October 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

বৃষ্টি হয়ে ঝরবে কোমেন

ডেস্ক প্রতিবেদন : ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’ আজ বৃহস্পতিবার বিকেল বা সন্ধ্যা নাগাদ চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর এ পূর্বাভাস দিয়েছে। স্থলভাগে ওঠার পর বৃষ্টি ঝরিয়ে ক্রমশ দুর্বল হয়ে কোমেন স্থল নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে বলে আবহাওয়াবিদদের ধারণা।

ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বুধবার থেকেই চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৭ এবং মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৫ নম্বর বিপদ সঙ্কেত দেখানো হচ্ছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক শাহ আলম বলেছেন, উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকাতেই স্থির রয়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর আবহাওয়া অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।

শাহ আলম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়টি বর্তমানে স্থির অবস্থায় অবস্থান করছে। সন্ধ্যার পর উপকূল অতিক্রম করতে পারে। পরে বৃষ্টি ঝরিয়ে দুর্বল হয়ে যেতে পারে। এটি একটি দুর্বল ঘূর্ণিঝড়। এর বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১০০ কিলোমিটার হতে পারে। পূর্ণিমার সঙ্গে জোয়ার আগামীকাল পর্যন্ত থেকে যাবে।’

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শাহ আলম বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য জনগণের জানমাল রক্ষা করা। সরকার এত ছোট ঘূর্ণিঝড়ের জন্য যে ব্যবস্থা নিয়েছে, তাতে তেমন ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা নেই।’

ঢাকায় কোমেনের প্রভাব পড়বে কি না—জানতে চাইলে শাহ আলম বলেন, বিকেলে কিছু বৃষ্টি হতে পারে। তবে বেশি না। রাতে বেশি হতে পারে। সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হচ্ছে পতেঙ্গা ও রাঙামাটিতে, ৪৮ মিলিমিটার। বাতাসের গতিবেগ থাকতে পারে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৯০ কিলোমিটার।

কোমেনের প্রভাবে কক্সবাজারে ৫ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হয়েছে। এতে জেলার ৮টি উপজেলার ২৮টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে এ জলোচ্ছ্বাস শুরু হয়।

ঘূর্ণিঝড় ‘কোমেন’র প্রভাবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া বিরাজমান থাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের আওতাধীন উপকূলীয় জেলাগুলোতে ফেরি চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ফেরি চলাচল বন্ধ থাকবে।

আজ সকাল ৯টায় আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি ওই সময় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৬৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ৮০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২০৫ কিলোমিটার পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে দুপুর বা বিকেল নাগাদ চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। এটি দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে।

বুধবার মধ্যরাতে প্রবল ঝড়ো হাওয়াসহ কক্সবাজার ও প্রবালদ্বীপ সেন্টমার্টিনে আঘাত হানে কোমেন। এতে সেখানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। গাছ চাপায় এক ব্যক্তি নিহত হন। গাছ-বাঁশ দিয়ে নির্মিত শতাধিক ঘরবাড়ি বাতাসের সঙ্গে উড়ে গেছে। উপড়ে গেছে দ্বীপের অনেক গাছগাছালি। সেন্টমার্টিন দ্বীপে বাতাসের গতিবেগ বেড়ে যায় রাত সাড়ে ১১টার পর থেকে। রাত সোয়া ১২টায় দ্বীপের দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে প্রচণ্ড বেগে বাতাস বয়ে যায়। দ্বীপের বাসিন্দারা স্থানীয় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, আবহাওয়া অফিস এবং হাসপাতালে আশ্রয় নেন।দ্বীপের পশ্চিমপাড়ায় গাছচাপায় মো. ইসলাম (৫০) নামের এক ব্যক্তি মারা গেছেন। বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা তাঁকে গাছের নিচ থেকে উদ্ধার করেছেন।

কক্সবাজারের আবহাওয়া বিভাগের সহকারী আবহাওয়াবিদ নাজমুল হক জানান, ঘূর্ণিঝড়টি কক্সবাজার উপকূল থেকে ১০৫ কিলোমিটার দূরে সাগরে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলে বাতাস বয়ে যেতে পারে ঘণ্টায় ৮০ থেকে ১০০ কিলোমিটার বেগে, সেই সঙ্গে বর্ষণও হতে পারে। এমনকি স্বাভাবিকের চেয়ে ৫-৮ ফুট উচ্চতার সামু্দ্রিক জলোচ্ছ্বাসও আঘাত হানতে পারে। মহেশখালীর মাতারবাড়ী ও ধলঘাটা দ্বীপের লোকজন স্থানীয় ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্রসমুহে আশ্রয় নিয়েছেন।

জানা গেছে, টেকনাফ পৌরসভার জালিয়াপাড়া, চৌধুরীপাড়া, নাই টংপাড়া, দক্ষিণ জালিয়াপাড়া, ইসলামাবাদ, ফলিয়াবাদসহ ২০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত কক্সবাজার সদর, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া, টেকনাফ, চকরিয়া, পেকুয়াসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৫-৬ হাজার লোককে ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘূর্ণিঝড় ও গভীর নিম্নচাপের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরিশাল, পটুয়াখালী, বরগুনা, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৪ ফুট অধিক উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

নিম্নচাপটি উপকূল অতিক্রমের সময় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে জানান আবহাওয়াবিদেরা। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম বিভাগের পাহাড়ি অঞ্চলের কোথাও কোথাও ভূমিধসের আশঙ্কাও রয়েছে।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলার এবং সমুদ্রগামী জাহাজগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।