June 25, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

৬৮ বছর পর স্বদেশে পরবাসী মানুষগুলো মুক্তির স্বাদ নেবে শুক্রবার

লালমনিরহাট প্রতিনিধি : শুক্রবার মধ্যরাতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় কার্যকর হয়ে যাবে। ওইদিন বিজয় দিবস পালনের জন্য ছিটমহলবাসী নিজেদের উদ্যোগে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে রাত ১২টায় ভারতীয় পতাকা নামানো, ১২টা ১ মিনিটে ৬৮টি মোমবাতি প্রজ্বলন করে বিজয় দিবসের শুভসূচনা, মশাল জ্বালানো, ১ আগস্ট প্রত্যুষে বাংলাদেশের লালসবুজ জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সম্মিলিতভাবে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন।

রাষ্ট্রীয় কোনো কর্মসূচি না থাকলেও ছিটমহলের বাসিন্দারা নিজেরাই ঐতিহাসিক এ মাহেন্দ্রক্ষণ উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এ দিবসেই ছিটমহলবাসীর দীর্ঘ ৬৮ বছরের অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। এখন তাই অ্যাপয়েনটেড দিবসের জন্য শুধু অপেক্ষা।

বুধবার সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেন ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির বাংলাদেশ ইউনিটের লালমনিরহাট জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম আশিক।

তিনি জানান, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ছিটমহলের বিজয় দিবস পালন করা হবে। তাই রাত ১২টায় নামানো হবে ভারতীয় জাতীয় পতাকা।

বিজয়ের আনন্দকে চির স্মরণীয় করে রাখতে শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার উত্তর গোতামারীর ১৩৫ নং ছিটে ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির জেলা কার্যালয়ে আয়োজন করা হয়েছে ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ।

প্রতিযেগিতার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের জাতীয় খেলা কাবাডি ও ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। সন্ধ্যায়র পর স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় জারি-সারি ও ভাওয়াইয়া গানের আসর।

ছিটমহলবাসীরা ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করলেও সরকারিভাবে কোনো কর্মসূচি নেওয়া হয়নি নিশ্চিত করে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) মাহবুবুর রহমান নিউজবাংলাদেশ বলেন, “সরকারিভাবে এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো নির্দেশনা আসেনি। এলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি জানান, ৩১ জুলাই রাত ১২টায় ১ মিনিটে উভয় দেশের ছিটমহলবাসীরা বিজয় দিবস উদযাপন করবেন। ৬৮ বছরের বন্দি জীবনের মুক্তির চিহ্নকে চিরস্মরণীয় করে রাখতে ৬৮টি মোববাতি প্রজ্বলন করবেন তারা।

ওইদিন রাত ১২টায় ১ মিনিট থেকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহলে প্রায় ১৭ হাজার ১৬০ একর জমির মালিক হবে বাংলাদেশ সরকার। পক্ষান্তরে ভারতের ভেতরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের প্রায় সাত হাজার ১১০ একর ভূমির মালিকানা পাবে ভারত সরকার।

চলতি বছরের ৬ জুলাই থেকে ১৬ জুলাই পর্যন্ত যৌথ জননগনা অনুযায়ী ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতীয় ১১১টি ছিটমহলের লোকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ৪৪ হাজার।

ভারতের অভ্যন্তরে থাকা বাংলাদেশের ৫১টি ছিটমহলের মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলার অধীনে ১৮টি ও লালমনিরহাট জেলার অধীনে ৩৩টি। এগুলো ভারতের কোচবিহার জেলার প্রশাসনিক সীমানার ভেতরে।

অপরদিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা ভারতের ১১১টি ছিটমহল পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার। এগুলোর মধ্যে কুড়িগ্রাম জেলায় ১২টি, লালমনিরহাট জেলায় ৫৯টি, পঞ্চগড় জেলায় ৩৬টি এবং নীলফামারীতে রয়েছে চারটি।

লালমনিরহাটের ৫৯টির মধ্যে সদর উপজেলায় দুটি, হাতীবান্ধা উপজেলায় দুটি ও বাকি ৫৫টি পাটগ্রাম উপজেলার ভেতরে। পাটগ্রামের ৫৫টির মধ্যে ১৭টি ছিটমহল জনবসতিশূন্য, আবাদি জমি।