September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

নীলয়ের মামলারও তদন্ত করতে চায় এফবিআই

নিজস্ব প্রতিবেদক : অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নীলাদ্রী চ্যাটার্জি ওরফে নীলয় নীল হত্যাকাণ্ড তদন্তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয়  গোয়েন্দা সংস্থা (এফবিআই)। শনিবার দুপুরে এফবিআই থেকে ডিএমপিতে ফোন করে তদন্তে সহযোগিতা করার এই আগ্রহের কথা জানায় সংস্থাটি।  এফবিআই টিম রোববার সকাল ১১টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কার্যালয়ে আসার কথা রয়েছে।  ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মুনতাসিরুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মুনতাসিরুল জানান, এফবিআই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তদন্ত করতে চেয়ে প্রাথমিকভাবে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এখনও আনুষ্ঠানিক কোনও যোগাযোগ হয়নি। তিনি বলেন, ‘তারা কী ধরনের সহযোগিতা করতে চায়, তা শিগগিরই জানার জন্য ডিএমপি থেকে যোগাযোগ করা হবে।’

শুক্রবার দুপুরে অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট নীলয় নীলকে তার পূর্ব গোড়ানের ভাড়া বাসায় নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে উগ্রবাদী একটি গোষ্ঠী। হত্যাকাণ্ডের পর গণমাধ্যমে ‘প্রেস বিজ্ঞপ্তি’ পাঠিয়ে ‘আনসার আল ইসলাম’ হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করেন।

নিহত হওয়ার আগে থানায় জিডি করতে গিয়েও পুলিশের অনাগ্রহে তা হয়নি বলে অভিযোগ ছিল নীলয়ের। বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ডিএমপি। শনিবার দুপুরে মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) তারেক বিন রশিদকে প্রধান করে এ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, সহকারী কমিশনার (এসি) মো. নুর আলম ও কাজী ফরিদ হোসেন।

মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আনোয়ার হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ব্লগার নিলয় নীল নিহত হওয়ার আগে জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় জিডি করতে গিয়ে সেটি না হওয়ার বিষয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন। সে বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে। তবে নিলয় তার ফেসবুকে কোন থানায় গিয়েছিলেন সেটি উল্লেখ করেননি।

আনোয়ার হোসেন জানান, নিলয় কোন থানায় গিয়েছিলেন, কেন জিডি নেওয়া হয়নি, সে বিষয়গুলো তদন্ত করতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। জিডি না নেওয়ার ঘটনায় যদি কোনও পুলিশ সদস্যের গাফিলতি পাওয়া যায়, তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবার রাত ১২ টার দিকে খিলগাঁও থানায় নিহতের স্ত্রী নীলয়ের আশা মনি বাদি হয়ে একটি হত্যামামলা দায়ের করেছেন।মামলাটি খিলগাঁও থানা পুলিশ তদন্ত করছে। এছাড়া অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই মামলার ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন আলামত সংগ্রহ করে তারাও তদন্ত শুরু করেছে।

ডিসি মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘এফবিআই’কে এর আগেও লেখক অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের মামলা তদন্তে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সহযোগিতা করেছে। এবারও তারা তদন্ত করতে চাইলে অথবা সহযোগিতার আগ্রহ দেখালে তা গ্রহণ করা হবে।’

প্রসঙ্গত গত ২৬ ফেব্রুয়ারিতে বই মেলায় এসে খুন হন লেখক ও মুক্তমান ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায়। এ সময় গুরুতর আহত হন তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা। হত্যাকাণ্ডের পর পেরিয়ে গেছে পাঁচ মাসের বেশি সময়। হত্যাকাণ্ডের তদন্তের জন্য ডিবির কাছ থেকে আলামত সংগ্রহ করে এফবিআই। ওই আলামত  ও কিছু কারিগরি পরীক্ষার ফলাফল এখনো দিতে পারেনি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। এরমধ্যেই নীলয় হত্যাকাণ্ডের আলামত নিতে চাচ্ছে তারা।