October 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

আজ সকালে মেমনের ফাঁসি!

ডেস্ক প্রতিবেদন : প্রাণভিক্ষার আবেদন সুপ্রিম কোর্টে খারিজ হয়ে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার ৫৪তম জন্মদিনে ফাঁসি কার্যকর হতে পারে ইয়াকুব মেমনের। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারও তার প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে।

ফলে ফাঁসি কার্যকর করতে মহারাষ্ট্র সরকার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। মুম্বাই পুলিশ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। মুম্বাইয়ে জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। সতর্কতা জারি করা হয়েছে উত্তর প্রদেশে। নাগপুর জেলের ৫০০ মিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে জারি করা হয়েছে ১৪৪ ধারা। আগামীকাল পুলিশ সদস্যদের সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা এএনআই বলেছে, বুধবার বিকালে ইয়াকুব মেমনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে নাগপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে গেছেন তার দুই ভাই সুলাইমান ও উসমান। মেমন তার কোনো শেষ ইচ্ছার কথা এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানাননি।

১৯৯৩ সালে মুম্বাই বিস্ফোরণের অন্যতম অপরাধী মেমন। এ জন্য তাকে মৃত্যুদণ্ড সাজা ঘোষণা করে সন্ত্রাস বিচারে বিশেষ আদালত টাডা।

এই সাজা দেয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি এমনটা দাবি করে ইয়াকুব মেমন সুপ্রিম কোর্টে ওই শাস্তি স্থগিত চেয়েছিল। কিন্তু প্রধান বিচারপতি এইচ এল দাত্তুর নেতৃত্বে তিন সদস্যের সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ বুধবার সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করেন। ফলে  তার ফাঁসি কার্যকর হওয়ার প্রায় সব পথ উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।

তবে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করেছেন মেমন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্বীকার করেছে তা পৌঁছেছে যথাস্থানে। তবে এ নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলবেন প্রেসিডেন্ট প্রণব।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মেমনের ফাঁসির পক্ষে। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সিএনএন-আইবিএন বলেছে, এ থেকে স্পষ্ট যে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল সাতটায় নাগপুরে ফাঁসি কার্যকর হচ্ছে মেমনের।

ভারতীয় মিডিয়ায় বলা হয়, প্রধান বিচারপতি এইচ এল দাত্তুর সমন্বয়ে গঠিত ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, বিচার প্রক্রিয়া এবং মৃত্যুর পরোয়ানায় কোনো গলদ ছিল না। বুধবার সকাল থেকে এই বিষয়ে শুনানি শুরু হয়। শুনানি শেষে ওই বেঞ্চ মেমনের আর্জি খারিজ করে দেয়।

ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্টের কাছে এদিন আরো একবার ফাঁসি মওকুফের আর্জি জানিয়েছেন মেমন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই আর্জির বিষয়ে কথা বলতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট প্রাণভিক্ষার আবেদন প্রত্যাখ্যান করবেন বলেই বলা হচ্ছে।