September 28, 2021

দৈনিক প্রথম কথা

বাংলাদেশের জাতীয় দৈনিক

ব্লগারদের ‘সীমালঙ্ঘন’ না করার অনুরোধ আইজিপির

নিজস্ব প্রতিবেদক : ব্লগে লেখার বিষয়ে ব্লগারদের ‘সীমালঙ্ঘন’ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক।

রোববার বিকেল ৫টার দিকে বাংলাদেশ পুলিশের সদর দফতরে ব্লগার ও শিশু হত্যা নিয়ে আয়োজিত সভায় তিনি এই অনুরোধ জানান।

তিনি বলেন, ‘মুক্তমনাদের প্রতি আমাদের যথেষ্ট শ্রদ্ধাবোধ আছে। কিন্তু আমাদের একটি বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে, দেশের প্রচলিত আইনে কারও ধর্মীয় অনুভুতিতে আঘাত দেওয়া অপরাধ। আমি যদি এমন কিছু লিখি যা অন্যের ধর্ম ও বিশ্বাসে আঘাত করে তাহলে তা অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইন ও আইসিটি অ্যাক্টে এর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যায়। কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করুন। আমরা সহযোগিতা করব, যাতে তাদের বিচার হয়। এর সর্বোচ্চ সাজা ১৪ বছর। আমি অনুরোধ করব আপনারা এমন লেখা কেউ লিখবেন না।’

সম্প্রতি সংঘটিত চাঞ্চল্যকর শিশু ও ব্লগার হত্যা মামলাগুলোর তদন্ত দ্রুত শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল এ কে এম শহীদুল হক।

সভায় ব্লগার নিলয়সহ অন্যান্য ব্লগার হত্যাকাণ্ডের অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা করা হয়। আইজিপি ব্লগার এবং মুক্তমনা লেখকদের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ এবং তাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিটকে নির্দেশ প্রদান করেন। তিনি ব্লগারদের সম্পর্কে ইন্টেলিজেন্স সংগ্রহের ক্ষেত্রে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমন্বয় আরও বাড়িয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় সিলেটের সামিউল আলম রাজন, খুলনার রাকিব, বরগুনার রবিউল ইসলাম, চাঁদপুরের সুমাইয়া আক্তারসহ চাঞ্চল্যকর শিশু হত্যা মামলা এবং ঢাকার সুখী বেগমের চোখ উৎপাটন মামলা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে আসামি গ্রেফতার হয়েছে এবং আসামিদের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি গ্রহণসহ আনুষঙ্গিক কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে সামিউল হত্যা মামলার মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার প্রধান আসামি কামরুলকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। রাকিব হত্যা মামলার তদন্তে প্রকাশিত ৩ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। রবিউল ইসলাম হত্যা মামলার একমাত্র আসামিকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। সুমাইয়া হত্যা মামলারও দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুখী বেগমের চোখ উৎপাটন মামলার তিন আসামির মধ্যে এক জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। আইজিপি সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে মামলাগুলোর চার্জশিট দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

আইন নিজের হাতে তুলে না নিতেও সকলের প্রতি আহবান জানান আইজিপি। তিনি বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে দেশে বর্তমানে জঙ্গিবাদ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জঙ্গি কার্যক্রম যাতে আর মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে সে সম্পর্কে সজাগ ও সতর্ক থাকার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ প্রদান করেন।

সভায় এসবির অতিরিক্ত আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) মো. মোখলেসুর রহমান, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ, সিআইডির অতিরিক্ত আইজিপি শেখ হিমায়েত হোসেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিআইজি (অপারেশন) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন, ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) হেলাল উদ্দিন বদরীসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।