September 19, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

‍"স্বাধীনতার বিপক্ষের মানুষগুলো অনেক সংগঠিত, আমাদের ভেতরেই ঢুকে আছে"

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে মুক্তিযুদ্ধ-বিরোধী শক্তিগুলোর কর্মকাণ্ডে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সানাউল হক। তিনি বলেন, স্বাধীনতার বিপক্ষের মানুষগুলো অনেক সংগঠিত। তারা এত শক্তিশালী যে আমাদের ভেতরে ঢুকে আছে। ফলে আমাদের অনেক বাধার মুখে পড়তে হয়।তাই সব দেখে মনে হয় যেন সর্ষের ভেতরে ভূত আছে। শুক্রবার বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১ আয়োজিত ‘যুদ্ধাপরাধীর বিচার ও মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

একজন মুক্তিযোদ্ধা তার সন্তানকে নিজের আদর্শে গড়ে তুলতে পারেননি বলে সানাউল হক দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ‘নোয়াখালীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শিবিরের সন্ত্রাসী! শুধু তাই নয়, ওই মুক্তিযোদ্ধা আবার কমান্ডার নির্বাচিত হয়েছে? তাহলে আমরা কোথাই আছি?’

জামায়াতের অপরাধের প্রসঙ্গ টেনে সানাউল হক আরও বলেন, ‘জামায়াত যে অপরাধীর সংগঠন তার যথেষ্ট তথ্য ও প্রমাণ আমাদের হাতে আছে। তাই এখনই সময় জামায়াতের অপরাধের বিচার করার।’

একই আলোচনা সভায় ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম মাওলানা ফরিদউদ্দীন মাসউদ বলেন, ‘যখন কোনও অপরাধীর অপরাধ প্রমাণিত হয় এবং তার শাস্তি যদি না দেওয়া হয়, তখন তা ইসলামের চোখে আরও বড় অপরাধ।তাই ইসলামে অপরাধী ও অপরাধ অনেক বড় অপরাধ।’

মানবতাবিরোধী অপরাধী কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের কবরে শহীদ লেখার প্রসঙ্গে  ফরিদউদ্দীন মাসউদ বলেন, ‘এটা একটা সাধারণ বিষয়, ‍একজন অপরাধী, ধর্ষণকারী, লুণ্ঠনকারী ও রাজাকার কে কেন শহীদ বলা হবে? এটা আসলে সচেতনতার ব্যাপার।তাই আমাদের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।’

এ সময় বক্তারা বলেন, ‘কোনও যুদ্ধাপরাধীর লাশ যেন বাংলার মাটিতে দাফন করা না হয়।কারণ যেই মাটিতে লাখো শহীদ শুয়ে আছে, সেখানে মানবতাবিরোধীর লাশকে কোনও অবস্থাতেই দাফন করা যাবে না।’  তারা বলেন, সেসব মানবতাবিরোধী অপরাধীকে বাংলার মাটিতে কবর দেওয়া হয়েছে, তাদের লাশও তুলে অন্যত্র সরিয়ে নিতে হবে। না হলে তাদের অনুসারীরা একজন অপরাধীর কবরকে  মাজারে পরিণত করবে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

এ সময় ব্লগার নিলয় নীলের নৃশংসভাবে হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তারা।

সংগঠনের চেয়ারম্যান মে. জে. (অব.) কে এম সফিউল্লাহ্-র সভাপতিত্বে গোলটেবিল বৈঠকে আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সেনা প্রধান লে. জে. (অব.) এম হারুন-অর-রশিদ বীর প্রতীক, প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত, দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের সম্পাদক নঈম নিজাম, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানাদাশগুপ্ত প্রমুখ।