September 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

সিরিজ জয়ে চোখ বাংলাদেশের

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ঢাকা: আরেকটি ক্রিকেট মৌসুম শেষের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ। মৌসুমটা বাংলাদেশের ও ক্রিকেট দুনিয়ার মানচিত্রে খোদাই করা থাকবে, টাইগারদের ইতিহাসের পাতা ওলট-পালটের মৌসুম হিসেবে।
কথাটা ওয়ানডে ক্রিকেটে বেশি প্রযোজ্য বলে দাবি করতে পারেন অনেকে। সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ওলট-পালটের প্রতিচ্ছবি কিন্তু দেদীপ্যমান। পাকিস্তানের সঙ্গে খুলনায় আধিপত্যের ড্র। বড়ত্বপনার প্রথম ধাপ। ভারতের বিপক্ষে বৃষ্টিবিঘ্নিত ড্র। দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধেও বৃষ্টিধোয়া ড্র প্রথম টেস্টে। যেখানে তিনটি দিন ছিল টাইগারদের দাপুটে ক্রিকেটের প্রদর্শনী।
তাই পাকিস্তানের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টের হারসহ ধরলেও লাল বলের ক্রিকেটে ওলট-পালটের সুরটা সরব রয়েছে। যেমনটা বৃহস্পতিবার শুরু হতে চলা সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টের আগে বাংলাদেশ অধিনায়ক মুশফিকুর রহিম অকুতভয় চিত্তে বলে দেন-ভালো ফলাফলটা কী আপনারা জানেন- বাংলাদেশ ইনশাল্লাহ ১-০ ব্যবধানে সিরিজটি জিততেও পারে।
এরপর বাংলাদেশ টেস্ট দলের সামগ্রিক পরিভাষা বুঝতে আপনার ক্রিকেটবোদ্ধা হওয়ার দরকার নেই। চট্টগ্রামে সমান তালে লড়াই টসবগে আত্মবিশ্বাস যোগাচ্ছে বাংলাদেশকে। যা টেস্ট সিরিজ জয়ের পরিকল্পনায় উসকে দিচ্ছে টাইগারদের। তাও আবার নয় নম্বর দল হয়ে র‌্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর দলের বিরুদ্ধে! মাঠের ক্রিকেটে আগামী পাঁচদিন কী হবে সেটা বলা কঠিন। তবে আপাতত মুশফিক বাহিনীর কল্পনায় জয়ের ছবিই আগে প্রতিফলিত হচ্ছে।
সংগ্রামের অধ্যায় পেরিয়ে প্রতিপক্ষের চোখে চোখ রেখে লড়াইয়ের পর্বে এসেছে বাংলাদেশ টেস্ট দল। বৃহস্পতিবার সেই জ্বালানি নিয়েই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সকাল সাড়ে ৯টায়। জিটিভি ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে।
গোটা সিরিজ জুড়েই বৃষ্টির চোখরাঙানি ছায়াসঙ্গী ছিল। চট্টগ্রামে তো ম্যাড়ম্যাড়ে ড্রই এনে দিল বৃষ্টি। দ্বিতীয় টেস্টেও এমন কিছুর হাতছানি আছে। তবে গত দুদিনের শ্রাবনের আকাশে চকচকে রোদ দুদলকেই আশাবাদী করেছে। মাঠের ক্রিকেট নিয়ে তাই সর্বোচ্চ রণপরিকল্পনা করছে দুদল।
টেস্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বাংলাদেশের তিক্তকর অতীত আলোচনাতেই থাকছে না। স্বাগতিকরা ভাবছে সাম্প্রতিক সময়ে নিজেদের বদলে যাওয়া ছবিটাই আবারও প্রদর্শন করতে। ভেন্যুটা মিরপুর বলে ম্যাচের রেজাল্টের বিষয়ে একটা নির্ভরতা থাকছেই। এই মাঠে গত ১৩  ম্যাচের ১১টিতেই রেজাল্ট এসেছে, ২টি ম্যাচ ড্র হয়েছে। টানা পাঁচদিনই ভালো ক্রিকেট খেলতে চায় বাংলাদেশ। সেটা একটা বড় চ্যালেঞ্জই বটে। বিশেষ করে প্রতিপক্ষ দক্ষিণ আফ্রিকা বলে। মুশফিকরা ম্যাচটিকে সুযোগ হিসেবেই দেখছেন। স্টেইন-মরকেল-ফিল্যান্ডারের মতো পেস ব্যাটারি থাকলেও নির্ভীক টাইগাররা। বরং প্রোটিয়াদের বেঁধে রাখার পরিকল্পনায় চোখ মুশফিকদের।
স্পিন দিয়ে প্রোটিয়া বধের ছক তৈরি হচ্ছে। সেখানে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অফ স্পিনার হিসেবে নাসির আসতে পারেন একাদশে। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে হাত ঘুরাবেন তিনি। সাত ম্যাচ পর টেস্ট একাদশে ফিরতে পারেন নাসির। তিনি শেষ টেস্ট খেলেছেন ২০১৪ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে। কোপটা পড়তে পারে বাঁহাতি স্পিনার তাইজুলের উপর। সাকিব, জুবায়ের তো থাকছেনই। এটুকু বাদেও বাংলাদেশের একাদশে পরিবর্তন আসতে পারে। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নাসিরের খেলার বিষয়টি দলীয় পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই বাস্তবায়িত হতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকা অবশ্য বৃষ্টির বাধা ঢিঙিয়ে পরিপূর্ণ ক্রিকেট খেলার আশায় বুক বাঁধছে। সেখানে নিজেদের সামর্থ্যরে সর্বোচ্চটা তুলে ধরতে চায় তারা। বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজ হারের শঙ্কা বা জিততেই হবে ম্যাচটা এমন চাপ নিয়ে ভাবছেন না আমলারা। আপন শক্তির পূর্ণ ব্যবহারেই চোখ তাদের। স্টেইনের ৪০০ উইকেটের হাতছানিকে ঘিরে পুরো দলটা জেগে উঠতে চায়। মিরপুরের উইকেট কিছুটা পেস বান্ধব বলে আরও বেশি মুখিয়ে আছে সফরকারীরা। এছাড়া উপমহাদেশে ২০০৬ সালের পর কোনো সিরিজ না হারার রেকর্ডটা সঙ্গী হচ্ছে আমলা বাহিনীর। দক্ষিণ আফ্রিকার একাদশ থেকে বাদ পড়তে পারেন কুইন্টন ডি কক। একাদশে আসতে পারেন ডিন ভিয়াস।
প্রোটিয়াদের পেস আক্রমণ সামলে ম্যাচ জয়ের সাহসটা দেখাচ্ছে বাংলাদেশ। সেটি এখন মাঠের ক্রিকেটে অনুবাদ করতে পারে কিনা টাইগাররা, তাই দেখার বিষয়।