December 6, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

‘টাউটদের অত্যাচারে হাইকোর্টেও বিচার কঠিন হয়ে গেছে’

আদালত প্রতিবেদক : নিম্ন আদালতগুলোর মতো দেশের সর্বোচ্চ আদালতেও টাউটদের অত্যাচারে বিচার কাজ পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে বলে প্রধান বিচারপতির সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সুপ্রিমকোর্টের সিনিয়র আইনজীবী এবিএম নুরুল ইসলাম।

হাইকোটস্থ ল রিপোর্টারস ফোরামে আয়োজিত মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এসব কথা বলেন।

উচ্চ আদালতের মামলা জট কমানো প্রসঙ্গে নুরুল ইসলাম বলেন, হাইকোর্ট বিভাগে বিগত ১০-১৫ বছর ধরে বস্তাবন্দি হয়ে কয়েক লক্ষ মামলা বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। শুনানির অপেক্ষায় থাকা এই মামলাগুলোর কারণে একদিকে আইনজীবী অন্যদিকে মক্কেলগণ বিভিন্নভাবে হয়রানি ও ক্ষতিগ্রস্তের শিকার হচ্ছেন। বহু মামলা আছে, সেসব মামলার বাদীগণের ভাগ্য হয়নি মামলার শুনানি দেখে যাওয়া বা তার ফলাফল জেনে যাওয়া।

তিনি বলেন, এসব মামলার শুনানির বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করে তাকে একটি পৃথক বেঞ্চ গঠন করতে বলেছি। তিনি (প্রধান বিচারপতি)এসব মামলা বিভিন্ন বেঞ্চে জমা দিতে বলেছেন। কিন্তু প্রতিটি বেঞ্চ ওভারলোড থাকায় কোনো বেঞ্চই এসব মামলা নিচ্ছে না।

৫৪ বছরের ওকালতি জীবনের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার অভিজ্ঞতার আলোকে আমি বলতে চাই, মামলার নিষ্পত্তি বিলম্বিত হওয়ার অন্যতম কারণ প্রচলিত আইন সমূহ। এসব আইনের জটিলতা মারপ্যাচ ও অপ্রয়োজনীয়তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ ইচ্ছা করলেই দূর করতে পারেন। প্রচলিত আইনের পাশাপাশি মামলার দীর্ঘসূত্রতার জন্য আইনজীবীগণ, বিচারকগণ এবং বিচারকগণের অধীনস্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দায়ী বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, মামলার শুনানির পর প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণা করা হলেও মাসের পর মাস উক্ত রায় স্বাক্ষর না হওয়ায় কোনো পক্ষই এ মামলায় অগ্রসর হতে পারেনা। আমি মনে করি প্রধান বিচারপতি এই বিষয়ে প্রকাশ্য আদালতে রায় ঘোষণার ১৫ দিনের মধ্যে উক্ত রায় স্বাক্ষর করে সংশ্লিষ্ট শাখায় পেরণের নির্দেশনা দিয়ে বিচার ব্যবস্থাকে আরও ত্বরান্বিত করতে পারেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- অ্যাডভোকট মহিউদ্দিন মহিম, অ্যাডভোকেট সেলিনা বারি, অ্যাডভোকেট গিয়াস উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ।