September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

এবার নির্মম নির্যাতনে প্রাণ গেল শিশু রাকিবের

খুলনা প্রতনিধি: কর্মস্থল পরিবর্তন করায় খুলনায় রাকিব নামে ১২ বছরের এক শিশু শ্রমিককে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। রাকিব নগরীর টুটপাড়া সেন্ট্রাল রোডের দিনমজুর আলম হাওলাদারের ছেলে।

সোমবার বিকেলে নির্মম নির্যাতনের পর দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাকিবের মৃত্যু হয়।

মধ্যযুগীয় কায়দায় রাকিবের মলদ্বারে কমপ্রেসার মেশিনের পাইপ দিয়ে পেটে বাতাস ঢুকিয়ে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে নগরীর টুটপাড়ার শরীফ মোটরসাইকেল গ্যারেজের মালিক শরীফ ও তার ভাই মিন্টুর বিরুদ্ধে।

এলাকাবাসী জানায়, রাকিব এর আগে শরীফের মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করত। কিন্তু সম্প্রতি সে সেখান থেকে কাজ ছেড়ে দিয়ে নগরীর পিটিআই মোড়ের নাসিরের গ্যারেজে কাজ নেয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শরীফ ও তার ভাই মিন্টু তাকে শাস্তি দিতে এ পৈশাচিক পথ বেছে নেয়।

চিকিৎসকরা জানায়, রাকিবের শরীরে অস্বাভাবিক পরিমাণ বাতাস প্রবেশ করানোর কারণে তার নাড়িভুড়ি ছিঁড়ে যায় এবং ফুসফুস ফেটে যায়। এসব ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন অর্গান অকেজো হয়ে যাওয়ায় সে মারা যায়।

এ ব্যাপারে রাকিবের বাবা আলম হাওলাদার বলেন, টুটপাড়াস্থ শরীফ মোটরসাইকেল গ্যারেজের মালিক শরীফ ও তার ভাই মিন্টু মিলে রাকিবের মলদ্বারে মোটর সাইকেলে হাওয়া দেওয়ার পাইপ ঢুকিয়ে বাতাস দেয়। এতে রাকিবের পেট ফুলে অজ্ঞান হয়ে গেলে শরীফ ও মিন্টু মিলে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক)হাসপাতালে ভর্তি করে। তখন খুমেকের কর্তব্যরত চিকিৎসকরা আমাদের জানান, রাকিব জীবন-মরণের সন্ধিক্ষণে আছে। তার চিকিৎসা এখানে সম্ভব নয়। এরপর রাকিবকে নিয়ে ঢাকার পথে রওয়ানা হলে সে পথেই মারা যায়।

এদিকে, নির্যাতনের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী এক নারীসহ শরীফ ও তার ভাই মিন্টুকে গণপিটুনি দেয়। পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে খুমেক হাসপাতালে নিয়ে যায়।

রাকিবকে নির্যাতন করে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকুমার বিশ্বাস।

তিনি জানান, রাকিবের মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য খুমেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার তার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হবে।

রাকিবকে নির্যাতনকারী গ্যারেজ মালিক শরীফ ও তার ভাই মিন্টুকে খুমেক হাসপাতালের প্রিজন সেলে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান ওসি।