October 24, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

১১ আগস্ট সিরাজ ‘কসাই’ সহ তিনজনের রায়

আদালত প্রতিবেদক : একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বাগেরহাটের রাজাকার কমান্ডার সিরাজ মাস্টার ও তার দুই সহযোগী খান আকরাম হোসেন ও লতিফ তালুকদারের বিরুদ্ধে থাকা মামলার রায় ১১ আগস্ট ঘোষণা করা হবে। ওই তিনজনের বিরুদ্ধে হত্যা-গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন এবং শতাধিক বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ রয়েছে।

আজ বুধবার চেয়ারম্যান বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ তালিকায় রাখেন।

তবে এই তিনজনের মধ্যে গত ২৮ জুলাই আবদুল লতিফ তালুকদারের (৭৫) ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

গত বছরের ৫ নভেম্বর রাজাকার কমান্ডার ‘বাগেরহাটের কসাই’ বলে কুখ্যাত সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টার এবং তার দুই সহযোগী আব্দুল লতিফ তালুকদার ও খান আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে মোট সাতটি মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযোগ গঠন করা হয়। এর মধ্যে সিরাজ মাস্টারের বিরুদ্ধে পাঁচটি এবং আব্দুল লতিফ ও খান আকরামের বিরুদ্ধে ৩টি করে অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বাগেরহাটের শাঁখারিকাঠি বাজার, রণজিতপুর, ডাকরা ও কান্দাপাড়া গণহত্যাসহ ৮ শতাধিক মানুষকে হত্যা-গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন এবং শতাধিক বাড়ি-ঘরে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ।

গত বছরের ২ ডিসেম্বর থেকে গত ২৪ মার্চ পর্যন্ত এই তিন আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) হেলাল উদ্দিনসহ ৩২ জন সাক্ষী।

২০১৪ সালের ২৫ আগস্ট এ তিনজনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশন বরাবর দাখিল করে তদন্ত সংস্থা।এদের বিরুদ্ধে ৯টি খণ্ডে মোট ৮৪৪ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয়েছে। তদন্তের ভিত্তিতে গত ১৪ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর সাইয়্যেদুল হক আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর দিনই এ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১।

আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক শেষে মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ থেকে অব্যাহতির আবেদন করেন। পরে তারা সাংবাদিকদের বলেন, আসামিদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে। আমরা আদালতের সামনে সাক্ষ্য প্রমাণ তুলে ধরেছি। আশা করছি আমাদের আসামিরা তিনজনই তাদের অভিযোগ থেকে মুক্তি পাবেন।

এদিকে প্রসিকিউটর সাইয়্যেদুল হক আসামিদের বর্বরতা তুলে ধরে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধকালে যে অন্যায় অত্যাচার হত্যাকাণ্ড তারা ঘটিয়েছে তার শাস্তি একমাত্র মৃত্যুদণ্ড।