September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

গরু পাচারে কড়াকড়ি বাংলাদেশের জন্য বড় সুযোগ!

কোলকাতা প্রতিনিধি : বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে গরু পাচার রোধে সম্প্রতি বিএসএফ যে কড়াকড়ি শুরু করেছে, তাতে পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদ। দিল্লিতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর বৈঠকে যোগ দিতে এসে বিজিবি প্রধান বৃহস্পতিবার বলেন, ‘আমি এটাকে একটা দারুণ সুযোগ হিসেবেই দেখতে চাই, যেন মাংস উৎপাদনে বাংলাদেশ একদিন পুরোপুরি স্বনির্ভর হয়ে উঠতে পারে।’

এর আগে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর ডিজিদের মধ্যে বৈঠকের পর আজ বৃহস্পতিবার ভারতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, সীমান্তে গরু পাচারের ঘটনা গত এক বছরের মধ্যে প্রায় আশি শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।

বিএসএফের প্রধান দেবেন্দ্র কুমার পাঠক জানান, ‘গত বছরও যেখানে অন্তত কুড়ি লাখ গরু পাচারের ঘটনা ঘটেছিল, এ বছরের জুনেই সেটা চার লাখে নেমে এসেছে। বিজিবির সঙ্গে যৌথ টহলদারি, পাচারের রুটগুলো চিহ্নিত করা, রাতে সমন্বিত পাহারা, এই সব নানা পদক্ষেপের ফলেই পাচারের ঘটনা এতটা কমেছে।’

বস্তুত সীমান্তে এই কড়াকড়ির ফলেই বাংলাদেশের বাজারে গরুর মাংসের দাম ভীষণ বেড়ে গেছে বলে তারা মনে করছেন।

এটা ঠিকই, ঢাকার বাজারে গত বছরেও যে গরুর মাংসের কেজি ছিল মাত্র তিন শ সোয়া তিন শ টাকা, এখন সেটা প্রায় সাড়ে চার শ-পাঁচ শ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। মাত্র এক বছরের মধ্যে গরুর মাংসের দাম তিরিশ থেকে চল্লিশ শতাংশ বাড়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে মধ্যবিত্তের হেঁশেলে।

এমনকি, বাংলাদেশের মাংস ব্যবসায়ীদের সমিতি ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্প্রতি ‘বিএসএফের অমানবিক আচরণে’র বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে মানববন্ধনও করেছেন। সোজা কথায় তাদের দাবি ছিল, ভারত থেকে যেন গরু আনা যায়, সে জন্য সীমান্তে বিএসএফকে শিথিলতা দেখাতে হবে।

কিন্তু বিজিবির মহাপরিচালক এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন, এই প্রশ্নে তারা পুরোপুরি বিএসএফের সঙ্গেই আছেন।

এমনকি গরু পাচার ঠেকানোর জন্য যে সব যৌথ টহলদারি চলছে, রাতে বিশেষ পাহারার ব্যবস্থার করা হচ্ছে কিংবা পাচারের পরিচিত রুটগুলোকে টার্গেট করা হচ্ছে, তাতেও বিজিবির সদস্যরা সোৎসাহে যোগ দিচ্ছেন।

মেজর জেনারেল আজিজ আহমেদের কথায়, ‘বাংলাদেশকে তো একদিন চাল ও অন্য বহু জিনিস আমদানি করতে হতো। কিন্তু এখন আমরা চাল উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ, নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে রফতানিও করছি। ফলে মাংসের ক্ষেত্রেও একই জিনিস না-হওয়ার কোনও কারণ নেই।’

তিনি যুক্তি দিচ্ছেন, সীমান্তে গরু-পাচারে কড়াকড়ি শুরু হওয়ার ফলে বাংলাদেশের খামারিদের জন্য একটা দারুণ সুযোগের সম্ভাবনা খুলে গেছে। তারা যদি এর সদ্ব্যবহার করতে পারেন, তাহলে বাংলাদেশকে মাংসের জন্য অন্য কোনও দেশের ওপর নির্ভর করতে হবে না।

সেই লক্ষ্য অর্জনের জন্য বাংলাদেশ সরকার খামারিদের উৎসাহ দেবে বলেও বিজিবি-প্রধান এদিন মন্তব্য করেন।

ভারতে গত বছরের মে মাসে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই বাংলাদেশ সীমান্তে গরু পাচার রুখতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে আসছে।

সীমান্ত এলাকায় দৃশ্যমানতা বাড়িয়ে যেন পাচারকারীদের তৎপরতা রোখা যায়, সে জন্য সেখানে পাটচাষ বন্ধ রাখতেও সরকারকে সুপারিশ করেছে বিএসএফ।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন মহলও বিএসএফকে নির্দেশ দিচ্ছেন, যেকোনও মূল্যে সীমান্তে গরু পাচার ঠেকাতে হবে।

দিল্লির বৈঠকে বিজিবিও তাদের সেই কাজে সম্পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে। বিএসএফের জন্য বড় ভরসা সেখানেই।