October 22, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

মায়ার মন্ত্রী পদ নিয়ে রিটের শুনানি মঙ্গলবার হচ্ছে না

আদালত প্রতিবেদক: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য পদে বহাল থাকার এখতিয়ার বিষয়ে করা রিট আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার হচ্ছে না, যদিও এদিন এ রিটের ওপর শুনানি হওয়ার কথা ছিল।

বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন রিটকারী আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ। তিনি বলেন, “এ রিটের বিষয়ে শুনানির জন্য যে আদালত নির্ধারণ করা আছে, সে আদালতের একজন বিচারপতি ছুটিতে রয়েছেন। তাই এ রিটের ওপর আজ শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।”

এর আগে সোমবার আদালতে এ রিটের ওপর শুনানির এক পর্যায়ে মায়ার আইনজীবী আব্দুল বাসেত মুজমদার আদালতে বলেছিলেন, “আমরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে এ মামলার রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করেছি।”

নিয়ম অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে কোনো আবেদন পেন্ডিং থাকলে তার অধীনে অন্য কোনো আদালতে আবেদনের শুনানি হতে পারে না। তখন আদালত এ মামলার শুনানি করার জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য করেন। কিন্তু আজ এ আদালতের একজন বিচারপতি ছুটিতে থাকায় শুনানি হচ্ছে না।

গত ৭ জুলাই ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার মন্ত্রী ও এমপি পদ চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদনটি করেন অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ।

রিটে ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও জাতীয় সংসদের স্পিকারকে বিবাদী করা হয়।

৩০ জুন দুর্নীতি মামলায় খালাসের রায় বাতিল হওয়ার পর কোন কর্তৃত্ববলে এখনো মন্ত্রী-এমপি পদে বহাল রয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মায়া তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানতে চেয়ে মায়াকে একটি উকিল নোটিস পাঠিয়েছিলেন আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ। তার জবাব না পেয়ে তিনি হাইকোর্টে এ রিট আবেদনটি দায়ের করেন।

নোটিসে বলা হয়, সংবিধানের ৬৬ এর ২ (ঘ) দফা অনুসারে কোনো মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী পদে থাকতে পারেন না। সংবিধানের ওই অনুচ্ছেদে বলা হয়, সংসদে নির্বাচিত হওয়ার যোগ্যতা ও অযোগ্যতার বিষয়ে বলা হয়েছে, যদি কেউ নৈতিক স্খলনজনিত কোনো ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে অন্যূন দুই বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তার মুক্তিলাভের পর পাঁচ বছরকাল অতিবাহিত না হয়ে থাকে, তবে তিনি সংসদ সদস্য থাকার যোগ্য হবেন না।

১৪ জুন একটি দুর্নীতি মামলায় মায়া খালাস করে হাই কোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে নতুন করে আপিল শুনানির আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

আপিল বিভাগের ওই রায়ের পরে মায়ার পদে থাকা নিয়ে দুরকম বক্তব্য আসে। জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, মন্ত্রী পদে মায়া থাকবেন কি না তা নির্ধারণ করবে হাই কোর্ট। অপরদিকে মায়ার আইনজীবী আবদুল বাসেত মজুমদারের দাবি, যেহেতু আপিল বিচারাধীন, সেহেতু মন্ত্রিত্ব ও সংসদ সদস্য পদ নিয়ে ৬৬ (২) (ঘ) অনুচ্ছেদটি এক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

তবে দুর্নীতি দমন কমিশনের আইনজীবী খুরশীদ আলম মায়ার সংসদ সদস্য পদ ধরে রাখা এখন উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন।