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া অন্যান্য আয় ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ৮০ লাখ টাকা, সরকারি অনুদান (থোক) ৩৫ কোটি টাকা, সরকারি বিশেষ অনুদান ১০০ কোটি টাকা এবং সরকারি/বৈদেশিক সাহায্যপুষ্ট প্রকল্প বাবদ ৪৭৬ কোটি টাকা। করপোরেশনের প্রারম্ভিক স্থিতি আছে ৯০ কোটি টাকা।

অন্যদিকে বাজেটে ব্যয় ধরা হয়েছে রাজস্ব খাতে ৩১০ কোটি ১৫ লাখ টাকা, অন্যান্য ব্যয় ৪৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা, উন্নয়ন ব্যয় ১১৪৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। সমাপনী স্থিতি ধরা হয়েছে ৯৮ কোটি টাকা।

ডিএনসিসির বাজেটে নিজস্ব উৎস থেকে হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ ৪১০ কোটি, বাজার সালামি ১৬০ কোটি টাকা, বাজার ভাড়া ১৪ কোটি টাকা, ট্রেড লাইসেন্স ফি ৪০ কোটি টাকা, রিকশা লাইসেন্স ফি ৫০ লাখ টাকা, প্রমোদ কর-সিনেমা ১ কোটি টাকা, সম্পত্তি হস্তান্তর কর ১৩০ কোটি টাকা, ক্ষতিপূরণ-অকট্রয় ৫ কোটি টাকা, বিজ্ঞাপন ১৬ কোটি টাকা, বাস/ট্রাক টার্মিনাল ১০ কোটি টাকা,  কোরবানি হাটসহপশুর হাট ১৬ কোটি টাকা, টয়লেট-ঘাট ইজারা ৫০ লাখ টাকা, পুরনো অকেজো মালামাল বিক্রি ৫০ লাখ টাকা, জবাইখানা ইজারা ২৫ লাখ টাকা, সড়ক খনন ফি ৪৫ লাখ টাকা, যন্ত্রপাতি ভাড়া ২ কোটি টাকা, শিডিউল ও অন্যান্য ফরম বিক্রি ১ কোটি টাকা, কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা, কবরস্থান-শ্মশানঘাট ৬ কোটি টাকা, বিদ্যুত বিল আদায় ১২ কোটি টাকা, বিবাহ, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন ফি ৩ কোটি টাকা, অন্যান্য ভাড়া ৩ কোটি টাকা ইত্যাদি।

চলতি অর্থবছরে উন্নয়নমূলক খাতে মোট ব্যয় ১ হাজার ১৪৪ কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। যা মোট বাজেটের প্রায় ৭১ শতাংশ। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, পারিশ্রমিক ও ভাতা বাবদ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩৫ কোটি টাকা, মশক নিধনে ১৪ কোটি টাকা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় ২৩ কোটি টাকা, বিজ্ঞাপন ও প্রচারণায় ২ কোটি টাকা ইত্যাদি।

বাজেট বক্তৃতায় মেয়র আনিসুল হক বলেন, অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার কিছুটা ব্যতিক্রমী বাজেট তৈরি করা হয়েছে। এর ফলাফল আপনারা ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে দেখতে পাবেন। তিনি বলেন, সবেমাত্র আমি দায়িত্ব নিয়েছি-সম্ভবত আজ ৭৮ দিন হয়েছে। এরই মধ্যে নগর পরিকল্পনাবিদ, স্থপতি, পরিবেশবাদীসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষকে নিয়ে আমি বৈঠক করেছি। তাদের নিয়ে গ্রিন ঢাকা প্রতিষ্ঠায় চেষ্টা করছি। জলাবদ্ধতা, ভাঙা রাস্তা সব ঠিক হয়ে যাবে। আমাদের একটু সময় দিন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ডিএনসিসি এলাকার হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়বে না। তবে পুনঃমূল্যায়ন করা হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিএম এনামুল হক, সচিব আবু সাঈদ শেখ, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মো. মমতাজ উদ্দিন, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন বিপন কুমার সাহা, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাসুদ আহসান, এবং ডিএনসিসির বিভাগীয় প্রধান, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলররা।