June 18, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদের ভাগ্য নির্ধারণ ২৩ আগস্ট

বিশেষ প্রতিনিধি : আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত নেতা ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর সংসদ সদস্য পদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে আগামী ২৩ আগস্ট, রবিবার। উভয় পক্ষের বক্তব্যের পর  নির্বাচন কমিশন (ইসি) তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বৃহস্পতিবার প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশন সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ বাতিলের বিষয়ে কমিশন আগামী ২৩ আগস্ট শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উভয়পক্ষের বক্তব্যের পর কমিশন তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

লতিফ সিদ্দিকীর এমপি পদ বাতিলে আওয়ামী লীগের পাঠানো বক্তব্য প্রসঙ্গ তুলে ইসির একাধিক ঊধ্বর্তন কর্মকাতা জানিয়েছেন, সংবিধান এবং গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ না থাকার সম্ভাবনা বেশি। কারণ হিসেবে তারা বলেন,  সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের লংঘন না হলেও দল থেকে বহিষ্কার হওয়ায় সংবিধানের ৬৬(২) (ছ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এ আইন ব্যতীত অন্য কোনও আইনে অর্থাৎ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ (আরপিও)’র ১২(১) ও খ অনুযায়ী তিনি এমপি হওয়ার বা থাকার যোগ্য নন।

তবে এর আগে অষ্টম জাতীয় সংসদ থেকে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আবু হেনা ও নবম জাতীয় সংসদে জাতীয় পার্টি থেকে বহিষ্কার হন এইচ এম গোলাম রেজা। তবে তারা দুজনই স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হিসেবে নিয়মিত অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন। এ প্রসঙ্গে ইসি-আইন বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘তখন এ দু’জনের সংসদ সদস্য পদ বাতিলের বিষয়ে ইসিতে চিঠি না পাঠিয়ে স্পিকারের দপ্তর থেকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এজন্য তাদের পদ বহাল ছিল। তবে লতিফ সিদ্দিকীর বিষয়ে দল তাকে বহিষ্কার করে স্পিকার তা আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করেছেন। পরে স্পিকার সিদ্ধান্তের জন্য ইসিকে দিয়েছেন। এ সবের প্রেক্ষাপটে তার এমপি পদ না থাকার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে সপ্তম সংসদে বিএনপি সংসদ সদস্য মো. আখতারুজ্জামেনর সংসদ সদস্য পদও একই পদ্ধতিতে বাতিল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

এদিকে, লতিফ সিদ্দিক বিতর্ক নিষ্পত্তির বিষয়ে স্পিকারের অনুরোধ পাওয়ার পর ইসি ইতোমধ্যে দুই পক্ষের লিখিত বক্তব্য নিয়েছে। ইসির সচিব বরাবর গত ২ আগস্ট রবিবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ ও গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে (আরপিও), ১৯৭২ এর ১২(১) ধারা এবং জাতীয় সংসদের কার্য-প্রণালী বিধির ১৭৮ বিধি উল্লেখ করে বলা হয়, যেহেতু তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, তাই তার এমপি পদে থাকার আইনগত অধিকার নেই।

এদিকে, লতিফ সিদ্দিকী বলেছেন, আওয়ামী লীগ থেকে সদস্য পদ বাতিল করার এখতিয়ার দলের কেন্দ্রীয় সংসদের নেই। আওয়ামী লীগের সদস্য পদ থেকে আমাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তটি ভুল ব্যাখার ওপরে ভিত্তি করে দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিতর্ক নিষ্পত্তি সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে এক অনুষ্ঠানে লতিফ সিদ্দিকী হজ, তাবলিগ জামায়াতসহ অন্যান্য বিষয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেন। এরপর প্রথমে তাকে মন্ত্রিসভা এবং পরে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় তাকে। ওই সময়ে দেশের বিভিন্ন আদালতে তার নামে একাধিক মামলাও হয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ভারত হয়ে ওই বছরের ২৩ নভেম্বর পরোয়ানা মাথায় নিয়ে দেশে ফেরেন সাবেক এই মন্ত্রী। এর দুদিনের মাথায় ২৫ নভেম্বর ধানমণ্ডি থানায় আত্মসমর্পণ করলে তাকে জেলহাজতে পাঠান আদালত। গত ২৯ জুন জামিনে মুক্তি পান তিনি।