September 17, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মৃত্যু বার্ষিকী আজ

ডেস্ক প্রতিবেদন : ‘মৃত্যু দিয়ে যে প্রাণের মূল্য দিতে হয়/সে প্রাণ অমৃতলোকে/মৃত্যুকে করে জয়।’ সৃষ্টিই যে এই নশ্বর জীবনকে অবিনশ্বরতা দেয়, সে কথা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন বলেই এমন উচ্চারণ ছিল কবির। বৃহস্পতিবার ২২ শ্রাবণ সেই কবির, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ৭৪তম মহাপ্রয়ান দিবস।

আজ থেকে ৭৪ বছর আগে বাংলা ১৩৪৮ সনের ২২ শ্রাবণ (খ্রিস্ট্রিয় ১৯৪১ সালের ৬ আগস্ট) কলকাতার জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়িতে রবীন্দ্রনাথ পরলোকগমন করেন।

রবীন্দ্রনাথের হাত ধরেই বাংলা সাহিত্য নতুন রূপ লাভ করে। বাংলা গদ্যের আধুনিকায়নের পথিকৃৎ রবিঠাকুর ছোটগল্পেরও জনক। গল্পে, উপন্যাসে, কবিতায়, প্রবন্ধে, নতুন নতুন সুরে ও বিচিত্র গানের বাণীতে, অসাধারণ সব দার্শনিক চিন্তাসমৃদ্ধ প্রবন্ধে, সমাজ ও রাষ্ট্রনীতিসংলগ্ন গভীর জীবনবাদী চিন্তাজাগানিয়া নিবন্ধে, এমনকি চিত্রকলায়ও রবীন্দ্রনাথ চিরনবীন-চির অমর।

তার দর্শন ছিল মানুষের মুক্তির দর্শন। এই কবি ছিলেন বিশ্বমানবতায় বিশ্বাসী। জীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সেই দর্শন অন্বেষণ করেছেন। তার কবিতা, গান ও সাহিত্যের অন্যান্য শাখার লেখনী মানুষকে আজও সেই অন্বেষণের পথে, উপলব্ধির পথে আকর্ষণ করে। রবীন্দ্রনাথ আজও আমাদের মনমানসিকতা গঠনের, চেতনার উন্মেষের প্রধান অবলম্বন।

আমাদের জাতীয় সঙ্গীতের পাশাপাশি ‘বাংলাদেশ’ নামের বানানটিও আমরা রবীন্দ্রনাথের কাছ থেকেই পেয়েছি। বাঙালি তথা বাংলাদেশীদের যাপিত জীবনাচরণের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের কবিতা ও গান অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। এখনও প্রতি বছর রমনা বটমূলে রবীন্দ্রনাথের গানে গানে পহেলা বৈশাখ উদযাপন আমাদের জাতীয় জীবনের অন্যতম অনুষঙ্গ। আমাদের জীবনের এমন কোনো বিষয় নেই, যেখানে আমরা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে পাই না। তার রচনাবলী আমাদের অনুপ্রেরণার উৎস। বাংলা সাহিত্যকে তিনি বিশ্বের দরবারে বিশেষ মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করেছেন।

‘গীতাঞ্জলি’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে তিনি প্রথম এশীয় হিসেবে ১৯১৩ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তিনিই একমাত্র কবি, যিনি তিনটি দেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা (বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলংকা)। জীবনের শেষ পর্যায়ে চিত্রশিল্পী হিসেবেও খ্যাতি অর্জন করেন তিনি। ৮০ বছরের জীবন সাধনায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার জন্ম এবং মৃত্যুকে রাঙিয়ে দিয়ে গিয়েছেন শাশ্বত সুন্দরের অমর বার্তায়। বাঙালির চেতনার রঙ স্পষ্ট হয়েছে রবিঠাকুরের আলোয়। তিনি মৃত্যুঞ্জয়ী।

বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবস উপলক্ষে আজ বাংলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হবে একক বক্তৃতা ও রবীন্দ্রসঙ্গীতের অনুষ্ঠান। ‘যুদ্ধ ও বিশ্বশান্তি প্রসঙ্গে রবীন্দ্রভাবনা’ শীর্ষক একক বক্তৃতা প্রদান করবেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. বেগম আকতার কামাল। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে থাকছে আবৃত্তি ও রবীন্দ্রসঙ্গীত পরিবেশনা। সন্ধ্যায় শিল্পকলা একাডেমির সঙ্গীত ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে হবে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন আজ নানা আয়োজনে রবিঠাকুরের ৭৪তম প্রয়াণ দিবস পালন করবে। এছাড়া বিটিভিসহ বিভিন্ন স্যাটেলাইট চ্যানেল ও বেতারেও সম্প্রচার করা হবে বিশ্বকবির প্রয়াণ দিবসের নানা অনুষ্ঠান। জাতীয় দৈনিকগুলো প্রকাশ করবে বিশেষ রচনা।